ফরাজী হত্যা মামলার ৩ আসামীর বিদেশে পলায়নের চেষ্টা

প্রকাশ:| সোমবার, ১২ অক্টোবর , ২০১৫ সময় ১০:১৪ অপরাহ্ণ

হত্যা মামলার তিন আসামী
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, পেকুয়া: কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বীর মুুক্তিযোদ্ধা আকম সাহাব উদ্দিন ফরাজী হত্যা মামলার ৩ আসামী বিদেশ পলায়নের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে খবর পাওয়া গেছে। এ তিন আসামীর বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলাও রয়েছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি হত্যকান্ডের পর থেকে রহস্যজনক কারণে ওই তিন প্রভাবশালী আসামী এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে বলে স্থানীয়রা নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ওই তিন আসামী শাহাদাৎ হোসেন মেম্বার, আবদুল জলিল মেম্বার ও টইটং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জেএড এম মোসলেম উদ্দিন ভারত অথবা মধ্যপ্রাচ্যের দুবাই পাড়ি দেওয়ার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে। ভিসা সংক্রান্ত জটিলতায় দুবাই যেতে না পারলেও ওই তিন আসামী সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে কোন অঙ্গ রাজ্যে পালিয়ে যেতে পারে। মামলার পর পুলিশ ওই তিন আসামীকে গ্রেফতার করার জন্য একাধিবার তাদের বাড়ীতে হানা দিলেও তাদের নাগাল পায়নি। পেকুয়া থানা পুলিশ তাদের হন্যে হয়ে খুঁজছে। তারা কোথায় আত্মগোপনে রয়েছে সেটারও খোঁজ খবর নিচ্ছে পুলিশ। আর ফরাজী হত্যাকান্ডের পর থেকে ওই তিন আসামীর ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বারও বন্ধ রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (৬ অক্টোবর) সকালে সাড়ে ৮ টার দিকে পেকুয়া উপজেলার দূর্গম টইটং ইউনিয়নের বটতলী মালগারা ছড়া থেকে ভাসমান অবস্থায় পেকুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতির বিবস্ত্র লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর পুলিশ কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিহতের লাশের ময়না তদন্ত সম্পন্ন করেছেন। গত বৃহস্পতিবার ৪র্থ দফা জানাযা শেষে নিহত আওয়ামী লীগ নেতার গ্রামের বাড়ি টইটং ইউনিয়নের পশ্চিম সোনাইছড়ি গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে। আর আওয়ামী লীগ সভাপতি নিহতের ৩দিন পর গত শনিবার অবশেষে থানায় ১৭জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহতের ছেলে, পেকুয়া উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক হাফেজ মেহেদী হাসান ফরাজী। যার মামলা নং ০৯। ধারা ৩০২/৩৪দ:বি।

পেকুয়া থানা পুলিশ ইতিমধ্যেই এ মামলার এজাহারভূক্ত ৫আসামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, টইটং ইউনিয়নের পশ্চিম সোনাইছড়ি গ্রামের বদিউল আলমের ছেলে জাফর, নাপিতখালী গ্রামের ছৈয়দ নূরের ছেলে মাহমুদুল করিম, বটতলী মালগারা গ্রামের মৃত আজিজুর রহমানের স্ত্রী শামারু বেগম, হিরাবুনিয়া গ্রামের নুরুল আলমের ছেলে সিএনজি অটোরিক্সা চালক জসিম উদ্দিন, নিহত ফরায়জীর প্রতিবেশী আত্মীয় ও হাইকোর্টের আইনজীবি সহকারী মৃত একরাম মিয়ার ছেলে নেজামত উল্লাহ।

গতকাল ১২অক্টোবর সরেজমিনে হত্যা মামলার আসামীদের এলাকায় গিয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে জানা গেছে, পেকুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শাহাব উদ্দিন ফরাজী হত্যা মামলার এজাহারভূক্ত ১ নম্বর আসামী টইটং ইউনিয়নের নাপিতখালী গ্রামের মৃত জাকের চেয়ারম্যানের ছেলে, যুবদল নেতা ও প্রায় ডজন মামলার আসামী শাহাদাত হোসেন (৩৭) মেম্বার, ২ নম্বর আসামী ও টইটং ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা ও বটতলী গ্রামের মৃত উকিল আহমদের পুত্র আবদুল জলিল (৩৫) মেম্বার, ও ৩ নম্বর আসামী টইটং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, স্থানীয় বড় পাড়া গ্রামের মৃত আবদুর রহমানের ছেলে ও পেকুয়া উপজেলা যুবদলের সাধারান সম্পাদক জেএড মোসলেম উদ্দিন (৩৯) ঘটনার পর থেকে এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছে।

স্থানীয়রা ধারনা করছেন, আওয়ামী লীগ নেতা ফরাজী হত্যায় তারা মূল নেপথ্যে হিসেবে ভূমিকা পালন করেছিল। ঘটনার পর থেকে তাদের গা ঢাকা দেওয়ার বিষয়টি এখন ভাবিয়ে তুলেছে এলাকাবাসীদের। স্থানীয়রা জানান, সাহাব উদ্দিন ফরাজী হত্যার মূল নেপথ্যে থাকা এ তিন আসামী হত্যাকান্ডের পর চট্টগ্রামে পালিয়ে যায়। এদের মধ্যে ১ নম্বর আসামীর বিরুদ্ধে পেকুয়া থানায় প্রায় ডজন খানেক মামলা রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে কয়েকটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়াও ২ নম্বর আসামীর বিরুদ্ধেও রয়েছে পেকুয়া থানায় একাধিক মামলা। ৩ নম্বর আসামী টইটং ইউপি চেয়ারম্যান জেএড মোসলেম উদ্দিনের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে। এ তিন আসামীর মধ্যে শাহাদাত হোসেন ও মোসলেম উদ্দিন সরাসরি বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। অপরজন আবদুল জলিল মেম্বার ক্ষমতাসীন যুবলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত রয়েছে। সাহাব উদ্দিন ফরাজী হত্যা মামলার আসামী শাহাদাৎ হোসেন গত ১৫দিন পূর্বে জামিনে জেল থেকে ছাড়া পান আর আবদুল জলিল মেম্বার ফরাজী হত্যাকান্ডের আগের দিন জামিন নিয়ে কারাগার থেকে বের হন। তারা জামিন নিয়ে বের হওয়ার পর পরই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাব উদ্দিন ফরাজী নির্মমভাবে হত্যার শিকার হয়েছেন।

নিহতের পরিবার অভিযোগ করেছেন, এ হত্যাকান্ডের পিছনে শাহাদাৎ হোসেন ও আবদুল জলিল মেম্বারের সরাসরি সম্পৃক্ত রয়েছে।

নিহত পেকুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আকম সাহাব উদ্দিন ফরায়জীর ছেলে ও হত্যা মামলার বাদী মেহেদী হাসান ফরায়জী জানান, তার পিতাকে যারা হত্যা করেছেন তাদের বিরুদ্ধে তিনি শনিবার হত্যা মামলা করেছেন। এর বাইরে তিনি আর কোন কথা বলতে রাজি হননি।

পেকুয়া থানার ওসি মো. আবদুর রকিব জানান, পুলিশ ইতিমধ্যেই এ মামলার এজাহার নামীয় ৫ আসামীকে গ্রেফতার করেছে। মামলার অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতার করতে পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান অব্যাহত রেখেছে। তবে এ মামলার তিন আসামীর বিদেশ পলায়নের বিষয়ে তার কাছে কোন ধরনের তথ্য নেই। বিষয়টির খোঁজ খবর নিচ্ছেন বলে ওসি জানান।