‘বঙ্গবন্ধুই স্বাধীনতার ঘোষক, প্রথম রাষ্ট্রপতি এবং বৈধ প্রধানমন্ত্রী’

প্রকাশ:| সোমবার, ২৮ এপ্রিল , ২০১৪ সময় ০৮:৫৯ অপরাহ্ণ

‘বঙ্গবন্ধুই স্বাধীনতার ঘোষক, প্রথম রাষ্ট্রপতি এবং বৈধ প্রধানমন্ত্রী’স্বাধীনতার ঘোষণা, বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি এবং বঙ্গবন্ধুর প্রধানমন্ত্রীত্ব নিয়ে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য চট্টগ্রামে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠক থেকে প্রত্যাখান করেছেন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধারা। তারা বঙ্গবন্ধুই স্বাধীনতার ঘোষক, প্রথম রাষ্ট্রপতি এবং বৈধ প্রধানমন্ত্রী বলে সুনির্দিষ্ট যুক্তিপ্রমাণসহ ঘোষণা দিয়েছেন।

চট্টগ্রাম চেম্বার মিলনায়তনে আয়োজিত ওই গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধের সময় চবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী একুশে পদকপ্রাপ্ত বুদ্ধিজীবী ড.অনুপম সেন। বৈঠকে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণাসহ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী ৬১ জন মুক্তিযোদ্ধা অংশ নেন।

বৈঠক থেকে তারেক রহমানের বক্তব্যের বিপরীতে সুস্পষ্ট ব্যাখা দিয়ে ‘চট্টগ্রাম ঘোষণা’ প্রণয়ণ করা হয়।

চট্টগ্রাম ঘোষণায় স্বাধীনতার ঘোষণা সম্পর্কে বলা হয়, বাংলাদেশের মানুষ ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক রেসকোর্স ভাষণের পর থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন মুক্তিযুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে তারা রাস্তাঘাট বন্ধ করে দিয়ে ট্রেনিং সেন্টার খুলে প্রশিক্ষণ নিয়ে অস্ত্রের গুদাম লুট করে অস্ত্র সংগ্রহ করে সশস্ত্র যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয় এবং ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার নির্দেশ দিলে বাঙালির নিরস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রাম সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে পুর্নবাসিত হয়। একাত্তরের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঘোষণায় বাঙালির চোখের সামনে স্বাধীনতা দিবালোকের ন্যায় উদ্ভাসিত হয়ে উঠে। কোন জাতি একদিনে গড়ে উঠেনা। ২৭ মার্চ জিয়াউর রহমানের সীমিত ক্ষমতার একটি ট্রান্সমিটার থেকে ঘোষণার মাধ্যমে বাঙালি জাতির জন্ম হয়ে গেল-এ হাস্যকর কুযুক্তিতে তারেক রহমান জাতির মন ভোলাতে চাইলেও হাজার বছরের প্রাচীন আস্তাকুঁড়েই তার ঠাঁই হবে।

বঙ্গবন্ধু প্রথম রাষ্ট্রপতি-সম্পর্কে চট্টগ্রাম ঘোষণায় বলা হয়েছে, স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে জিয়াউর রহমান দু’টি ঘোষণা দিয়েছিলেন। একটিতে তিনি নিজেকে ‘হেড অব দ্যা স্টেট’ বা রাষ্ট্রপ্রধান ঘোষণা দিলে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এরপর আওয়ামী লীগ নেতাদের হস্তক্ষেপে তিনি সেটা সংশোধন করে আরেকটি ঘোষণা পাঠ করেন। সেখানে তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের নেতৃত্বে মুক্তিসংগ্রাম চালিয়ে যাবার কথা বলেন।

