বঙ্গোপসাগরে বিজিপির গুলিতে ৬ বাংলাদেশি নিহত

প্রকাশ:| বুধবার, ১১ জুন , ২০১৪ সময় ০৯:৩৭ অপরাহ্ণ

অবৈধভাবে তিন শতাধিক যাত্রী নিয়ে মালয়েশিয়াগামী একটি ট্রলারে আজ বুধবার গুলিতে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। ২৩ জন গুলিবিদ্ধ হওয়াসহ আহত হয়েছেন অন্তত ৬১ জন। সেন্ট মার্টিনের অদূরে বঙ্গোপসাগরে এ ঘটনা ঘটে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘ট্রলারটিতে পাঁচজনের লাশ পাওয়া গেছে।’ সন্ধ্যা ছয়টার দিকে সেন্ট মার্টিন জেটিতে ওই ট্রলারটিকে নেওয়া হয়েছে। আহত যাত্রীদের সেন্ট মার্টিনে ১০ শয্যার হাসপাতালে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

কাদের গুলিতে এই পাঁচজন নিহত এবং অনেকে আহত হলেন? এমন প্রশ্নের জবাবে এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, মিয়ানমারের সরকারি কোনো বাহিনীর হাতে নয়; দালালদের পক্ষের সন্ত্রাসী বাহিনীর গুলিতে এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন যশোরের হরিরামপুর গ্রামের মো. রশিদের ছেলে মো. সেলিম (৩১) ও মো. মোকামের ছেলে মো. রুবেল (৩৫), বগুড়ার কাহালু এলাকার সাইফুল ইসলাম (৪০) ও সিরাজগঞ্জের মো. মনির (৩০)। অপর ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি কোস্ট গার্ড বাহিনী।

তিন শতাধিক যাত্রী নিয়ে ট্রলারটি আজ সকালে বিকল হয়ে পড়ে। ওই ট্রলারে থাকা নরসিংদীর বীরপুর এলাকার মিঠুন নামের এক ব্যক্তি প্রথম আলোর প্রতিবেদকের কাছে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফোন করেন। তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘ভাই, আমরা ৩০০ মানুষ সাগরে ভাসতেছি। আমাদের বাঁচান, ভাই। গুলি চালাইতেছে। গুলি আসতেছে। আমাদের চারজন মারা গেছে। বিমান বা হেলিকপ্টার দিয়ে আমাদের বাঁচান। নইলে আমরা আর ফিরতে পারব না।’

গুলি চালানোর ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে টেকনাফ কোস্ট গার্ডের স্টেশন কমান্ডার লে. কাজী হারুনুর রশীদ দুপুরে বলেন, বঙ্গোপসাগর দিয়ে মালয়েশিয়া যেতে হলে ট্রলারগুলোকে মিয়ানমারের জলসীমার কাছ দিয়ে যেতে হয়। ট্রলারটি যেহেতু বিকল হয়ে পড়েছে, তাই স্রোত যেদিকে টানবে, সেদিকেই সেটি ভাসবে। সে হিসেবে ট্রলারটি মিয়ানমার সীমান্তের দিকে যেতে পারে। সেদিকে গেলে তারা গুলি চালাতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমরা ট্রলারের একজনের কাছ থেকে জানতে পেরেছি তারা ট্রলারটিতে গুলি চালিয়েছে।’

কোস্ট গার্ডের এই কর্মকর্তা জানান, খবর পেয়ে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিকল ট্রলারটি উদ্ধার করতে যান। পৌনে তিনটার দিকে কোস্ট গার্ডের দল ভাসমান ট্রলারটির কাছে যায়। বিকল ট্রলারটিকে কোস্ট গার্ডের তিনটি ট্রলারের সঙ্গে বেঁধে সেন্ট মার্টিনে আনা হয় সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে।
সঙ্গে আরো কয়েকটি দেশি মাছধরা ট্রলার নিয়ে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে যাচ্ছে।ঘটনা সম্পর্কে তিনি বলেন, মালয়েশিয়াগামী ট্রলারে বিজিপির গুলিতে বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছে বলে আমরা খবর পেয়েছি।টেকনাফ কোষ্টগার্ডের ষ্টেশন কমান্ডার লে. হারুন-অর-রশিদ জানান, খবর পেয়ে তাদের একটি টীম সাগরে অভিযানে নেমেছে। তবে গুলিতে নিহতের বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন। তাদের রিপোর্ট পাওয়ার পর বিস্তারিত বলা যাবে।