ফিফা কনফেডারেশন্স কাপের ফাইনাল আজ

প্রকাশ:| রবিবার, ৩০ জুন , ২০১৩ সময় ০৩:৫৬ অপরাহ্ণ

স্বপ্নের ফাইনাল আজ

ইতিহাস কিংবা ফুটবল সৌন্দর্য; যে মাপকাঠিতেই বিচার করা হোক না কেন, পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষের কাছে ব্রাজিল মানেই ফুটবলের দেশ। আর সামপ্রতিক প্রেক্ষাপটকে মাথায় রাখলে টানা তিনটি বড় টুর্নামেন্টের শিরোপায় স্পেনও হয়ে উঠেছে ফুটবল-সাফল্যের প্রতিশব্দ। পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তে এই দু দলের লড়াই মানে তাই অন্যরকম রোমাঞ্চ, উত্তেজনা। আর লড়াইটা ফাইনালে হলে তো স্বপ্নের তো এক ম্যাচের অপেক্ষায় থাকে বিশ্ব। আজ সেই ফুটবলীয় স্বপ্নপূরণের দিন। আজ ফিফা কনফেডারেশন্স কাপের ফাইনালে মারাকানা স্টেডিয়ামে আজ মুখোমুখি হচ্ছে ব্রাজিল ও স্পেন।

একদিকে যেমন আজকের ফাইনালকে বলা হচ্ছে স্বপ্নের ফাইনাল; অন্যদিকে এটা রোমাঞ্চকর দুই স্টাইলের লড়াইও বটে। খুব কাছাকাছি ধরনের বলের দখল ধরে রাখা, পার্সি-প্রেসিং ফুটবলে অভ্যস্ত দুদল। তারপরও পূর্ব ইউরোপের পাসিং ফুটবলের পরিশীলিততম রূপ নিয়ে স্পেন এবং আদি ও অকৃত্রিম ‘জোগো বোনিতো’র জনক ব্রাজিল মুখোমুখি হওয়া মানে দুই ঘরানারও মুখোমুখি হওয়া।

বলাই বাহুল্য যে, বলের পজেশন ধরে রাখতে চাইবে স্পেন। জাভি হার্নান্দেজ ও আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার নেতৃত্বে সাজানো মাঝ মাঠে আরও থাকবেন সেস ফ্যাব্রেগাস, পেদ্রো রড্রিগেজ ও ডেভিড সিলভা। ফরোয়ার্ডে ফার্নান্দো তোরেস কিংবা রবার্তো সোলদ্যাদো। গোলবার আগলে থাকবেন বিশ্বসেরা গোলরক্ষকদের একজন ইকার ক্যাসিয়াস। রক্ষণভাগে জর্ডি অ্যালবা, অ্যালভ্যারো আরবেলোয়া, জেরার্ড পিকে ও সার্জিও রামোস।

ব্রাজিলও একটু সময়ের জন্যও বলের দখল হারাতে চাইবে না। আক্রমণের পর আক্রমণ করে স্পেনের পথে কাঁটা বিছিয়ে দিতে চাইবে সেলেচাওরা। দুর্দান্ত ফর্মে আছেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের ২৯ বছর বয়সী তারকা ফ্রেড। আর টানা দুই ম্যাচে তিন গোল পাওয়া এই খেলোয়াড়ের সাথে আছেন সদ্যই বার্সেলোনায় যোগ দেয়া নেইমার। এখন বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিত নেইমারই কার্যত ব্রাজিলের প্রাণভোমরা হয়ে আক্রমণভাগ সামলাবেন। ব্রাজিলের আক্রমণভাগে অস্কার লুইজ, মার্সেলো, পওলিনহো; এমনকি ওভারল্যাপ করা ড্যানি অ্যালভেজদের কথাও মাথায় রাখতে হবে।

