বটতলী রুস্তমহাট বাজারে অর্ধ-শিক্ষিত ডাক্তারদের দৌরাত্ম্য

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২৩ মে , ২০১৭ সময় ০৮:২৭ অপরাহ্ণ

ইমরান এমি, আনোয়ারা:
আনোয়ারা উজেলার বটতলী রুস্তমহাট বাজারে অষ্টম শ্রেণী পাশ ডাক্তারদের দৌরাত্মে অসহায় সাধারণ জনগণ। রোগীদের জিম্মি করে ডাক্তারের মত মহান পেশাকে করে তুলছে কলুষিত। ১০০ টাকা দিলেই চিকিৎসা না হলে নাই চিকিৎসা। জানা যায়, আনোয়ারা উপজেলার বটতলী ইউনিয়নের রুস্তমহাট বাজারে দিন দিন বাড়ছে ব্যাঙের ছাতার মত ডাক্তারদের চেম্বার। এরা কেউ এমবিবিএস বা কোন ডিগ্রীধারী ডাক্তার নয়। আবার অনেকে গ্রাম ডাক্তার হিসাবে প্রশিক্ষণ নিয়ে চিকিৎসা করছেন এমবিবিএসের মতো। তারা হল জাহাঙ্গীর আলম, শামসুল ইসলাম, ফকির আবদুল মাবুদ।
জাহাঙ্গীর আলম এসএসসি পাশ না করেও ভূয়া সার্টিফিকেট দিয়ে দীঘর্ দিন যাবত চিকিৎসা দিয়ে আসছে জাহাঙ্গীর আলম নামে এ পল্লী চিকিৎসক। পল্লী চিকিৎসক হলেও নামের আগে বড় কওে লিখা আছে ডাক্তার জাহাঙ্গীর আলম। অভিযোগ আছে, এসএসসি পাশ না করেও দিব্যি চালিয়ে যাচ্ছে ডাক্তারি। হাতের পাশে একটি বই থাকে তার, যা থেকে কোন রোগের কোন ওষুধ দিতে হয় তা দেখে দেখেই চলছে তার ডাক্তারি। পাশাপাশি বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানীর জন্য সপ্তাহের শনিবার ও মঙ্গলবার বরাদ্দ রয়েছে তার সাথে দেখা করার জন্য। এদের থেকে প্রতি মাসে মাসোহারা নিয়ে নাম সর্বস্ত্র কোম্পানীর ওষুধ দিচ্ছেন আগত সেবা প্রার্থীদের। এসএসসি পাশের সার্টিফিকেট আছে কিনা জানতে চাইলে কোন সুদুত্তর না দিয়ে চেম্বার বন্ধ কওে চলে যান বাড়িতে।
কামসুল ইসলাম একজন পল্লী চিকিৎসক হলেও বসেন একজন এমবিবিএস ডাক্তারের মতো ২/৩টি চেম্বারে। অভিযোগ আছে, এমবিবিএস ডাক্তার যে ইনজেকশন দিতে অনেকবার চিন্তা ভাবনা করে শামসুল ইসলাম এক নিমিশেই তা দিয়ে দেন রোগীদের। যার কারনে হিতে বিপরীত হচ্ছে অনেক রোগীর অবস্থা। বটতলী বাজারের গাউছিয়া ফার্মেসী ও বন্দর কমিউনিটি সেন্টারের আরেকটি দোকানে রোগী দেখে আসছেন তিনি। এছাড়াও প্রেসক্রিপশনে ওষুধের নাম ভূল লিখেন বলে জানিয়েছেন ভূক্তভোগীরা।
ফকির আবদুল মাবুদ পরিবারিকভাবে দৈন্য দশার কারণে লেখাপড়া করতে পারেনি। দিন মজুরি কওে দিন কাটিয়েছেন কিছুদিন আগেও, বর্তমানে সে একজন ধনাঢ্য ব্যাক্তি ও ইসলামিক সাধু। সর্বরোগের ডাক্তার হিসাবে ঝাড়া পোড়া দিয়ে হযরত শাহ মোহছেন আউলিয়া (রহ:) মাজাওে আসা অন্য জেলার সহজ সরল মানুষদের ধোকা দিয়ে আসছে সে। এলাকাবাসি অভিযোগ করে বলেন, এলাকার ক্ষমতাসিনদের ম্যানেজ করে মাবুদ দিব্যি চালিয়ে যাচ্ছে তার ভন্ডামি। কেউ এর বিরুদ্ধে কথা বলেনা। কারণ তার মান সম্মান বলতে কিছু নেই, যারা একবার গেছে তারা দ্বিতীয়বার আর যাবেনা বলেও জানান তারা। এব্যাপারে ফকির আব্দুল মাবুদ বলেন, আমি জণগণের সেবা করে আসছি, এখানে কোন ভন্ডামির কিছু নেই, মুরিদগণ খুশি হইয়া কিছ ুহাদিয়া দিয়ে যায় আর কি। আপনারা সাংবাদিকরা ও আসেন, দোয়া নিয়ে যান।