ফাইভজি গরু

mirza imtiaz প্রকাশ:| রবিবার, ১৪ এপ্রিল , ২০১৯ সময় ০৩:১৮ অপরাহ্ণ

খামারে দল বেঁধে ঘুরে বেড়াচ্ছে গরু। আর দশটি গরুর সঙ্গে তাকে আলাদা করা না গেলেও কিন্তু একটি বিষয়ে গরুগুলো ব্যতিক্রম। কারণ, তারা যে ফাইভজি গরু!

কথাটি শুনে ভড়কে গেলেও অবাক হবার মতো কিছু নেই। কারণ, সেই গরুগুলো ইন্টারনেটের সর্বশেষ সুবিধা ফাইভজি দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

মার্কিন বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সিসকো সিস্টেম যুক্তরাজ্যের একটি খামারে এমন পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা করেছে। সেখানে প্রত্যন্ত তিনটি এলাকায় মোবাইল ও ওয়্যারলেসের নেটওয়ার্কের উন্নয়নের জন্য এটি করেছে। যার জন্য খামারের এসব গরুকে ফাইভজির আওতায় আনা হয়েছে।

ব্রিটিশ ওই গরুগুলোর গলায় ফাইভজি ডিভাইস সংযুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। ডিভাইসটির মাধ্যমে গরুগুলোর দুধের পরিমাণ ও অন্যান্য হিসাব রাখা হয়। আর এর সবকিছু করা হয় একটি রোবটের মাধ্যমে।

ডিভাইসটির মাধ্যমে খামার কর্তৃপক্ষ জানতে পারেন কখন গরুগুলোর খাবার প্রয়োজন, খাবারে কোন ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে কিনা। এমনকি গরুগুলো দুধ দেবার জন্য প্রস্তুত কিনা এমন কিছুও জানা যাবে ফাইভজি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে।

যুক্তরাজ্যের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত একটি খামারে ১৮০টি গরুর মধ্যে অন্তত ৫০টির কানের সঙ্গে ওই ডিভাইস লাগানো হয়েছে। যার সাহায্যে গরুগুলোকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা যাচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ বলছে, ফাইভজি ব্যবহারের ফলে তারা অনেক বেশি সুবিধা পাচ্ছে। ইন্টারনেটের ধীরগতি কিংবা সিসিটিভি ক্যামেরার সহায়তা নেওয়ার বালাই নেই। কেবল খামারের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয় এটি। ধীরে ধীরে প্রযুক্তিটি ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

খামারের মালিক নিক ক্রিস বলেন, তাদের প্রতিটি গরুর সঙ্গে ফাইভজি ডিভাইস সংযুক্ত করবেন। এছাড়া খামারের অন্যান্য সব প্রাণীর সঙ্গেও ডিভাইসটি যুক্ত করা হবে। কারণ যে ধরনের জনবল তাদের দরকার ছিল এই গরুগুলো নিয়ন্ত্রণের জন্য তার কয়েকগুণ কমিয়ে দিয়েছে এই প্রযুক্তি।

বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়া ৩ এপ্রিল ফাইভজি নেটওয়ার্ক চালু করে। সেদিনই যুক্তরাষ্ট্র দুটি রাজ্যে ফাইভজি চালু করে। তবে এখনি কেউ ফাইভজির সব সুফল পাবেন না। ২০২৩ সালের মধ্যে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে ফাইভজি নেটওয়ার্ক চালু হবে। বাংলাদেশেও ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ফাইভজি নেটওয়ার্ক চালু করার কথা জানানো হয়েছে।


আরোও সংবাদ