ফল ও সবজির সবচেয়ে পুষ্টিমান সমৃদ্ধ আসল অংশটাই আমরা ফেলে দিই

প্রকাশ:| বুধবার, ৫ মার্চ , ২০১৪ সময় ১১:৩৭ অপরাহ্ণ

বিশ্বজুড়ে উত্পাদিত মোট খাদ্যের ২৫ থেকে ৩৩ শতাংশই অপচয় হয়! এ বাস্তবতা হয়তো আমাদের মাথাতেই থাকে না। এ বিষয়ে অনেক তথ্য-উপাত্তও হয়তো অনেকেরই জানা নেই। কিন্তু প্রাত্যহিক জীবনে আমরা যা খাই তারই তো কতটা অংশ আমরা ফেলে দিই। গবেষকেরা বলছেন, এমনকি অনেক ফল ও সবজির সবচেয়ে পুষ্টিমান সমৃদ্ধ আসল অংশটাই আমরা ফেলে দিই। ফলের ছাল-খোসা, ফলের বীজ, সবজির ডাঁটি, সবজির পাতা আরও কত কী। কয়েকটি গবেষণার বরাত দিয়ে কিছু ফল ও সবজির এই ফেলে দেওয়া অংশের গুণের কথা জানিয়েছে হাফিংটন পোস্ট।

আপেলের ছাল
আপেলের ভেতরের যে অংশটা আমরা খাই তার চেয়ে আপেলের ছালে ভিটামিন ও ফাইবারের পরিমাণ বেশি। আর আপেলের খোসায় ‘কুয়েরসেটিন’ নামের একটি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আছে, যা ফুসফুস ও মস্তিষ্কের জন্য খুবই উপকারী।

তরমুজের খোসা
রসাল তরমুজের পুরু ও শক্ত খোসায় ‘এল-সাইট্রুলিন’ নামের অ্যামাইনো অ্যাসিড আছে। এই অ্যামাইনো অ্যাসিড শরীরচর্চা ও খেলাধুলায় দক্ষতা বাড়াতে এবং বিশেষত মাংসপেশির ব্যথা কমাতে বা এর নমনীয়তা বাড়াতে সহায়তা করে। এ ছাড়া রক্ত থেকে নাইট্রোজেন দূর করতেও সহায়তা করে এই ‘সাইট্রুলিন’। যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইউএসডিএ’ কৃষি গবেষণা সংস্থা ২০০৩ সালের একটি গবেষণায় জানিয়েছে, তরমুজের খোসায় এই অ্যামাইনো অ্যাসিডের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি আছে।আলুর ছালে আছে ‘ভিটামিন বি’, ‘ভিটামিন সি’, আয়রন, ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়াম।

আলুর ছাল
আলু তো নানাভাবেই খাই। ভেজে, নানাভাবে রান্না করে, পুড়িয়ে, সেদ্ধ করে। কিন্তু আলুর ছাল ফেলে দিই অনেক ক্ষেত্রেই। কিন্তু আলুর ছালে আছে ‘ভিটামিন বি’, ‘ভিটামিন সি’, আয়রন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়ামসহ আরও বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। ইচ্ছা করলেই ছালসহই আলু রান্না করা যা, খাওয়া যায় অনেকভাবেই।

কমলার খোসা
কোলেস্টরেল কমানোর জন্য চিকিত্সকদের দেওয়া অনেক ওষুধের চেয়ে কমলার খোসা বা এমন লেবুজাতীয় ফলের খোসায় থাকা একটি বিশেষ রাসায়নিক অনেক বেশি কার্যকর। ২০০৪ সালের এক গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, এসব ফলের খোসায় থাকা ‘পলিমিথোক্সিলেটেড ফ্লেভন’ হূদরোগ ও প্রদাহ প্রতিরোধে বিশেষভাবে সহায়তা করে।

কুমড়ার বিচি

একটা মিষ্টিকুমড়া কাটার সময় শুরুতেই অনেকে এর বিচিগুলো ফেলে দেন। অথচ কুমড়ার বিচিতে আছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম। এক কাপ কুমড়ার বিচিতে যে পরিমাণ ম্যাগনেসিয়াম থাকে তা আপনার সারা দিনের ম্যাগনেসিয়াম চাহিদার প্রায় সমান। আর এই ম্যাগনেসিয়ামের অভাবে হূদযন্ত্রের সমস্যা, অস্টেরোপরোসিস ও মাথাব্যথা হতে পারে। পাশাপাশি কোলেস্টরেল কমাতেও সাহায্য করে তা।

কমলার খোসায় থাকা ‘পলিমিথোক্সিলেটেড ফ্লেভন’ হূদরোগ এবং প্রদাহ প্রতিরোধে বিশেষভাবে সহায়তা করে।বিটের পাতা
বিট চাষ করা হয় এর শিকড়ের জন্যই। কিন্তু বিট তো জন্মায় আর বড় হয় তার পাতার জন্যই। বিটের পাতা খেতেও সুস্বাদু। আর এ পাতায় আছে ভিটামিন ‘এ’ ও ‘কে’। আছে আঁশ, ক্যালসিয়াম, আয়রনসহ আরও অনেক কিছুই। এখন থেকে বিট খেলে সঙ্গে পাতাগুলো খেতে ভুলবেন না।

শালগমের পাতা
বিটের পাতার মতোই শালগমের পাতাও বেশ মজাদার। এতেও আছে প্রচুর ভিটামিন ‘এ’ ও ‘কে’। আছে অনেক আঁশ, আয়রন ও পটাশিয়াম। শালগমের পাতা খেতে পারেন তরকারিতে দিয়ে কিংবা আলাদা করে ভাজি করেও।