বছরে ২৫৩ কোটি টাকা মূল্যের ৫ হাজার ৮শ’ টন কাঁকড়া উৎপাদিত হচ্ছে১৪ উপজেলার

প্রকাশ:| বুধবার, ৫ জুন , ২০১৩ সময় ০৩:১৯ অপরাহ্ণ

Kakra

কয়েক দফা ভাইরাস ও আইলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চিংড়ি ঘের মালিকরা নিঃস্ব হয়ে পড়েন। তারা চিংড়ির বিকল্প হিসেবে নোনা পানিতে কাঁকড়া চাষ শুরু করেন। উপকূলবর্তী ১৪ উপজেলার ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে কাঁকড়ার চাষ হচ্ছে। এ অঞ্চলে বছরে ২৫৩ কোটি টাকা মূল্যের ৫ হাজার ৮শ’ টন কাঁকড়া উৎপাদিত হচ্ছে। উপকূলে উৎপাদিত কাঁকড়া চীন, জাপান, সৌদি আরবসহ ১৮টি দেশে বিমানযোগে রফতানি হচ্ছে। অথচ এ অঞ্চলে কাঁকড়ার পোনা উৎপাদনের কোনো হ্যাচারি নেই, পাশাপাশি তৃণমূলের চাষীদের ব্যাংক ঋণের সুবিধাও নেই। মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ, খুলনার উপ-পরিচালকের কার্যালয় এসব তথ্য সরবরাহে সহায়তা করেছে। সূত্র জানায়, এ অঞ্চলে ১৫ প্রজাতির কাঁকড়ার মধ্যে ১১ ধরনের নোনাপানিতে, ৪ ধরনের সাধু পানিতে উৎপাদিত হয়। চিংড়ি চাষের পাশাপাশি পৃথক ঘেরে কাঁকড়ার চাষ হচ্ছে। স্বল্প বিনিয়োগ হওয়ায় এ অঞ্চলে কাঁকড়া চাষের চাহিদা বেড়েছে। বাগেরহাট জেলা সদর, ফকিরহাট, কচুয়া, রামপাল, মংলা, মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা; খুলনা জেলার পাইকগাছা, কয়রা; সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা, কালীগঞ্জ, শ্যামনগর, আশাশুনি ও তালা উপজেলায় কাঁকড়া ফ্যাটেনিং (মোটাতাজাকরণ) চলছে। খুলনা জেলায় ৩ হাজার ৯৯৫টি ঘেরে বছরে ৩ হাজার ৬৩২ টন, সাতক্ষীরায় ৩০৭টি ঘেরে এক হাজার ৯৮৬ টন এবং বাগেরহাটে ৩৩৩টি ঘেরে ২৫০ টন কাঁকড়া উৎপাদিত হয়। উৎপাদিত কাঁকড়ার মূল্য ২৫৩ কোটি ৪৯ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো, খুলনার পরিচালক মনোরঞ্জন ম-ল জানান, চংড়িতে লোকসান হওয়ায় অনেক চাষী বিকল্প হিসেবে কাঁকড়া চাষ বেছে নিয়েছেন। চিংড়ি ঘেরের পাশেই খ- খ- জমিতে কাঁকড়া চাষ হচ্ছে। নিত্য খাবার দেয়ার প্রয়োজন হয় না। সে কারণেই কাঁকড়ার উৎপাদন খরচ কম। পাশাপাশি এ অঞ্চলের কাঁকড়ার চাহিদা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বৃদ্ধি পেয়েছে। তার দেয়া তথ্য মতে, চীন, হংকং, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান, ভিয়েতনাম, সুইজারল্যান্ড, ব্রিটেন, জার্মানি, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ইজিপ্ট ও যুক্তরাষ্ট্রে এ অঞ্চলের কাঁকড়া দেদার রফতানি হচ্ছে। সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে চীন, হংকং, জাপান, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান ও থাইল্যান্ডে ২৯ লাখ ৪৩ হাজার ৮০৯ ডলার মূল্যের কাঁকড়া রফতানি হয়েছে। গত অর্থবছরে এসব দেশে এক কোটি ৩৭ লাখ ৬৯ হজার ৮৩৪ ডলার এবং ২০১০-১১ অর্থবছরে এক কোটি ৩৫ লাখ ৩০ হাজার ৪০৯ ডলার মূল্যের কাঁকড়া রফতানি হয়। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান শুভাশীষ বসু খুলনায় এক সেমিনারে বলেন, ন্যাচারাল পণ্য রফতানির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের জন্য উপকূলীয় এলাকার লোনা পানিতে কাঁকড়া উৎপাদন বাড়াতে হবে। এজন্য আগামীতে কাঁকড়া চাষের নীতিমালা তৈরি করা ও ব্যাংকিং সুবিধা দেয়ার চেষ্টা করা হবে। তিনি বলেন, কাঁকড়া উৎপাদন করে চীন ও তাইওয়ান থেকে বড় ধরনের বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব হবে। বিমানযোগে প্রতিদিন গড়ে ১০ মেট্রিক টন কাঁকড়া চীনে রফতানি হচ্ছে। মংলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ লিয়াকত আলী জানান, উপজেলার চিলা, চাঁদপাই, বুড়িরডাঙ্গা, সুন্দরবন ইউনিয়নে ব্যাপক ভিত্তিতে এবং মিঠেখালী ও সোনাইতলা ইউনিয়নে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে কাঁকড়ার চাষ হচ্ছে। উপজেলার প্রায় দেড়শ’টি ঘেরে পৃথকভাবে শুধু কাঁকড়া মোটাতাজাকরণের প্রক্রিয়া চলছে।


আরোও সংবাদ