ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকে দুই প্রবাসীর ৪৫ লাখ টাকা গায়েব

প্রকাশ:| বুধবার, ১৬ এপ্রিল , ২০১৪ সময় ০৬:২২ অপরাহ্ণ

ফার্স্ট সিকিউরিটিঅভিনব ব্যাংক জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশের লন্ডন খ্যাত সিলেটে। প্রবাসী দুই নাগরিকের আমানতকে বন্ধক দেখিয়ে বেনামী এক প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিয়েছে বেসরকারি ফার্স্ট সিউকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক।

বেনামী ওই গ্রাহক ঋণের অর্থ পরিশোধ না করায় প্রাবসী দুই নাগরিককে ৪৫ লাখ টাকা ব্যাংক নগদায়ন করে নিয়েছে। অথচ ঋণ গ্রহণকারী ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লন্ডন প্রবাসী দুই নাগরিক শাহ আমীর আলী ও আবদুল মো. মুকিতের কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, এমন জালিয়াতির ঘটনায় প্রবাসী আয়ের জন্য শঙ্কা এবং আতঙ্কের। যার সার্বিক প্রভাব পড়বে আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে। কারণ প্রবাসীরা প্রতারিত হলে তারা দেশে রেমিটেন্স পাঠাতে নিরুৎসাহিত হবেন।

বেসরকারি ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের সিলেট শহর শাখায় এমনই জালিয়াতির প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যংক।

সিলেটের ব্যাংকিং হালহকিকত নিয়ে খোঁজ করতে গিয়ে বাংলানিউজের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এই অভিনব জালিয়াতির তথ্য।

প্রবাসী এই দুই নাগরিক শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ নিয়েও এসেছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের সিলেট শাখায় নিজেদের আমানত জমা রাখেন লন্ডন প্রবাসী দুই নাগরিক শাহ আমীর আলী ও আবদুল মো. মুকিত। এর মধ্যে শাহ আমীর আলীর জমা ২০ লাখ টাকা। আর মুকিত জমা রাখেন ২৫ লাখ টাকা। ব্যাংকের দ্বিগুণ ডিপোজিট প্রকল্পের আওতায় আমীর ও মুকিত এই আমানত রাখেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

কিন্তু ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকের সিলেট শাখার ব্যবস্থাপক এ জেড নিয়াজ আহমেদ চৌধুরী ও ব্যাংকের কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তা মিলে এই দুই গ্রাহকের অর্থ জমানো হিসাব দেখিয়ে মেসার্স সিলমুন কনর্সোটিয়াম নামের একটি বেনামী প্রতিষ্ঠানকে ৪৫ লাখ টাকা ঋণ দেন।

সূত্র বলছে, ঋণ নেওয়ার পর সিলমুন কনর্সোটিয়াম খেলাপি হয়ে পড়ে। এরপর দুই আমানতকারীর অর্থ থেকে সমন্বয় করে ঋণের অনাদায়ী ‍অর্থ আদায় করে নেয় ব্যাংক।

ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, ঋণ প্রদানের সময় আমীর আলী দেশে ছিলেন না। তিনি ২০০৭ সাল থেকে লন্ডনে থাকেন। এরপর ২০১৩ সালের ‍ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত তিনি দেশে আসেননি। একইভাবে ঋণ প্রদানের সময়টাতে বিদেশে ছিলেন আরেক গ্রাহক মুকিতও।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র বলছে, অর্থ লুটের শিকার হওয়া গ্রাহকরা আলাদা ভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিলেট অফিসে অভিযোগ করেছেন। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংকের সিলেট শাখা বিষয়টি তদন্তে অনুসন্ধানে নামে এবং লুটের ঘটনার সত্যতা পায়।

আগামী ২৫ এপ্রিলে মধ্যে দুই গ্রাহকের অর্থ ফেরত দিতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের উপ-মাহব্যবস্থাপক স্বপন কুমার রায় বাংলানিউজকে বলেন, আমরা এ ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনার সত্যতাও পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকারিয়া বলেন, আমি ব্যাংকের কোনো বিষয়ে কথা বলি না। আমার ব্যক্তিগত কোনো বিষয় জড়িত থাকলে বলতাম।