বঙ্গবন্ধু ‘ঘোষক হলে’, আমি মুক্তিযুদ্ধের সমর্থক: সাকা

প্রকাশ:| সোমবার, ১ জুলাই , ২০১৩ সময় ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

১৯৬৯ সালে আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে দাবি করেন বিএনপিনেতা সালাউদ্দিন।

যুদ্ধাপরাধের অপরাধে বিচারাধীন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী মনে করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক ‘বিবেচনা করা হলে’ তিনিও [সালাউদ্দিন] মুক্তিযুদ্ধের সমর্থকের ‘স্বীকৃতি’ পেতে পারেন।
বঙ্গবন্ধু 'ঘোষক হলে', আমি মুক্তিযুদ্ধের সমর্থক: সাকা

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রোববার নিজের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্যে একথা বলেন সালাউদ্দিন। তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যদি স্বাধীনতার ঘোষক হন, তাহলে আমি মুক্তিযুদ্ধের একজন সমর্থক।”
তার এই দাবির যুক্তি হিসাবে সাকা বলেন, “কারণ ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্রলীগ বন্ধুদের সঙ্গে আমিও একাত্তরের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ শুনতে সেদিন রেসকোর্স ময়দানে গিয়েছিলাম। সেই সূত্রে দাবি করতেই পারি আমি একজন মুক্তিযুদ্ধের গোড়া সমর্থক।”
বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে ট্রাইব্যুনাল-১ রোববার দুপুর একটা পর্যন্ত সাফাই সাক্ষ্য দেন তিনি। শারীরিক অসুস্থতার কারণে দুপুরের পর সাক্ষ্যগ্রহণ বন্ধ রাখা হয়। সোমবারের মধ্যে সাফাই সাক্ষ্য শেষ করতে আসামিকে নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
১৯৬৯ সালে আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে দাবি করেন বিএনপিনেতা সালাউদ্দিন।
তিনি বলেন, একাত্তরের ৭ই মার্চ থেকে ২২ মার্চ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে তার বাবা ফজলুল কাদের চৌধুরীর একাধিক বৈঠক হয়।
আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে সাকা চৌধুরী বলেন, সে সময় তার ধানমণ্ডির বাসায় নিয়মিত যেতেন শেখ কামাল, তোফায়েল আহমেদ, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, সিরাজুল আলম খান, আবদুল কুদ্দুস মাখন, সালমান এফ রহমান, শাহজাহান সিরাজসহ আরো অনেকে।
সাফাই সাক্ষ্যের শুরুতে তিনি বলেন, “১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত আমি ঢাকায় বাস করতাম। যেহেতু ঢাকায় আমাদের কোনো ড্রাইভার ছিল না, সেকারণে আমরা পিতার বিভিন্ন জায়গায় যাওয়ার ক্ষেত্রে আমিই নিজেই গাড়ি ড্রাইভ করতাম।”
তিনি বলেন, “১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত আমি কখনই চট্টগ্রামে আমার পারিবারিক বাসভবন গুডস হিলে বসবাস করিনি। চট্টগ্রামের সঙ্গে আমার সামাজিক যোগাযোগের পুরোটাই ১৯৭৪ সালের পরের। ১৯৭৯ সালের আগে চট্টগ্রামের ভোটার তালিকায়ও আমার নাম ছিল না।”
সাক্ষ্যের এক পর্যায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেন, “আপনাকে তো জবানবন্দি শেষ করতে হবে। আপনি ইতিহাসের কথা বলছেন,তা শুনে আমাদের কী লাভ।
জবাবে সাকা চৌধুরী বলেন, “আমার বিরুদ্ধে তো ইতিহাসের কথাই বলা হয়েছে। পলাশী থেকে শুরু করা হয়েছে। দেড় বছর আমার বিরুদ্ধে বলা হয়েছে। অথচ আমাকে বলতে দেওয়া হচ্ছে না।”
তিনি ট্রাইব্যুনালকে বলেন, “আপনাদের সীমাবদ্ধতা আমি বুঝি।”
এর আগে সাকা চৌধুরী বলেন, “আমি এক ঘণ্টা সাক্ষ্য দিলেও তা রেকর্ড (কম্পিউটারে কম্পোজ) করতে অনেক বেশি সময় লাগছে।”
এ সময় ট্রাইব্যুনাল বলেন, “আপনি একজন বাঙালি হয়ে বাংলায় সাক্ষ্য দিলে এত সময় লাগত না। কেন ইংরেজিতে দিতে গেলেন?”
জবাবে সাকা চৌধুরী বলেন, “আমি বাংলায় সাক্ষ্য দিতে পারব না, ইংরেজিতেই দেব। কারণ,আমি বাঙালি না চাটগাঁইয়া। বাংলাদেশি তো বটেই।”
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সালাউদ্দিন ছাড়াও বিএনপি জিয়াউর রহমান আমলের নেতা আব্দুল আলীমের বিচার চলছে।
একই ধরনের অপরাধে  বিএনপির জোটসঙ্গী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর দুই শীর্ষনেতার মৃত্যুদণ্ড এবং আরো এক শীর্ষনেতার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।
জামায়াতেরই সাবেক এক নেতারও মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে যিনি পলাতক রয়েছেন।


আরোও সংবাদ