ফরমালিন যুক্ত দেশী-বিদেশী ফলমূল, মাছ, খেজুর ও শাক-সবজি বর্জন এবং পণ্য সামগ্রী ক্রয়ে সংযমী হবার আহবান

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই , ২০১৪ সময় ০৩:৪৯ অপরাহ্ণ

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে বিভিন্ন মহানগর, জেলা ও উপজেলায় নকল, ভেজাল, মেয়াদউর্ত্তীন, বিএসটিআই’র অনুমোদনহীন পণ্য বিক্রি, পচা-বাসী খাবার, ফরমালিন যুক্ত মাছ, দেশী-বিদেশী ফলমুল ও শাকসবজিতে ক্ষতিকারক ক্যামিকেল মিশানো, হোটেল রেস্তোরায় নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পঁচা বাসী খাবার রান্না ও পরিবেশন, ওজনে কম প্রদান রীতিতে পরিণত হয়েছে। জেলা প্রশাসন, জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষন অধিদফতর, বিএসটিআই ও সিটিকর্পোরেশনের ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানের পরও তাদের এ সমস্ত অপতৎপরতা থেমে নেই। অতিসম্প্রতি সমগ্র দেশব্যাপী যখন ফরমালিন ও বিভিন্ন ক্যামিকেল দিয়ে ফলমুলে বিষ মেশানোর বিরুদ্ধে প্রচন্ড জনমত তৈরী হয়েছে, সরকার আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন ফলমালিন নিয়ন্ত্রনে কঠোর ভুমিকা নিচ্ছে তখন ফল আমদানীকারক রপ্তাকারীকারক ও আড়তাদার সমিতি, বিভিন্ন স্থানে ফল ব্যবসায়ী সমিতি সরকারের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বিভিন্ন বিভাগের ফরমালিন বিরোধী অভিযানকে বিভ্রান্ত ও বাধাগ্রস্থ করার জন্য সংবাদ সম্মেলনে বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য পরিবেশন, বিভিন্ন মিডিয়াকে দিয়ে পরিকল্পিত সংবাদ পরিবেশন, ফরমালিন পরীক্ষার যন্ত্র ফরমালডিহাইড মিটার (জেট-৩০০) যন্ত্রটি সঠিক নয়, দেশী-বিদেশী ফলে ফরমালিন পরীক্ষা করে বাজারজাত করা হচ্ছে মর্মে জনগনকে বিভ্রান্ত করার ঘটনায় দেশের ক্রেতা-ভোক্তাদের স্বার্থসংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগ ও নগর কমিটি ফরমালিন মিশ্রিত খেজুর ও দেশী-বিদেশী ফলমূল এবং বর্জন ও নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্য পণ্য সামগ্রী ক্রয়ে সংযমী হবার জন্য সাধারন ভোক্তা ও সর্বসাধারনের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন মাছ, মাংশ, ফলমুল তাজা রাখার জন্য ফলমালিন, ফল পাকানোর জন্য ইথেনসহ বিভিন্ন ক্যামিকেল দিয়ে একশ্রেনীর ব্যবসায়ী খাদ্য পণ্যকে বিষে পরিনত করে ফেলেছে। আবার তারাই পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে জনগনকে ফল খাওয়ার জন্য আহবান জানাচ্ছে। অন্যদিকে এর ফাঁকে ফরমালিন মুক্ত আ¤্র্র ফালিসহ বিভিন্ন নামে ব্যবসার নতুন কৌশল উদ্ভাবন শুরু করেছে। অনেকে সরকারের বিভিন্ন বিভাগকে ও বিভিন্ন মিডিয়াকে দিয়ে ফরমালিনের ব্যবহার কমেছে বলে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান করছে। এ অবস্থায় কিছু অসৎ ব্যবসায়ীদের এ সমস্ত অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে ফরমালিন ও বিভিন্ন ক্যামিকেল যুক্ত ফলমুল, মাছ বর্জনের জন্য দেশবাসীর প্রতি আহবান জানিয়ে ক্যাব নেতৃবৃন্দ বলেছেন ফল না খেলে মানুষ মরবে না। তবে বিষযুক্ত ফল ও মাছ খেলে জীবনহানিসহ সারা জীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।

