ফারুকী হত্যার কূল-কিনারা করতে পারছে না পুলিশ

প্রকাশ:| রবিবার, ৩১ আগস্ট , ২০১৪ সময় ১০:৪৭ অপরাহ্ণ

নুরুল ইসলাম ফারুকীইসলামী ফ্রন্ট নেতা ও টেলিভিশন উপস্থাপক নুরুল ইসলাম ফারুকী খুনের ৪ দিনেও হত্যা রহস্যের কোনো কূল-কিনারা করতে পারেনি পুলিশ।

তবে চাঞ্চল্যকর এ হত্যার পেছনে আপাতত তিনটি কারণকে চিহ্নিত করে হত্যার মোটিভ ও ক্লু খুঁজে বের করতে রবিবার থেকে তদন্ত শুরু করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।
গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বুধবার রাতে রাজধানীর পূর্ব রাজারবাগে খুন হওয়ার পরে তেজগাঁও থানায় মামলা করে পরিবারের সদস্যরা। পরে থানা পুলিশ শনিবার বিকেলে ডিবি পুলিশের কাছে মামলাটি স্থানান্তর করে।

ওইদিন পুলিশ একজন নারীসহ সন্দেহভাজন তিনজনকে গ্রেফতার করে। কিন্তু তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ ও পরিবারের কাছ থেকে হত্যার মোটিভ ও ক্লু জানা যায়নি।
চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনে রবিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ডিবি পুলিশ তদন্তে নামে। যদিও ঘটনার পর থেকেই সিআইডি ও ডিবি পুলিশ জড়িতদের গ্রেফতারে কাজ করে আসছিলেন।

মামলা অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি দক্ষিণ) উপ-কমিশনার (ডিসি) শেখ নাজমুল আলম বলেন, ‘ফারুকী হত্যা মামলার বিষয়ে বলার মতো কোনো অগ্রগতি নেই। হত্যার মোটিভ ও কোনো ক্লু খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে আমাদের তদন্ত ও জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’

ডিবির কর্মকর্তারা জানান, নুরুল ইসলামকে বুধবার রাতে নিজ বাসায় ঢুকে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। নুরুল ইসলাম ফারুকী ইসলামী ফ্রন্টের প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন। তিনি চ্যানেল আইয়ে ‘কাফেলা’, মাই টিভিতে ‘হক কথা’ ও ‘সত্যের সন্ধান’ নামে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ছিলেন। একই সঙ্গে ইসলামিক মিডিয়া জনকল্যাণ সংস্থার চেয়ারম্যান ও ফারুকী ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের ব্যবস্থাপক ছিলেন।

ডিবি’র ডিসি শেখ নাজমুল আলম বলেন, ফারুকী হত্যার ঘটনাটি আমরা সাধারণ কোনো খুনের ঘটনা হিসেবে দেখছি না। এটা একটি সেনসেটিভ (স্পর্শকাতর) ও ঠাণ্ডা মাথার খুনের ঘটনা। এর পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি।

যে তিন কারণ নিয়ে ডিবি এ হ্ত্যার তদন্ত করছে সে সম্পর্কে নাজমুল আলম বলেন, ‘প্রথমত নুরুল ইসলাম ফারুকী ইসলামিক ফ্রন্টের নেতা ছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি এক ধরণের ইসলামী মতাদর্শ প্রচার করতেন। দ্বিতীয়ত তার একটি হজ্জ এজেন্সির ব্যবসা ছিল। তৃতীয়ত, পারিবারিক জীবনে তার দুইজন স্ত্রী রয়েছেন। আমরা সম্ভাব্য এই তিন কারণকে প্রাধান্য দিয়ে তদন্তে এগুচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘ফারুকী হত্যাকাণ্ড এবং গোপীবাগের সিক্স মার্ডার ঘটনার ধরণ একই। ফলে এ ‍দুই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো ধর্মীয় মতাদর্শাগত বিরোধ থাকতে পারে।’
২০১৩ সালের ২১ ডিসেম্বর রাজধানীর গোপীবাগে ইসলামি মতাদর্শ প্রচারকারী ‘কথিত পীর’ লুৎফর রহমান ফারুককে নিজ বাসায় আরও ৫ জনসহ গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

এদিকে, নুরুল ইসলাম ফারুকী হত্যায় মাহমুদা খাতুন ও শরিফুল ইসমলামকে শনিবার রাতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে আটক করে তেজগাঁও থানা পুলিশ। পরে ওই রাতে কুমিল্লা থেকে ইউসুফ নামে আরও একজন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়।

এ বিষয়ে ডিবির অতিরিক্তি উপ-কমিশনার আশিকুর রহমান বলেন, মাহমুদা খাতুন হত্যার দিন বুধবার সকাল থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পরযন্ত ফারুকীর বাসায় ছিলেন। কিন্তু তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যায়নি। রবিবার তাকেসহ আরও একজনকে ২ দিনের রিমান্ডে আনা হয়েছে।

মাহমুদা খাতুনের কাছ থেকে পাওয়া প্রাথমিক তথ্যের বরাত দিয়ে আশিকুর রহমান বলেন, মাহমুদা খাতুন মাই টিভিতে ফারুকীর অনুষ্ঠান দেখে একমাত্র ছেলে মঞ্জুরুল ইসলামের সঙ্গে তার পারিবারিক সমস্যা বিষয়ে আলাপ করার জন্য পূর্ব রাজারবাগ বাসায় যান। মাই টিভি থেকেই তিনি ফারুকীর নাম্বার পান। ঘটনার দিনে মাহমুদার ফোন থেকে ফারুকীকে চারবার কল দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে মাহমুদার ফোনে তার পূর্ব পরিচিত এক দর্জির সঙ্গে একে মাসে ৭২ বার যোগাযোগ ছাড়া অন্য কারো তথ্য পাওয়া যায়নি।’