ফুলকপি দুই-তিন টাকায় বিক্রি হচ্ছে

প্রকাশ:| শনিবার, ১০ জানুয়ারি , ২০১৫ সময় ১১:৩১ অপরাহ্ণ

যশোরের বারীনগরে প্রায় তিন একর জায়গায় মৌসুমি সব্জি উৎপাদন করেন ওয়াহিদুজ্জামান মিলন। বছরের এই সময়টায়, অর্থাৎ শীতের সময়ে তার বিক্রি গত কয়েক বছর ধরেই বেশ ভালো।

এবারো ভালোই চলছিল।

কিন্তু গত কয়েকদিনের অবরোধে যেমন স্থানীয় বাজারে সব্জি বিক্রি করতে পারছেন না, তেমনি ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতেও নিজের উৎপাদিত পন্য পাঠাতে পারছেন না পরিবহনের বেড়ে যাওয়া ভাড়ার কারণে।

মিলন বলছেন, এই ক্ষতি একজন কৃষকের জন্য অপূরণীয়।

“ট্রাকের ভাড়া দ্বিগুণ তিনগুণ হয়ে গেছে। ডে’র গাড়ীতে চল্লিশ হাজার টাকা লাগলে নাইটে ষাট হাজার টাকা লাগছে কয়েকদিন ধরে। এছাড়া সব্জি এখানে বাজারে তুলতে পারছি না, আবার পাঠাতেও পারছিনা।”

“এই মৌসুমে ফুলকপি দশ বা পনের টাকা কেজি বিক্রি করা যায়, সেখানে এখন দুই কি তিন টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। আর বেগুন এখন পাঁচ টাকায় বিক্রি করছি, যেটা এই সময়ে অন্তত পনের বা বিশ টাকায় বিক্রি করা যায়।”
মি. মিলন বলছেন, তার এলাকার অন্যান্য ছোট কৃষকদের অবস্থা আরো খারাপ। কারণ, তাদের অনেকেই কয়েকজন মিলে একটি ট্রাক ভাড়া করে সব্জি পাঠাত ঢাকা ও অন্যান্য বিভাগীয় শহরগুলোতে। কিন্তু ট্রাকের ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় তা কুলিয়ে উঠতে পারছেন না তারা।

গত পাঁচদিন ধরে চলা অবরোধে মূলত সংকটে পড়েছে দেশের যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থা। অবরোধে ঢাকার মধ্যে যানবাহন চলাচল প্রায় স্বাভাবিক হয়ে এলেও, নিরাপত্তার কারণে গত কয়েকদিন ধরে পরিবহন মালিকরা মহাসড়কে গাড়ি চালানো বন্ধ রেখেছিলেন। তবে আজ থেকে সীমিত পরিসরে হলেও শুরু হয়েছে দূর পাল্লার যান চলাচল।

কিন্তু মালিকেরা অভিযোগ করছেন, অনেক ক্ষেত্রেই সরকার দূর পাল্লায় গাড়ি চালানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করছে। এর আগে শুক্রবার বিকেলে বাস মালিকদের সঙ্গে বৈঠকে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান অবরোধে কোনো বাস ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার ক্ষতিপূরণ দেবে সরকার।

কিন্তু এতে ভরসা পাচ্ছেন না বাস মালিকেরা। বলছিলেন এ্যসোসিয়েশন অব বাস কোম্পানীজ এর সভাপতি রফিক হোসেন কাজল।

“ক্ষতিপূরণ সরকার আগেও দিয়েছে। কিন্তু তার হার অত্যন্ত কম। একটা লাক্সারী গাড়ির দাম এক থেকে দেড় কোটি টাকা, কিন্তু ক্ষতি হলে সরকার দেবে এক লাখ বা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা। তারপর বিভিন্ন জায়গায় কমিশন দিতে হবে।”
“আবার এই ক্ষতিপূরণও সরকারের পছন্দের লোকেরা পাবে। সবাই পাবেও না।”

এদিকে, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে সীমিত পরিসরে যান চলাচল করছে। তবে ফরিদপুর ও বগুড়ায় হরতালের কারণে উত্তরবঙ্গে বাস চলাচল কম। তবে, এক্ষেত্রে প্রয়োজনে পুলিশের পাহাড়ার আশ্বাসও দিয়েছে সরকার। কিন্তু মালিকেরা বলছেন সব স্থানে পুলিশি নিরাপত্তা পাওয়া যাচ্ছে না।

অন্যদিকে, অবরোধে ব্যবসায়ীদের ক্ষতির বিষয়টি নিয়ে আজ এক সংবাদ সম্মেলনে দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই জানিয়েছে, প্রতিদিন আনুমানিক দেড় থেকে দুই হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে। এফবিসিসিআই’র প্রেসিডেন্ট কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ বলছেন অবরোধের ক্ষতি ঠেকাতে আইনি ব্যবস্থা গ্রহনের কথা ভাবছে সংগঠন।

“এফবিসিসিআই এর বোর্ড অব ডিরেক্টর্স এ সিদ্ধান্ত হয়েছে, যে যারা অবরোধ করে অর্থনৈতিক ক্ষতিতে ফেলছে দেশকে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া যায় কিনা, সেটি আইন বিশিষজ্ঞদের সাথে বসে পর্যালোচনা করে দেখা হবে।”

এদিকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে পুলিশ, র‍্যাব এবং বিজিবি’র সমন্বিত প্রহরায় গত দুইদিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দুই হাজার ৭০০-র বেশি যাত্রীবাহী বাস, জরুরি পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও অন্যান্য যানবাহন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চলাচল করেছে।