বঙ্গবন্ধু উপগ্রহ

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর , ২০১৪ সময় ১১:১৭ অপরাহ্ণ

নিজস্ব উপগ্রহ (স্যাটেলাইট) না থাকায় দেশের টেলিভিশন চ্যানেল ও রেডিও স্টেশনগুলো বিদেশি অপারেটরদের শরণাপন্ন হচ্ছে। তাদের কাছ থেকে ব্যান্ডউইথ ভাড়া করে সম্প্রচার কার্যক্রম চালাচ্ছে; শ্রোতা-দর্শকের চাহিদা মেটাচ্ছে। নিজস্ব স্যাটেলাইট না থাকায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষ অনেক চ্যানেল দেখতেই পায় না।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) তথ্য মতে, শুধু সম্প্রচারের জন্য বছরে প্রায় ১১০ কোটি টাকা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। নিজস্ব স্যাটেলাইট থাকলে টাকাগুলো দেশেই থাকত। প্রত্যন্ত অঞ্চলে দেশি-বিদেশি চ্যানেল দেখা সহজ হতো। কিন্তু বারবার সরকারের সিদ্ধান্ত বদল, অর্থ সংকট, স্বার্থ হাসিলের চিন্তা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে এখনো ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ প্রকল্প’ আলোর মুখ দেখেনি।

অবশেষে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে বহু আলোচিত বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ প্রকল্প। আজ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হচ্ছে। সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্ব করার কথা রয়েছে।

সূত্র জানায়, গত মাসে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এত বছর হয়ে গেল, এখনো প্রকল্পটি অনুমোদন পেল না! কিছু কিছু ক্ষেত্রে সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে হয়। দ্রুত প্রকল্পটি অনুমোদনের ব্যবস্থা করতে মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন তিনি। তাঁর নির্দেশের পর এক মাসের মধ্যে প্রকল্পটির অনুমোদনের প্রক্রিয়া শেষ করল ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়।

বিটিআরসি সূত্র জানায়, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে দুই হাজার ৯৬৭ কোটি টাকা। সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে এক হাজার ৩১৫ কোটি টাকা। বাকি এক হাজার ৬৫২ কোটি টাকা যে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজ পাবে, তারা সরবরাহ করবে। চলতি বছর কাজ শুরু করে ২০১৭ সালের জুন নাগাদ প্রকল্প শেষ হবে। গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর এবং রাঙামাটি জেলার বেতবুনিয়ায় এর গ্রাউন্ড লোকেশন হবে। আর স্পেস লোকেশন ১১৯.১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে জিওস্টেশনারি অরবিটে হবে। লোকেশন পেতে আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন্স ইউনিয়নের (আইটিইউ) মাধ্যমে রাশিয়ান প্রতিষ্ঠান ইন্তারস্পুৎনিকের মালিকানাধীন ১১৯.১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ অরবিটাল স্লট লিজ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিটিআরসি।