ফুলছড়ি রেঞ্জ কানে দিয়েছে তুলা, পিঠে দিয়েছে কুলা!

প্রকাশ:| সোমবার, ৩ অক্টোবর , ২০১৬ সময় ১১:০১ অপরাহ্ণ

%e0%a6%95%e0%a6%bf-%e0%a6%ac%e0%a6%a8

সেলিম উদ্দিন, ঈদগাঁও প্রতিনিধি, কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের ফুলছড়ি রেঞ্জের সর্বত্র বনবিভাগের জায়গা দখল করে দালান, বাড়ীঘর নির্মাণের প্রতিযোগিতা চলছে। স্থানীয় প্রভাবশালীরা প্রকাশ্যে বনভুমির জায়গায় দালানসহ মার্কেট নির্মাণ করে গেলেও বন বিভাগের রহস্যজনক ভূমিকা নিয়ে সচেতন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, ফুলছড়ি রেঞ্জের খুটাখালী বনবিট এলাকার সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে ঘেরা বেড়া দিয়ে পাকা দালান ঘর নির্মাণ করেছে সেগুন বাগিচা এলাকার জয়নাল। এখানে বনবিটের দীর্ঘদিনের নার্সারী বাগানের জায়গা দখলে নেওয়ার প্রতিযোগীতায় নেমেছে স্থানীয় জয়নাল, ছৈয়দ, ও নুরুল আলম নামের অনেকে এখন মিলেমিশে জায়গা বিক্রি করছে শতক প্রতি লাখ টাকা দামে। খুটাখালী বনবিটের অধীনে সংরক্ষিত বিশাল বনাঞ্চল সংঘবদ্ধ ভূমিদস্যুরা জবরদখল করে নিয়েছে। লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে প্লট আকারে বিভিন্ন জনকে উক্ত বনভূমি বিক্রি করে যাচ্ছে প্রভাবশালী চত্রু। বন বিভাগের সরকারি জায়গায় শত শত অবৈধ স্থাপনা তৈরি সচেতন মহলকে ভাবিয়ে তুললেও সংশ্লিষ্ট বনবিভাগের মনোভাব দেখে মনে হয় কানে দিয়েছে তুলা, পিঠে দিয়েছে কুলা!
অভিযোগ উঠেছে, সরকার মহৎ উদ্দেশ্যে সামাজিক বনায়নের আওতায় বাগান সৃজন করে উপকারভোগী নির্বাচন করে ৬৩ নং খুটাখালী মৌজার ৩০ হেক্টর সংরক্ষিত বনভূমি বরাদ্দ দিয়েছেন। কিন্তু বনভূমি দখলবাজ-সন্ত্রাসীদের তৎপরতার মুখে সামাজিক বনায়নের মতো বৃহৎ প্রকল্প ভেস্তে যেতে চলেছে। একইভাবে ফুলছড়ি রেঞ্জের অধীনস্থ খুটাখালীর তানজুককাটা এলাকার পাহাড়ে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে সরকারি পাহাড়ের জমি বিক্রি হচ্ছে খুবই চড়া দামে আর এসব জমি বিক্রি করার জন্য নিয়মিত কাগজপত্র নিয়ে বসে আছে অনেকে। এখানে শতক প্রতি ১ লাখ টাকার কাছাকাছি দামে পাহাড়ের জমি বিক্রি হচ্ছে। আর কেনা বেচাকারী খোদ স্থানিয় প্রভাবশালীসহ সংঘবদ্ধ কাঠচোর অসাধু বনকর্মীরা । এছাড়া স্থানিয় কিছু প্রভাবশালী লোক রাজনৈতিক পশ্রয়ে সরকারের এসব মূল্যবান পাহাড়ের জমি বিক্রি করছে।
খুটাখালী বিটের নার্সারী বাগানের জায়গা নামক স্থানে স্থানীয় জয়নাল সরকারী বনবিভাগের জায়গায় বিশাল পাকা বাড়ীঘর নির্মাণ করছে। সে স্থানীয় প্রভাব দেখিয়ে বনবিভাগের জায়গা জবরদখল করে দালান নির্মাণ করে গেলেও কেউ প্রতিবাদ করছেনা।
স্থানীয় সচেতন জনগণ জানান, ফুলছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তাকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে প্রকাশ্যে সরকারি জায়গার উপর অবৈধ স্থাপনা বা দালান নির্মাণ করেছেন তিনি। শুধু জয়নাল নয়, খুটাখালী বিটের প্রায় সর্বত্র বনবিভাগের জায়গা দখল করে নির্মাণ করা হচ্ছে স্থায়ী স্থাপনা।
বনবিভাগের জায়গায় দালান নির্মাণের ব্যাপারে জানতে চাইলে খুটাখালী বিট কর্মকর্তা আবদু রজ্জাক জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন। জয়নালকে দালান নির্মাণ বন্ধ রাখার জন্য বলা হয়েছে। কিন্ত রাতের আধারে সে দালান নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানতে পেরেছি। তার বিরুদ্ধে বন আইনে মামলাসহ দালানটি উচ্ছেদের প্রত্রিুয়া চলছে।
ফুলছড়ি সহকারী বন সংরক্ষক মোঃ ইউছুপ জানান, সরকারি বনভূমি জবরদখল ও অবৈধ স্থাপনা তৈরি যত বড় ক্ষমতাধর ব্যক্তি হোক না কেন উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে তা গুড়িয়ে দেওয়া হবে।


আরোও সংবাদ