ফটিকছড়ির উদালিয়া চা-বাগান বন্ধ!

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| রবিবার, ২৯ জুলাই , ২০১৮ সময় ১১:০১ পূর্বাহ্ণ

ফটিকছড়ির উদালিয়া চা-বাগানে বাগানে নতুন ব্যাবস্থাপকের যোগদান কেন্দ্র করে অসন্তোষ দেখা দেয়ায় কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন শ্রমিকরা।

শনিবার বাগান কর্তৃপক্ষের নোটিশে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এসময় বাগানে ভাংচুর ও কর্তৃপক্ষকে ঘেরাও করে রাখেন তারা। শ্রমিক সংগঠন পঞ্চায়েতের দাবি, ওই ব্যাবস্থাপক উক্ত বাগানে ইতিপূর্বে ব্যবস্থাপক থাকাকালে শ্রমিকদের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে মামলা করেছেন। এতে শ্রমিকরা নানাভাবে হয়রানীর শিকার হয়েছে। তাই উক্ত ব্যবস্থাপক বাগানের দায়িত্বে থাকতে পারবেন না।
বাগান কর্তৃপক্ষের নোটিশে জানানো হয়েছে, বাগানে নতুন ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম নিয়োগ পেয়ে ২৫ জুলাই কাজে যোগদান করলে সেদিন সকালে শ্রমিকেরা কর্মস্থলে এসে কাজে যোগদান না করে বেআইনী ধর্মঘটের ডাক দেয়। এসময় তারা বাগানের কার্যালয়, বিভিন্ন স্থাপনা এবং বাংলো ভাংচুর করে বিভিন্নভাবে শ্লোগান দিতে থাকে। বাগানের ব্যবস্থাপক তাদের নিবৃত করার চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হন। উল্টো ব্যবস্থাপকের উপর চড়াও হন শ্রমিকরা। পরে ২৬ জুলাই বাগান কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে শ্রমিক কর্মচারীদের কাজে যোগদানের জন্য অনুরোধ জানানো হয়। তাতেও শ্রমিকেরা কাজে যোগ না দেয়ায় বাগান কর্তৃপক্ষ বাগানের সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।

বাগানটিতে ৯৯৭ জন শ্রমিক এবং ৪২ জন কর্মচারী রয়েছেন। প্রতিনিদিন গড়ে সাড়ে ৫ হাজার কেজি চা উৎপাদন করে বাগানটি। অর্থনৈতিকভাবে প্রতিদিন তারা ৩৫ থেকে ৪০ লক্ষ টাকার ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক প্রদীপ কুমার জানান, দৈনিক ৩৫-৪০ লাখ টাকা ক্ষতি হচ্ছে বাগানের। এছাড়া উৎপাদিত চায়ের বিপরীতে সরকার হারাচ্ছে লাখ লাখ টাকা রাজস্ব।

বাগানের পঞ্চায়েত সাধারণ সম্পাদক বিজয় নায়েক বলেন, নতুন যোগদানকারী ব্যবস্থাপক নিয়ে আমাদের যত সমস্যা। এরআগে তিনি এই বাগানে ১৭ বছর চাকরি করেছেন। অনেক শ্রমিক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে তিনি হামলা-মামলা করেছেন। এবারও যোগ দিয়ে তিনি আমাদের উপর অত্যাচার চালাবেন এই ধারণায় আমরা তাকে বাগানে দেখতে চাই না।

বাগানের ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, কোম্পানি আমাকে ২৫ জুলাই থেকে নিয়োগ দেন। সে মতে বাগানে যোগদান করি। কিন্তু এতে একটি পক্ষের উস্কানিতে বাগানের শ্রমিকেরা কাজে যোগদান না করে ভাংচুর ও আমাকে মারধর করার চেষ্টা করেন। অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, কোম্পানির নির্দেশে কোনো মামলা হলে সে দায় আমার উপর বর্তাবে কেন। অন্যায়ভাবে আমি কারো বিরুদ্ধে মামলা করিনি।

ইউএনও দীপক কুমারা রায় বলেন, ‘ওই ব্যবস্থাকের তখনকার মানসিকতা আর বর্তমানের মানসিকতা এক নয়। শ্রমিকদের দাবি আমরা খতিয়ে দেখছি। আশা করি দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে।’

বাগানের মালিক মোস্তফা গ্রুপের চেয়ারম্যান হেফাজুতুর রহমান বলেন, কিছু শ্রমিক বাগানে বিশৃংখলা সৃষ্টি করেছে। তারা বাগানের কোনো আইন কানুন মানেন না। বাগানে নতুন ব্যবস্থাপক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তাকে মানতে চাচ্ছেন না।

আইনশৃংখলার অবনতির আশংকায় বাগান বন্ধ রাখা হয়েছে।