ফাইনালে ভারত

প্রকাশ:| শুক্রবার, ৪ এপ্রিল , ২০১৪ সময় ১০:১৯ অপরাহ্ণ

চ্যালেঞ্জিং স্কোরটাও সহজ করে দিলেন বিরাট কোহলিই। ফিফটি ছোঁয়ার পর ধারাভাষ্যকর তো বলেই দিলেন— বিরাট কোহলি: দ্য রান মেশিন! প্রায় প্রতি ম্যাচেই এ ‘রান মেশিনে’র কাছে দুমড়ে-মুচড়ে যাচ্ছে প্রায় সব দলই। আজ সেমিফাইনালে দুমড়ে-মুচড়ে গেলো দক্ষিণ আফ্রিকাও। ভারতের কাছে ৫ বল বাকি থাকতে ৬ উইকেটে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল প্রোটিয়ারা।
সেই ১৯৯২ থেকে শুরু। বিশ্বকাপ মানেই দক্ষিণ আফ্রিকার কেবল দুঃখ-জাগানিয়া গল্প। সব গল্পের এক শিরোনাম—চোক, চোক এবং চোক! ‘চোকার’ শব্দ দক্ষিণ আফ্রিকার গায়ে লেগে গেছে। এবার নিজেদের ওপর চাপ-টাপ কমাতে ঢাকায় পা রেখে ডু প্লেসিস বললেন, ‘সম্ভবত প্রথমবার কোনো টুর্নামেন্টে আমরা আন্ডারডগ।’ তাতেও কাজ হলো না। ভারতের কাছে ৬ উইকেটে হেরে আবারও বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের যন্ত্রণাই পোহাতে হলো দক্ষিণ আফ্রিকাকে। পরিসংখ্যান অবশ্য দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষেই ছিল আজ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে প্রথমে ব্যাট করে ১৭২ কিংবা তার বেশি রান করে ম্যাচ হারেনি কোনো দল। কিন্তু ভাগ্য আজও দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে নাটক ফেঁদে বসল।
দক্ষিণ আফ্রিকার দেওয়া ১৭৩ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই এগোতে লাগলেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা। ভারতের সব ব্যাটসম্যানই রান পেয়েছেন। তবে সবচেয়ে বেশি হেসেছে বিরাট কোহলির ব্যাট। কোহলির রানের চাকা ছুটছে দুরন্ত গতিতে। সে গতি ভালোই টের পেলেন প্রোটিয়ারা। দলকে জিতিয়ে তবেই ফিরেছেন কোহলি। ভারতের এ ব্যাটিং সেনসেশন অপরাজিত ছিলেন ৭২ রানে । গত চার ম্যাচে এটি কোহলির তৃতীয় ফিফটি। দক্ষিণ আফ্রিকার স্বপ্ন ‘খুনে’র পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা যুবরাজ-কোহলির তৃতীয় উইকেট জুটি। এ জুটিতে আসে ৩৯ বলে ৫৬।
আবহাওয়ার কথা মাথা রেখেই কিনা টসে জিতে ব্যাট করতে নামল দক্ষিণ আফ্রিকা। ৯ রানের মাথায় ফিরে গেলেন কুইন্টন ডি কক। এরপর টি-টোয়েন্টি সংস্করণে ‘মানিয়ে’ নেওয়া আমলা ও প্লেসিসের দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে এল ৩৫। তবে ভারতকে ভুগিয়েছে মূলত ডু প্লেসিস ও ডুমিনির তৃতীয় উইকেট জুটিতে তোলা ৫২ বলে ৭১ রান। অশ্বিনের বলে বোল্ড হওয়ার আগে দক্ষিণ আফ্রিকার টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক করলেন সর্বোচ্চ ৪১ বলে ৫৮। সামনে থেকেই পথ দেখালেন যেন। সঙ্গীকে হারিয়ে ফেললেও ডুমিনি শেষ পর্যন্ত ৪০ বলে ১টি চার ও ৩ ছক্কায় ৪৫ করে অপরাজিত থাকলেন। শেষ তিন ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকা তোলে ৩৬ রান।
অশ্বিন প্রথম ৩ ওভারে ১২ দিলেও শেষ ওভারে দিয়েছেন ১০ রান। তবুও ভারতীয় বোলারদের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে সফল। চার উইকেটের তিনটাই তাঁর। ধোনি প্রায় বোলার নিয়ে ‘জুয়া’ খেলেন। আজও খেললেন। সুরেশ রায়নাকে দিয়ে ৪ ওভার বল করালেন। রায়না ৪ ওভারে দিয়েছেন ৩৫। অথচ ২ ওভারে ৮ রান দেওয়া রবীন্দ্র জাদেজার দুটো ওভার অব্যহূত থাকল। বোলিংয়ে ধোনির জুয়াটা না লাগলেও ম্যাচ তিনি পকেটে পুড়েছেন ঠিকই।