বইয়ের আড়ং ১০ জুন শুরু হয়ে চলবে ১৫ জুন পর্যন্ত

প্রকাশ:| সোমবার, ৯ জুন , ২০১৪ সময় ১১:৩৭ অপরাহ্ণ

বইয়ের আড়ং ১০ জুন শুরু হয়ে চলবে ১৫ জুন পর্যন্তসৃজনশীল ও গবেষণাধর্মী বই তৃণমূল পর্যন্ত ছড়িয়ে দিতে বাংলা একাডেমির আয়োজনে হচ্ছে ছয় দিনব্যাপী বইয়ের আড়ং। মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে নগরীর মুসলিম ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে শুরু হবে। বইয়ের আড়ং উদ্বোধন করবেন বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. অনুপম সেন।

বইয়ের আড়ং ১০ জুন শুরু হয়ে চলবে ১৫ জুন পর্যন্ত। আড়ংয়ে ৩০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্য ছাড়ে বই কিনতে পারবে পাঠকরা।

বইয়ের আড়ং উপলক্ষে সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে বাংলা একাডেমি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন কবি আবুল মোমেন, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি রাশেদ রউফ ও সাধারণ সম্পাদক মহসিন চৌধুরী।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ও বিশিষ্ট লোকবিজ্ঞানী শামসুজ্জামান খান বলেন, ২০১৩ সালের নতুন আইনে বাংলা একাডেমির শ্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে- কেন্দ্রে গবেষণা, তৃণমূলে বিস্তার এবং বর্হিবিশ্বে প্রচার ও প্রসার। এর আলোকে বইকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে প্রাথমিক পর্যায়ে বিভাগীয় শহরগুলোতে বইয়ের আড়ংয়ের আয়োজন করা হচ্ছে। ঢাকায় বসে বসে সেমিনার করলে কোন কাজে আসবে না। তৃণমূলে বুদ্ধি বৃত্তিক চেতনার স্তর কোন পর্যায়ে তা নিয়ে গবেষণা করতে হবে।

শামসুজ্জামান খান বলেন, ঢাকায় বইয়ের আড়ংয়ের আয়োজন করা হয়। আমরা চিন্তা করেছি শুধু একটি নগরীর মানুষ এ সুযোগ পাবে তা হবে না। আমরা নতুন আইনের আলোকে প্রতিটি বিভাগীয় শহরে আড়ংয়ের আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বইয়ের আড়ংয়ে পাঠকরা ৩০ থেকে সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ে বই কিনতে পারবে। ১৮’শ টাকার বই ৬’শ টাকায় কিনতে পারবে। এখানে জীবনী গ্রন্থ যেমন পাওয়া যাবে। বিশ্ব সাহিত্যের প্রধান প্রধান ক্লাসিক্যালগুলোরও অনুবাদ গ্রন্থ পাওয়া যাবে। এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমির নামে ছাপানো নকল বই সম্পর্কে পাঠকদের সচেতন হওয়ার আহবান জানান।
চট্টগ্রামের বাংলা একাডেমির বিক্রয় কেন্দ্র খোলার দাবি প্রসঙ্গে শামসুজ্জামান খান বলেন, চট্টগ্রামে বাংলা একাডেমির বিক্রয় কেন্দ্র ছিল। কিন্তু বছরের পর বছর লোকসান গুনতে হওয়ায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আগামীতে শক্তিশালী এজেন্ট নিয়োগ করা হবে। ঢাকার পাঠকরা যত টাকা ছাড়ে বই পাবে চট্টগ্রামের পাঠকরাও এজেন্টদের কাছ থেকে তত টাকা ছাড়ে বই কিনতে পারবে।

কবি আবুল মোমেন বলেন, বাংলা একাডেমি আমাদের মননের প্রতীক। বাঙালীর ২১ দফার একটি ছিল বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠা। বাংলা একাডেমির কাছে আমরা অনেক কারণে ঋণী। সাহিত্যের আকর গ্রন্থগুলো শুধুমাত্র বাংলা একাডেমি প্রকাশ করেছে। বই প্রকাশে বাজেট বাড়ানোর দাবি জানিয়ে সৃজনশীল বই প্রকাশে বাংলা একাডেমিকে মনযোগী হওয়ার আহবান জানান তিনি।

আবুল মোমেন বলেন, চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী ও বন্দরনগরী এসব বলা হলেও চট্টগ্রাম সেভাবে বিকশিত হয়নি। বাংলাদেশে সবকিছু এক নগরী কেন্দ্রিক হয়ে গেছে। প্রকাশনা ও বিপণনেও পিছিয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রাম।

চট্টগ্রামে বইয়ের আড়ং আয়োজনের জন্য বাংলা একাডেমিকে ধন্যবাদ জানিয়ে আবুল মোমেন বলেন, এই আড়ংয়ের মাধ্যমে বিদ্যোৎসাহী সমাজ আগ্রহী হবে।
মঙ্গলবার সকাল ১০টায় একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি থাকবেন শহীদ জায়া বেগম মুশতারী শফী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী।

আড়ং উপলক্ষে তিন দিনের আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। প্রথম দিন ১০ জুন বিকেল চারটায় ‘চট্টগ্রামে সাহিত্য চর্চা’ শীর্ষক আলোচনায় সভাপতিত্ব করবেন কবি আবুল মোমেন। আলোচনায় অংশ নেবেন ড. মাহবুবুল হক, ড. মহীবুল আজিজ, অধ্যক্ষ আনোয়ারা আলম ও রাশেদ রউফ।
দ্বিতীয় দিন ১১ জুন বিকেল চারটায় ‘চট্টগ্রামের লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতি’ শীর্ষক আলোচনায় সভাপতিত্ব করবেন সাহিত্যিক ফাহমিদা আমিন। আলোচনায় অংশ নেবেন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কাসেম, ড. মনজুর উল আমিন চৌধুরী, মুহম্মদ ইসহাক চৌধুরী ও আহমদ মমতাজ। তৃতীয় দিন ১২ জুন বিকেল চারটায় ‘চট্টগ্রামে সাংবাদিকতার বিকাশ’ শীর্ষক আলোচনায় সভাপতিত্ব করবেন অরুণ দাশগুপ্ত। আলোচনায় অংশ নিবেন মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক নাসিরুদ্দিন চৌধুরী, কবি স্বপন দত্ত ও ওমর কায়সার।