ফরমালিনমুক্ত ফল

প্রকাশ:| বুধবার, ২০ মে , ২০১৫ সময় ০৭:২১ অপরাহ্ণ

সাদা পাউডারের মতো দেখতে ফর্মালডিহাইড পানিতে সহজেই দ্রবণীয়। শতকরা ৩০ থেকে ৪০ ভাগ ফর্মালিনের জলীয় দ্রবণকে ফর্মালিন হিসাবে ধরা হয়। ফর্মালিন সাধারনত টেক্সটাইল, প্লাষ্টিক, পেপার, রং, কনস্ট্রাকশন ও মৃতদেহ সংরক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হয়। ফরমালিনে ফরমালডিহাইড ছাড়াও মিথানল থাকে। মানবদেহের জন্য মিথানলও খুব ক্ষতিকর। লিভার বা যকৃতে মিথানল এনজাইমের উপস্থিতিতে প্রথমে ফরমালডিহাইড এবং পরে ফরমিক এসিডে রূপান্তরিত হয়। ফলে দুটি উপাদানই শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

ফরমালডিহাইড চোখের রেটিনাকে আক্রান্ত করে কোষ ধ্বংস করে। দীর্ঘদিন ধরে ফরমালিনযুক্ত খাবার খাওয়ার অভ্যাস মানুষকে অন্ধ করে দিতে পারে। তাৎক্ষণিকভাবে ফরমালিন পেটের পীড়া, হাঁচি, কাশি, শ্বাসকষ্ট, বদহজম, ডায়রিয়া, আলসার, চর্মরোগসহ নানা রোগে ভোগাতে পারে। শরীরে উপস্থিত এসব রাসায়নিক পদার্থ ধীরে ধীরে লিভার, কিডনি, হার্ট, ব্রেনকে ধ্বংস করে দেয়। লিভার ও কিডনি অকেজো হয়ে যায়। হার্টকে দুর্বল করে দেয়। স্মৃতিশক্তিও লোপ পায়। গর্ভবতী মা আর শিশুদের জন্য ফরমালিনযুক্ত খাবার বেশি ক্ষতিকারক। ফরমালিনযুক্ত খাদ্য গ্রহণ করার ফলে পাকস্থলী, ফুসফুস ও শ্বাসনালিতে ক্যানসার হতে পারে। অস্থিমজ্জা আক্রান্ত হওয়ার ফলে রক্তশূন্যতাসহ ব্লাড ক্যানসারও হতে পারে। অর্থাৎ মৃত্যু অনিবার্য।

চলছে মধুমাস জৈষ্ঠ্য। দেশীয় নানা ফলের রসে ডুবতে মন উন্মুখ হয়ে থাকে। কিন্তু মধুর রসে ভরা ফলের সঙ্গে আসে ফরমালিনের ত্রাশ। তাই বলে কি লোভনীয় এসব ফল খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন? মোটেও না। কিছু সচেতনতা থাকলে এসব ফল খাওয়া যাবে নির্ভয়ে। আর তাই-

* বাজার থেকে আম বা লিচু যে ফলই আনুন না কেন, খাওয়ার আগে ধৈর্য্য ধরুন এক ঘণ্টা বা তার চেয়ে একটু বেশি সময়। এই সময় জুড়ে ফলগুলো পানিতে ডুবিয়ে রাখতে হবে। এতে করে ফরমালিনের মাত্রা কমবে ৬১%। মনে রাখতে হবে লিচুর রং টকটকে লাল বা মেজেন্টা করতে গাছেই রাসায়নিক স্প্রে করা হয়। তাই গাঢ় রঙের এসব মনোমুগ্ধকর লিচু না কেনায় ভালো।

* লবণাক্ত পানিতে ১ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখলে ফরমালিনের মাত্রা প্রায় ৯০% কমে যায়।

* একলিটার পানিতে ১০০ গ্রাম ভিনেগার মিশিয়ে যেকোনো ফল আধা ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখলে প্রায় ১০০ ভাগ ফরমালিন দূর হয়।

* খাওয়ার আগে ১০ মিনিট হালকা গরম লবণ মিশ্রিত পানিতে ফল ও সবজি ভিজিয়ে রাখলে প্রায় ১০০ ভাগ ফরমালিন দূর হয়।