বংশী নদীর তীর দখলের প্রতিযোগিতা চলছেই

প্রকাশ:| শুক্রবার, ২ মে , ২০১৪ সময় ০৯:২১ অপরাহ্ণ

বংশী নদীবংশী নদীর তীর দখলের প্রতিযোগিতা চলছেই। নদীতে মাটি ও ভাঙা ইট ফেলে ভরাটের পর নির্মাণ করা হচ্ছে পাকা ও আধা পাকা স্থাপনা। এসব স্থাপনা হাত বদলও করা হচ্ছে। তবু প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
কয়েক শ অবৈধ দখলদারের মধ্যে সাভার নামাবাজার এলাকার মাত্র ২৯ জনকে স্থাপনা ভেঙে ফেলতে উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয় থেকে গত ৫ ফেব্রুয়ারি নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে এক সপ্তাহের মধ্যে স্থাপনা সরিয়ে নিতে বলা হলেও কেউই তা করেননি। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ মামলার নথি তৈরি করে ২৪ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়। এরপর আর কাজ এগোয়নি। কিন্তু দখলের প্রতিযোগিতা চলছে আগের মতোই।
গত সোমবার সরেজমিনে গিয়ে সাভার নামাবাজার এলাকার ভুসিপট্টিসংলগ্ন নদী ও তীর ঘেঁষে অন্তত চার শতাংশ জায়গার ওপর পাকা ভবন তৈরির কাজ করতে দেখা যায়।
ভুসিপট্টি থেকে ১৫০ গজ দূরে নদী ও তীর দখল করে অন্তত আট শতাংশ জমির ওপর বিশাল আকারের আধা পাকা ভবন নির্মাণ করেছেন একই এলাকার মানিক মিয়া। ভবন তৈরির জন্য তিনি স্থানীয় প্রভাবশালীদের মোটা অঙ্কের অর্থ দিয়েছেন বলে স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
মানিক মিয়া বলেন ‘অন্যরা যেভাবে নদী ও তীর দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করছেন, আমিও সেভাবেই দখল করেছি।’
উত্তর নামাবাজারের ধানপট্টি এলাকায় নদী ও তীর দখল করে বিশাল স্থাপনা নির্মাণ করেছেন ধামরাইয়ের বোরাকই এলাকার দুলাল খান ও সাভারের ঘোড়াদিয়া এলাকার আশু মোল্লা। মাস দুয়েক আগে ওই স্থাপনা নির্মাণকাজ শুরুর সময় সাভার উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের তৎকালীন সার্ভেয়ার মোশারেফ হোসেন সরেজমিনে গিয়ে বাধা দেন। এর পরও তাঁরা নির্মাণকাজ বন্ধ না করে কাজ চালিয়ে যান।
দুলাল খান বলেন, ‘নির্মাণকাজে বাধা দেওয়ার পর বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করে ভবন নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করেছি। আর কোনো সমস্যা হয়নি।’ আশুলিয়ার নয়ারহাট এলাকায় বংশী নদীতে মাটি ফেলে ভরাট করে সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সড়কের পাশে নদী ঘেঁষে কয়েক শ দোকানঘর নির্মাণ করে তা ব্যবসায়ীদের কাছে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে ব্যবসায়ীদের কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, স্থানীয় প্রভাবশালীদের তিন থেকে চার লাখ টাকা দিয়ে তাঁরা এসব দোকান বন্দোবস্ত নিয়েছেন। এ জন্য তাঁদের কোনো দলিল দেওয়া হয়নি। অপর এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘মাস দুয়েক আগে এই মার্কেট ও রাস্তা উদ্বোধন করেছেন স্থানীয় সাংসদ এনামুর রহমান। তাই অবৈধ হলেও এসব স্থাপনা ভাঙার সাহস কারও নেই। এই বিশ্বাসেই টাকা দিয়েছি।’
অবৈধ স্থাপনা বিক্রির বিজ্ঞপ্তি: নামাবাজারে শ্যালো ঘাটে নদীর তীরে প্রায় দুই শতাংশ খাস জমির ওপর নির্মিত আধা পাকা একটি ঘর বিক্রির জন্য সাভার বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্রয় বিজ্ঞপ্তি টানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘ঘর বিক্রয় হইবে। যোগাযোগ: মো. আবদুল কাইয়ুম।’ এরপর দুটি মুঠোফোন নম্বর দেওয়া আছে।
ওই নম্বরে যোগাযোগ করা হলে পাথালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য ও বাজারের ব্যবসায়ী আবদুল কাইয়ুম বলেন, শ্যালো সমিতির জন্য কয়েক বছর আগে জমির পজেশন কিনে একটি ঘর নির্মাণ করা হয়েছিল। ওই ঘরটি বিক্রি করা হবে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য: অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও নতুন করে আরও স্থাপনা নির্মাণ করা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সাভারের সহকারী কমিশনার (ভূমি) লিয়াকত আলী বলেন, জেলা প্রশাসন থেকে উচ্ছেদের আদেশ পাওয়ার পরই ওই সব স্থাপনা ভেঙে ফেলা হবে। নোটিশ দেওয়ার পরও দখল-প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নতুন করে যাঁরা দখল করছেন, তাঁদের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে নতুন করে নোটিশ পাঠানো হবে।’