ফেসবুকে পরিচয়, প্রেম, অতঃপর অপহরণ

প্রকাশ:| সোমবার, ৫ অক্টোবর , ২০১৫ সময় ০৮:৪০ অপরাহ্ণ

কক্সবাজারের অরিণ নামের এক মেয়ের সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয় চট্টগ্রামের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা খোরশেদুল আলমের (৩২)। ফেসবুকে এবং মোবাইলে দীর্ঘদিন কথাবার্তা বলার পর সম্পর্ক গভীর হয়। একদিন অরিণ খোরশেদকে কক্সবাজার যাবার আমন্ত্রণ জানায়।  ২৯ সেপ্টেম্বর খোরশেদুল কক্সবাজার গিয়ে অপহরণের শিকার হয়।  অরিণই অপহরণের মূল হোতা।

নগর গোয়েন্দা পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করে রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে কক্সবাজার থেকে খোরশেদুলকে উদ্ধার করে এনেছে। এসময় অপহরণের সঙ্গে জড়িত দু’জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।  এরা হলেন- মামুন রশীদ (৪০) এবং মোস্তাক আহম্মদ (৫০)।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (বন্দর-পশ্চিম) এস এম তানভির আরাফাত  বলেন, ফেসবুকের মাধ্যমে প্রতারণা আর অপহরণের মত নতুন এক অপরাধ শুরু হয়েছে। ফেসবুকে পরিচয়ের পর বন্ধুত্ব কিংবা প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলা হয়।  এরপর কৌশলে নিজেদের জিম্মায় নিয়ে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা চলে।  কক্সবাজার কেন্দ্রিক একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের বেশকিছু তথ্য পেয়েছি।  দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।  বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) ডিবি কার্যালয়ে অপহরণের ঘটনার বর্ণনা দেন খোরশেদ।

তিনি জানান, ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে অরিণ ২৯ সেপ্টেম্বর তাকে কক্সবাজার যেতে বলে।  ওইদিন সন্ধ্যায় অরিণের কথামত তিনি কক্সবাজারে গিয়ে কলাতলীতে মিসকাত নামে একটি হোটেলে উঠেন।

রাতে অরিণ একটি সিএনজি অটোরিক্সা নিয়ে মিসকাত হোটেলের সামনে যায়।  বেড়াতে যাবার কথা বলে অরিণ খোরশেদকে অটোরিক্সায় তুলে।  প্রায় দুই কিলোমিটার যাবার পর রাস্তায় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা তিনজন লোক জোরপূর্বক অটোরিক্সায় উঠে যায়।  সেখানে উঠে খোরশেদের চোখ ও মুখ বেঁধে ফেলা হয়।

‘আমাকে একটি বদ্ধ রুমে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখে।  রাতে আমাকে একটি চৌকিতে রাখা হয়।  আমার ভাইয়ের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করে তারা পাঁচ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।  রাতে আমাকে মারধর করে চিৎকারের শব্দ আমার ভাইকে শোনানো হয়।  গভীর রাতে আমার মনে হয় কে যেন আমাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।  আমি চিৎকার দিয়ে উঠি।  এসময় তিনজন দৌঁড়ে এসে আমার মাথার পেছনে আঘাত করে,’ বললেন খোরশেদ।

তিনি জানান, পরদিন সকালে গিয়ে তাকে আবারও মারধর করে।  তিনদিনের মাথায় রাতে চোখ বেঁধে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

এ ঘটনায় বাকলিয়া থানায় মামলা দায়ের হয়েছে বলে জানান এডিসি তানভির।