বঙ্গবন্ধু বৈধ প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করে চট্টগ্রাম ঘোষণায় বলা হয়, বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান কারাগারের বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি এবং ১২ জানুয়ারি তিনি প্রধানমন্ত্রী হন। বঙ্গবন্ধু বৈধভাবে সাংবিধানিক উপায়ে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি আবু সাঈদ চৌধুরী, ড.কামাল হোসেন এবং ব্যরিস্টার আমিরুল ইসলাম সাময়িক সংবিধানের খসড়া তৈরি করেছিলেন। এর আওতায় ১২ জানুয়ারি সকালে রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান প্রথমে সায়েমকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করেন। তার মাধ্যমেই প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বঙ্গবন্ধু শপথ নেন এবং সঙ্গে সঙ্গে পদত্যাগ করেন। তখন মন্ত্রিসভা রাষ্ট্রপতির শূন্যপদে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে নিয়োগ করেন। সায়েম দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি হিসেবে আবু সাঈদ চৌধুরীকে শপথ গ্রহণ করান। এরপর তাজউদ্দিন আহমদসহ মন্ত্রীপরিষদের সব সদস্য পদত্যাগ করেন। এ পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধুরী সাময়িক আদেশের ৭ নম্বর ধারাবলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করেন।

চট্টগ্রাম ঘোষণায় স্বাক্ষর করেন, ড.অনুপম সেন, ৭০’ সালে নির্বাচিত সাংসদ মির্জা আবু মনসুর, ডা.মাহফুজুর রহমান, ফাহিম উদ্দিন, মোহাম্মদ হারিছ, নূরুল আলম মন্টু, কাজী সিরাজ, আ হ হ নাসির উদ্দিন, রাজেন্দ্র প্রসাদ চৌধুরী, রাখাল চন্দ্র বণিক, সাংবাদিক আ ক ম রইসুল হক বাহার, সাংবাদিক নাসিরুদ্দিন চৌধুরী, মোহাম্মদ ইউনুছ, অমল মিত্র, মো. অহিদুল হক, মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, সাংবাদিক পংকজ কুমার, দস্তিদার, সাংস্কৃতিক সংগঠক দেওয়ান মাকসুদ আহমেদ, সৈয়দ মোহাম্মদ এমরান, ইঞ্জিনিয়ার ইসকান্দর আলম চৌধুরী, মো.ওয়ালী উল্লাহ বেনু, এসএম আবদুল নুর, মো. হারুন উর রশীদ, কিরণ লাল আচার্য্য, সৌরেন্দ্র নাথ সেন, ফেরদৌস হাফিজ খান রুমু, মো.আবু তাহের, মাহাবুবুল আলম, মুহাম্মদ আবুল কাশেম, মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, মো. সাইফুল করিম (ছোটন), মো. আবদুল কাদের, হাজী এজাহার মিঞা, মৃনাল ভট্টাচার্য্য, শিল্পী সুজিত রায়, মোহাম্মদ হোসেন, জামাল উদ্দিন, মোহাম্মদ ইমাম, মো. ইউসুফ আলী, বেলায়েত হোসেন চৌধুরী, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, রেহান উদ্দিন আহমদ, এ কে এম জয়নাল আবেদিন, ইঞ্জিনিয়ার ইসকান্দর আলম চৌধুরী, মো.ফারুক, নৌ কমান্ডো মো.হোসেন, সৈয়দ আহমদ, সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান, ভারত চন্দ্র বড়ুয়া (দলপতি), মো. শহীদ উল্লাহ পাটওয়ারী, এম জামিল আক্তার, সৈয়দ আবদুল গণি, জাহেদ আহমদ, এ এস এম ইউসুফ চৌধুরী, কমান্ডো মো.আনোয়ার মিয়া, আবদুল মন্নান, মো. রফিক চৌধুরী, মো. আবুল বাশার, মো. মনসুরুর রহমান, রেজাউল করিম চৌধুরী (কুসুম), এ এফ এফ ফারুক, কাজী গোলাম সরওয়ার (মজনু), মনসুর আহমদ শফি।

এছাড়া গোলটেবিল বৈঠকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য ড.ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহাবুবুল আলম উপস্থিত ছিলেন।