ফুলছড়িতে পাহাড় কেটে সাবাড়: বিট কর্মকর্তা ক্লোজড

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ৯ জানুয়ারি , ২০১৮ সময় ১১:০৫ অপরাহ্ণ

সেলিম উদ্দিন, ঈদগাঁও, কক্সবাজার প্রতিনিধি, বন বিভাগের সংরক্ষিত বনে একাধিক ডাম্পার লাগিয়ে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রির সেই স্পটে অবশেষে অভিযান চালিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। তবে অভিযানে পাহাড় কাটায় জড়িত কাউকে পাওয়া যায়নি। একই সাথে গত শুক্রবার সেই স্পটে ঘটনা তদন্তে যান কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের সহকারি বন সংরক্ষক বেলায়েত হোসেন। অপরদিকে দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে ফুলছড়ি বনবিট কর্মকর্তা হাবিবুর রহমানকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বন অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক মো. জগলুল হোসেন।
তিনি বলেন, বন ও পাহাড় ধ্বংসে যারা জড়িত তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। এমনকি বন ও পাহাড় রক্ষার দায়িত্বে অবহেলা করলে বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতিমধ্যেই ওই এলাকার বিট কর্মকর্তাকে ক্লোজড করা হয়েছে। বিট কর্মকর্তার ছত্রছায়ায় এভাবে পাহাড় কেটে সাবাড় করা হয়েছে বলে অভিযোগও রয়েছে স্থানীয়ভাবে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা সেখানে ছুটে যান।
জানতে চাইলে কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের সহকারি বন সংরক্ষক বেলায়েত হোসেন বলেন, ঘটনা তদন্তে আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। এখনও পাহাড় কাটার ঘটনাটির তদন্ত চলছে। এছাড়া পাহাড় কাটার ঘটনায় ইতিপূর্বে ৩ টি মামলা দেয়া হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সাইফুল আশ্রাব বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে আমরা কিছু নমুনা সংগ্রহ করেছি। সেখানে ভয়াবহ আকারে পাহাড় কাটার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে অভিযানের খবর পেয়ে জড়িতরা আগেই পালিয়ে গেছে। আমরা সেখানে গোপনে ও প্রকাশ্যে তদন্ত করে পাহাড় কাটায় জড়িত বেশ কয়েকজনের নাম পেয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সূত্র জানায়, কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের চকরিয়া উপজেলার ইউনিয়নের ফুলছড়ি রেঞ্জে’র ফুলছড়ি বন বিটের আওতায় থাকা পূর্ব নয়া পাড়া এলাকায় সংরক্ষিত বনে পাহাড় কাটা চলছে দীর্ঘদিন ধরে। ওই এলাকার ৭/৮ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র একাধিক ডাম্পার দিয়ে পাহাড়ের মাটি বিক্রির সাথে জড়িত।
কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হক মাহবুব মোর্শেদ বলেন, ইতিমধ্যেই বিট কর্মকর্তাকে ক্লোজড করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে এসিএফকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। আর কোন কর্মকর্তা জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।