ফুলের সাজ

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি , ২০১৮ সময় ০১:১৪ অপরাহ্ণ


মনের মতো একগুচ্ছ ফুল পেলে অনেকাংশে পূর্ণ হয়ে যায় সাজ। ফুলের অলঙ্কার এখন বেশ জনপ্রিয়। শুধু চুলেই নয়, হাতে, গলায়, কানে, কোমরে ধাতব অলঙ্কারের পরিবর্তে প্রকৃতির নানা রঙের সজীব ফুল পরলে সৌন্দর্য বেড়ে যায় বহুগুণ। লিখেছেন- মানসুরা সিদ্দিক
টিনএজার থেকে শুরু করে সব বয়সী মেয়েই নিজেকে সাজাতে বেছে নিতে পারেন স্নিগ্ধ সব ফুল। সিজনাল যে কোনো ফুলই চুল সাজাতে অনন্য। যে কোনো ধরনের পোশাকের সঙ্গেই মানিয়ে যায় ফুলের সাজ।
বাঙালি নারীর খোঁপায় যদি গুঁজে দেয়া যায় ফুল তবে আপনাআপনিই ফুটে ওঠে তার রূপের সৌন্দর্য। খোঁপাকে বাহারি ঢঙে সাজাতে চারপাশে জড়িয়ে নিতে পারেন ফুলের মালা। বেলি বা রজনীগন্ধার সাজ নিয়ে আসবে স্বস্তিমেশানো সৌরভ। পার্টিতে শাড়ির সঙ্গে স্নিগ্ধতা নিয়ে আসবে সুগন্ধিযুক্ত এ ফুলগুলো। চুলে সব সময় যে বেলি বা বকুল ফুলই দিতে হবে এমন নয়। অর্কিডসহ বিভিন্ন রঙিন ফুলে চমক নিয়ে আসতে পারেন চুলের সাজে। চাইলে বেণী করে কানের পাশে গুঁজে দিতে পারেন একগুচ্ছ রঙিন ফুল। সামনের চুল খানিকটা ফুলিয়ে পেছনে আটকে দিতে পারেন বাহারি সব ফুল। চাইলে পনিটেইল করেও ফুল দেয়া যায়। পার্টিতে যদি থাকে শতভাগ বাঙালিয়ানা তবে পুরো বেণীই ফুল দিয়ে সাজিয়ে নিতে পারেন। বেণীর শক্ত গাঁথুনিতে নির্দিষ্ট গ্যাপ দিয়ে দিয়ে ক্লিপের সাহায্যে আটকে নিন দৃষ্টিনন্দন তারার ফুল। অনেকে আবার বেণীতে ফুলের মালা জড়িয়ে চুলের সাজে ভিন্নতা নিয়ে আসেন। শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ তো আছেই, পাশাপাশি ফতুয়া বা টপসের সঙ্গেও দারুণ মানায় ফুল। বিভিন্ন রঙের গোলাপের পাশাপাশি জারবারা অর্কিড, পাটুনিয়া, চেরি, গ্লাডিওলাস ইত্যাদি বিদেশী ফুল দিয়েও সাজে নিয়ে আসতে পারেন বৈচিত্র্য। সাদা, গোলাপি, বেগুনি, লাল, কমলা রঙের ফুলগুলো পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে পরা যায়। পার্টি যদি হয় গায়ে হলুদের তবে তো কথাই নেই! তখন চুলের পাশাপাশি ফুলের গহনায় সাজানো চাই নিজেকেও। আগে নারীরা যেমন খোঁপার এক পাশে একটি বা দুটি ফুল গুঁজে দিত এখন সেই স্টাইল অনেকটাই পাল্টে গেছে। ফুলের গহনা ও ফুল লাগানোর ধরনে এসেছে অনেক পরিবর্তন। খুব ছিমছাম গহনা পরে মাথায় একটি বড় ফুলের রিং পরার প্রচলনটাই বেশি এখন। গত কয়েক বছর ধরে এ প্রচলনটা বেশি দেখা যাচ্ছে। তরুণীরা শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ কিংবা ফতুয়ার সঙ্গে মাথায় এই ফুলের রিংগুলো পরতে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে। সব ধরনের সাজের সঙ্গেই মানিয়ে যায় এই ফুলের রিং। ইদানীং বেণীর মাঝে একটি একটি করে ছোট ফুল গুঁজে দেয়ার চল এসেছে। তাজা ফুলের পাশাপাশি কৃত্রিম ফুলও চলছে সমান তালে। আবার খোলা চুলের এক পাশে ক্লিপ আটকে তার ওপর ফুল গুঁজে দিতে পারেন। কানের পাশ দিয়ে হালকাভাবে গুঁজে দিতে পারেন কয়েকটি ফুল। ফুল বড় হলে একটি, ছোট হলে তিন-চারটি। চাইলে সামনের দিকের কিছুটা চুল ব্যাঙ্গস করে নিতে পারেন। চুলের পেছনে আটকে দিতে পারেন পছন্দের ফুলটি। দুই পাশ থেকে চুল পেঁচিয়ে এনেও পুরো চুল খোলা রাখতে পারেন। আলগা খোঁপাও সুন্দর দেখায়। আঁটসাঁট করে খোঁপা বাঁধলেও মন্দ দেখায় না। একটি বড় ফুল খোঁপা ও কানের মধ্যে আটকে নিলেও সুন্দর দেখাবে। বেণীতে চুল জড়িয়ে নেয়া যায়। অন্যভাবেও ফুল আটকে ভিন্ন লুক আনা যায়। সামনে দুই পাশ থেকে চুল টুইস্ট করে টেনে পেছনে নিয়ে আটকে নিন ক্লিপ দিয়ে। এবার সাধারণভাবে বেণী করে মাঝে-মধ্যে ফুল আটকে নিতে পারেন। সামনের টুইস্ট করা অংশেও ছোট ফুল আটকে নিতে পারেন। বাঙালি নারীর পরিপূর্ণ সৌন্দর্য ফুটে ওঠে ফুলের সঙ্গেই। শুভ্র শিউলি, বকুল বা বেলি ফুলের সুরভিত সৌন্দর্য আপনাকে দিয়ে যাবে নির্মল অনুভূতি। পাশাপাশি গোলাপ, চাঁপা, পলাশ, টগর, রঙ্গন, জবা ফুলের আবেদনও অস্বীকার করার উপায় নেই। সারা দিনের সাজে ফুলের ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। কিছু ফুল আছে স্বল্পস্থায়ী। সেগুলো দিনের বেলায় না পরে রাতের সাজে পরতে পারেন। বেলি, রজনীগন্ধা, পাশাপাশি নাইটকুইন, সন্ধ্যামালতি, হাসনাহেনা ফুলগুলো নিশ্চিন্তে পরতে পারেন রাতে।


আরোও সংবাদ