ফুলের টব বসানো ছাড়া দৃশ্যমান উন্নয়ন নেই: মহিউদ্দিন

প্রকাশ:| শনিবার, ১৪ মে , ২০১৬ সময় ১১:৪৮ অপরাহ্ণ

মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এবি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, ‘চট্টগ্রাম মহানগরীতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সেবা খাতসহ অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে। নগরীতে নির্দিষ্ট দু’একটি ওয়ার্ডে রাস্তার পাশে ও আইল্যান্ডে ফুলের টব বসানো ও গার্ডেনে বাতি জ্বালানো ছাড়া দৃশ্যমান কোন উন্নয়ন চোখে পড়ে না।’

তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর, রেলওয়েসহ অনেক সরকারি-আধা সরকারি সংস্থার কাছে শত শত কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হলে নগরবাসীর কাছ থেকে হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানোর প্রয়োজন পড়ে না এবং সিটি করপোরেশনের সেবা খাতের মানোন্নয়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের জোয়ার বইবে। তাই জনদুর্ভোগ নিরসন এবং নাগরিক সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত না করে নগরবাসীর উপর কর আরোপ জনকল্যাণমুখী সরকারের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।’

শনিবার বিকেলে চশমাহিলস্থ নিজ বাসভবনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (ইনু) চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা নেতাদের সাথে এক সৌজন্য স্বাক্ষাতে তিনি এসব কথা বলেন।

মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘চট্টগ্রামে স্বার্থের কথা বললেই অনেক মন্ত্রী, সাংসদ ও মহারথীরা বাঁকা চোখে দেখেন এবং বিব্রতবোধ করেন। কারণ তাঁরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হবার পর জনগণের কাছ থেকে দূরে সরে যান। তাদের একমাত্র ব্রত পদ ও ক্ষমতাকে আকড়ে ধরা।’

বর্ষিয়াণ এ রাজনীতিবিদ চট্টগ্রামের স্বার্থরক্ষা ও উন্নয়ণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতার প্রশংসা করে বলেন, ‘স্থানীয় নেতৃত্ব চট্টগ্রামের স্বার্থ ও সঠিক উন্নয়ণের পরিকল্পনা এবং চট্টগ্রামবাসীর অগ্রাধিকার ভিত্তিক চাওয়া-পাওয়া তাঁর কাছে তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে। এই ব্যর্থতা দুর্ভাগ্যজনক।’

‘চট্টগ্রাম বন্দরের প্রাণ কর্ণফুলী নদী মরণপ্রায়। পিলার সেতুর কারণে কর্ণফুলী নদীর বুক এখন ধূ-ধূ বালুচর। অথচ কর্ণফুলীর অপরিকল্পিত ড্রেজিংয়ের নামে একটি চক্র কয়েক’শ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে গেছে’– বলেন সাবেক এ মেয়র।

মহিউদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তাহীনতা ও জীর্ণ দশার চিত্র তুলে ধরে বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ভেঙ্গে বহিরাগতরা অবাধে যাতায়তা করছে। তারা এখানে লুট-পাট করছেন। বন্দরের শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ নেই, পানি ও টয়লেট নেই, লেবার শেড নেই। এখানে সংস্কার ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন নেই। অথচ বন্দর তহবিল থেকে বিপুল অর্থ বাইরে চলে যাচ্ছে এবং এভাবে বন্দরকে তহবিল শূণ্য করা হচ্ছে।’

এসময় জাসদ (ইনু) চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জ উ বাবুল, বেলায়েত হোসেন, আবুল কাসেম, আমিনুর রসুল, অভিক ওসমান, তপন চৌধুরী, আহমদ সরিফ, সেমিল চৌধুরী, সাইফুল আকতার, মঈনুল আলম খান, তাজুল ইসলাম, হারুনুর রশিদ, সাইদুর রহমান আরমান, কবিয়াল পনি বড়–য়া, নৃপতি বড়–য়া, মোঃ আবুল কালাম, আরিরুল ইসলাম, সহিদুল ইসলাম রিপন, মো. ইসমাইল, ইলিয়াছ ফয়েজি, মো.সেলিম প্রমুখ।


আরোও সংবাদ