ফানুসের রঙে রঙিন বান্দরবানে রাতের আকাশ

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর , ২০১৫ সময় ১০:০৫ অপরাহ্ণ

ফানুস আকাশে
আলাউদ্দিন শাহরিয়ার, বান্দরবান ॥
ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে উৎসবে রং লেগেছে পাহাড়ে। শতশত ফানুসের রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে পাহাড়ী জেলা বান্দরবানে রাতের আকাশ। আতশবাজি, আলোকসজ্জা এবং ফানুসের আলোয় যেন রং লেগেছে পাহাড়ের আকাশে। আজ বৃহস্পতিবার রাতে উৎসবের মুল অনুষ্ঠানমালার শেষদিনে স্থানীয় রাজারমাঠ থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুরের আয়োজনে লাল, সাদা, হলুদ’সহ বিভিন্ন রঙের শতশত ফানুস বাতি আকাশে উড়ানো হয়। অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ উচহ্লা ভান্তে, সেনাবাহিনীর ৬৯ রিজিয়ন কমান্ডার ব্রীগেডিয়ার জেনারেল নকিব আহমেদ চৌধুরী, জেলা ও দায়রা জজ শফিকুর রহমান, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা, জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান’সহ তিন পার্বত্য জেলার উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারাও অংশ নেয়। ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে উৎসব যেন পাহাড়ী-বাঙ্গালীদের মিলন মেলায় পরিনত হয়। উৎসব দেখতে রাজারমাঠে ভীড় জমিয়েছিল বেড়াতে আসা পর্যটকেরাও। উৎসবের রঙে বর্ণিল এখন বান্দরবানের পাহাড়ী পল্লীগুলো।
তিন মাস বর্ষাবাস (উপুস) থাকার পর পাহাড়ের মারমা সম্প্রদায়ের লোকজন ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে উৎসব পালন করে আসছে বহুকাল ধরে। প্রচলিত আছে বৌদ্ধ ধর্মের প্রবক্তা গৌতম বুদ্ধ এই আশ্বিনী পূর্নিমায় তার মাথার চুল আকাশে উড়িয়ে দিয়েছিল। তাই আশ্বিনী পূর্নিমার এই তিথিতে আকাশে উড়ানো হয় শতশত ফানুস বাতি। পাহাড়ের মারমা সম্প্রদায়েরা নিজস্ব সামর্থ অনুযায়ী ফানুসবাতি বানিয়ে আকাশে উড়িয়ে বৌদ্ধ ধর্মের প্রবক্তা গৌতম বুদ্ধকে স্মরণ করা হয়। মারমা সম্প্রদায়ের বিশ্বাস: আকাশে উঠার আগেই যে ব্যাক্তির ফানুস মাটিতে পড়ে যায় তাকে পাহাড়ীরা পাপী লোক হিসেবে চিহ্নিত করে। ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে উৎসবে ফানুস উড়িয়ে পাহাড়ীরা নিজেদের পাপ মোচন ও পাপী মানুষ খোজে বের করে। একারণে ফানুস আকাশে উড়ানোর সময় পাহাড়ীরা মারমা ভাষায় “সাও দো” “সাও দো” বলতে থাকে। অর্থাৎ শুভ মুক্তি।
ফানুস
অপরদিকে ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে উৎসবের সবচেয়ে আকর্ষণীয়- মঙ্গল রথযাত্রা। স্বর্গীয় সুন্দর দেবতার মুর্তির আদলে তৈরি করা বিশাল আকৃতির ময়ুর রথের উপর একটি বুদ্ধমূতি স্থাপন করে রথটি কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহার থেকে রশি দিয়ে টেনে টেনে পুরোশহর ঘুরানো হয়। এসময় বৌদ্ধ ধর্মের নর নারীরা মোমবাতি জ্বালিয়ে শ্রদ্ধা জানায় বুদ্ধ মূর্তিকে। রাতের এ রথযাত্রা দেখার জন্য রাস্তর দুপাশে উপচেপড়া ভীড় জমে যায়। শহর ঘুরানোর পর রথটি সাঙ্গু নদীতে বিসর্জন দেয়া হয়। রথ বিসর্জনের মাধ্যমে ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে উৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও পাহাড়ী পল্লীগুলোতে উৎসব চলবে আরো কয়েকদিন।
উৎসব উদযাপন কমিটির সভাপতি অংচ মং মারমা জানান, ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে হচ্ছে মারমা সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। রথ বিসজর্নের মাধ্যমে বান্দরবানে ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে উৎসবের পাঁচদিনের মূল অনুষ্ঠানিকতা শেষ হচ্ছে মধ্যরাতে। তবে উৎসব চলবে আরো কয়েকদিন।


আরোও সংবাদ