তবে ম্যাচের আগে এসব তারকার তথ্য আসলে বোঝাতে পারে না, কে এগিয়ে, কে পিছিয়ে। শুধু এটা বোঝা যায়, আজ ফুটবল হয়তো তার চূড়ান্ত এক বহিঃপ্রকাশ দেখবে ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে। ঠিক এই কথাটাই জোর দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করলেন স্পেন কোচ ভিসেন্তে দেল বস্ক। তবে তিনি এই লড়াইয়ে ব্রাজিলকেই এগিয়ে থাকতে দেখছেন, ‘ম্যাচটা হবে ফুটবলের জন্যই বড় একটা বিজ্ঞাপন। ব্রাজিল দলটা পাঁচ বার বিশ্বকাপ আর তিনবার কনফেডারেশন্স কাপ জিতেছে। আর ফাইনালে মারাকানা স্টেডিয়ামে নিজেদের সমর্থকদের সামনে খেলবে তারা। এটা আমাদের জন্যও স্বপ্নের মতো একটি ফাইনাল। সব দিক থেকে তাই ব্রাজিলই এগিয়ে থাকবে। রবিবার দেখা হবে, নতুন একটা যুগের সূচনা হবে। দেখা যাক কে জয়ী হয়!’

আজকের ফাইনালে স্পেনের জন্য রয়েছে অনন্য এক রেকর্ডের হাতছানি। কনফেডারেশন্স কাপ জিতলেই ইতিহাসের প্রথম দল হিসেবে টানা চারটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতবে ভিসেন্তে দেল বক্সের দল। ২০০৮ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ, ২০১০ সালের বিশ্বকাপ, ২০১২ সালে আবারও ইউরো জয়ের পর আজকে জিতলে ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা হিসেবে নিজেদের দাবি করতে পারবে স্প্যানিশরা।

স্প্যানিশরা যতোই ইতিহাসের স্বপ্ন দেখুক না কেন তাদের মোটেই ছেড়ে কথা বলবে না ব্রাজিল। ১৯৮৯ সালে সর্বশেষ দেশের মাটিতে কনফেডারেশন্স কাপের শিরোপা জয় করা ব্রাজিল দলটির বর্তমান সময়ের মূল তারকা নেইমারও জানালেন জয়ের জন্যই লড়বে তার দল, ‘সত্যি কথা বলতে এই ম্যাচটির জন্য আমি অনেক আগে থেকেই অপেক্ষা করছি। আর আমার মতে, এই অপেক্ষা করাদের তালিকায় আমিই একা নই। বিশ্বসেরা দলের সামনে আমরা নিজেদের পরীক্ষা করার ভাল একটা সুযোগ পাবো। প্রতিপক্ষের প্রতি আমাদের যথেষ্ট শ্রদ্ধা আছে। কিন্ত আর যাই হোক, মাঠে আমরা তাদের ছেড়ে কথা বলবো না। আমরা নিজেদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।’

৬৩ বছর আগে সর্বশেষ এই মারাকানা স্টেডিয়ামে ব্রাজিলের মুখোমুখি হয় স্পেন। সেবার ব্রাজিলের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি লা রোজারা। ৬-১ গোলে সেই হারের ইউরোপীয় দলটির ইতিহাসেরই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যবধানে হারের রেকর্ড। কিন্তু সেই দিন বদলেছে; দু:সময় কাটিয়ে স্পেন এখন পাড়ি দিচ্ছে নিজেদের স্বর্ণযুগ।

তারপরও স্পেনের অধিনায়ক ইকার ক্যাসিয়াস নিজেদের এগিয়ে বা পিছিয়ে রাখতে রাজী নন। তিনিও ম্যাচটিকে দেখছেন ফুটবলীয় দৃষ্টিকোন থেকে, ‘এই ব্যাপারে আমি নিশ্চিত যে দর্শকরা ব্রাজিল আর স্পেন ম্যাচের শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ উত্তেজনাই চাইবে।’

এখন সেই চাওয়াটা প্রাপ্তিতে রূপ নিলেই হল!

মুখোমুখি লড়াই

সময় বিজয়ী ফল টুর্নামেন্ট

১৯৩৪ স্পেন ৩-১ বিশ্বকাপ

১৯৫০ ব্রাজিল ৬-১ বিশ্বকাপ

১৯৬২ ব্রাজিল ২-১ বিশ্বকাপ

১৯৭৮ ড্র ০-০ বিশ্বকাপ

১৯৮১ ব্রাজিল ১-০ প্রীতি ম্যাচ

১৯৮৬ ব্রাজিল ১-০ বিশ্বকাপ

১৯৯০ স্পেন ৩-০ প্রীতি ম্যাচ

১৯৯৯ ড্র ০-০ প্রীতি ম্যাচ


আরোও সংবাদ