বিবৃতিতে ক্যাব নেতৃবৃন্দ আরো বলেন বিগত ৫ মে’১৩ইং বিশ্বের ভোক্তাদের মুল সংগঠন ঈড়হংঁসবৎং ওহঃবৎহধঃরড়হধষ (ঈও) অংরধ ্ চধপরভরপ জবমরড়হ কঁধষধ খঁসঢ়ঁৎ ঙভভরপব এর প্রধান গং. ওহফৎধহর ঞযঁৎধরংরহমযধস এবং ঈড়হংঁসবৎং ওহঃবৎহধঃরড়হধষ (ঈও) অংরধ ্ চধপরভরপ জবমরড়হ কঁধষধখঁসঢ়ঁৎ ঙভভরপব এর চড়ষরপু ড়ভভরপবৎ উৎ. অহু গরঃরহ চট্টগ্রাম বন্দরে বিদেশ থেকে আমদানীকৃত নিরাপদ খাদ্য সংরক্ষণ, খালাস ও বাজারজাতকরণ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর, কাস্টামস, বিএসটিআই, কৃষি বিভাগের সংগনিরোধ কীটতত্ত্ব পরীক্ষাগার পরিদর্শন শেষে দেখা গেছে চট্টগ্রাম বন্দর ও বিভিন্ন স্থল বন্দর দিয়ে যে সমস্ত খাদ্য, ফল বাংলাদেশে আমদানী হচ্ছে তা কোন প্রকার পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়াই দেশের বাজারে বাজারজাত করা হচ্ছে। সেকারনে দেশের খাদ্য, ফলমুল এমনকি বিভিন্ন প্রাণী যা বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানী হচ্ছে তা কতটুকু স্বাস্থ্য সম্মত, রোগমুক্ত তা কোন ভাবেই পরীক্ষা নিরীক্ষা হচ্ছে না। একই ভাবে বিভিন্ন বাজারে গরু, মহিশ, ছাগল, মুরগীসহ বিভিন্ন পশু পাখি জবাই করার আগে প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা কর্তৃক সনদ দেয়ার বিধান ও স্বাস্থ্যসম্মত ভাবে জবাই ও সংরক্ষনের বিধান অনুসরন করা হচ্ছে কিনা তা দেখার কোন কর্তৃপক্ষ নেই। ফলে খাদ্য, ফলমুল ও মাংশ বাজারজাতকরণে বাংলাদেশ চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। এমতাবস্থায় এগুলো ক্রয়ের পুর্বেই সতর্কতা অবলম্বন জরুরী।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম মহানগরী ও বিভিন্ন উপজেলাসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলে হাটে বাজারে বিএসটিআই’র অনুমোদনহীন নকল পণ্যে সয়লাব, ঘি, মসলা, সেমাই, হোটেল রেস্তোরায় নোংরা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ভেজাল, পঁচা-বাসী খাবার পরিবেশন, ফরমালিন ও সার মিশ্রিত মাছ, ফলমুল-শাক সবজিতে ক্ষতিকর ক্যামিকেল মিশানো, ওজনে কম দেয়া, গরুর মাংশ বলে মহিষের মাংশ প্রদান, রাস্তার উপর খোলা ইফতারী বিক্রি, বিএসটিআইর সিল ছাড়া সীল বাটখারা ব্যবহার করে একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী সাধারন মানুষের জনজীবন মারত্মক হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। ফলে মাছে ফরমালিন, সার মিশ্রণ, ফল-শাকসবজিতে ফরমালিনসহ বিভিন্ন ক্যামিকেল মিশানোর কারনে বাজারের কোন কিছুই এখন মানুষ নিরাপদে-নির্ভয়ে খেয়ে পরে বাঁচার কোন সুযোগ নেই। সেকারনে ভেজালকারী ও ক্যামিকেল মিশ্রণকারীরা বর্তমানে সন্ত্রাসীদের থেকে ভয়ংকর সন্ত্রাসীতে পরিণত হয়েছে। তাদের মানববিধংসী তৎপরতার কারনে হাজার হাজার মানুষ অকালে মৃত্যবরণ করতে হচ্ছে নতুবা সারাজীবনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করতে হচ্ছে। অতচ এ সমস্ত ভেজাল ও অনিয়ম দেখার দায়িত্বে নিয়োজিত বিএসটিআই, সিটিকর্পোরেশনের স্যানিটারী ইন্সপেক্টর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, কারখানা ও দোকান পরিদর্শন পরিদফতর, পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজনের নিরবতার কারনে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এ ধরনের জঘন্য ধরনের অপরাধে জড়িত হচ্ছে। একদিকে মানুষ মুনাফাশিকারী কিছু ব্যবসায়ীদের ইচ্ছামতো দাম বাড়িয়ে-কমিয়ে এবং সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে জনগনের পকেট কাটছে এবং অন্যদিকে খেজুর, দেশী-বিদেশী বিভিন্ন ফলমূল, মাছে ফরমালিন ও বিভিন্ন ক্যামিকেল দিয়ে মানুষ হত্যা করছে। তাই এখন সময় এসেছে এসমস্ত অসাধু ব্যবসায়ী ও মজুতদারদের বাজারজাতকৃত পণ্য বয়কট করা ও তাদেরকে স্থানীয় ভাবে প্রতিহত করা।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন পবিত্র রমজান সংযমের মাস হলেও ব্যবসায়ীরা যেভাবে ১২ মাসের আয় ১ মাসে করতে চায়, তেমনি ভোক্তারাও সংযমের পরিবর্তে বেপরোয়া হয়ে উঠায় কাঁচা মরিচ, শসা, বেগুনী, পেয়াজসহ যাবতীয় ভাজাপুড়া গ্রহনে সতকর্তা অবলম্বনের পাশাপাশি ভোক্তা হিসাবে নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্য পণ্য ক্রয়ে সংযমী হওয়ার জন্য সকল পর্যায়ে ভোক্তা সংগঠন গড়ে তোলার আহবান জানান।

বিবৃতিতে যারা স্বাক্ষর করেন তারা হলেন ক্যাব কেন্দ্রিয় নির্বাহী কমিটি সদস্য এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব মহানগরের সভাপতি জেসসিন সুলতানা পারু, সাধারন সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, ক্যাব মহানগর নেতা অধ্যক্ষ দবির উদ্দীন, অধ্যক্ষ আবুল মনসুর হাবিব, আবদুল ওয়াহাব চৌধুরী, লকিয়ত উল্লাহ, হাজী ইকবাল আলী আকবর, জেলা সামাজিক উদ্যোক্তা পরিষদের সভাপতি সাংবাদিক এম নাসিরুল হক, ফজলুল গনি মাহমুদ, হাজী আবু তাহের, আলহাজ্ব আবদুল মান্নান, অঞ্চল চৌধুরী, কাজী ইউসুফ চৌধুরী, নারী নেত্রী আবিদা আজাদ, জানে আলম, সায়মা হক, আবু ইউনুচ, ইসমাইল ফারুকী, হারুন গফুর ভুইয়া, নাসিমা আলম, ঝর্না বড়–য়া, অধ্যাপক শাহনেয়াজ আলী মির্জা, অ্যাডভোকেট মাহবুবুল ইসলাম প্রমুখ।


আরোও সংবাদ