পড়ালেখার মনোবল হারায়নি কুতুবদিয়ার শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ:| সোমবার, ২০ জুন , ২০১৬ সময় ১০:৪৩ অপরাহ্ণ

বই খাতা

এস কে লিটন কুতুবী,
কুতুবদিয়া।

ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর তান্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে যাওয়া পরিবারের পড়–য়া ছেলে মেয়েদের বই খাতা জোয়ারের ¯্রােতে ভেসে গেলেও মনোবল হারায়নি তারা। কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপকূলের শত শত শিক্ষার্থীদের বই খাতা রোয়ানু কেড়ে নিলেও শিক্ষা ভিত্তির মনোবল কেড়ে নিতে পারেনি। তারা আবারো শুরু করে দিয়েছে লেখাপড়া। ঘর নেই তাতে কি হয়েছে, রাতের আধারে আলো নেই-তাতে কি হয়েছে, দিনের আলোতে লেখাপাড়া করে যাচ্ছি। এমন শক্ত মনোবল নিয়ে কথাগুলো বলে গেলেন আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের কাহারপাড়ার স্কুল পড়–য়া কাউছার বেগম। সে আলী আকবর ডেইল উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। গত ২১ মে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর আঘাতে লন্ডভন্ড হয়ে ঘরের ছালা উড়ে গেলে পানিতে ভেসে যায় কাইছার বেগমের বই খাতাও। এ সময় ঘরবাড়ি হারিয়ে কোন প্রকারে এক কাপড়ে পাশ্ববর্তী কুতুব আউলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেয়। চোখের সামনে ভেসে গেছে ঘরের প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রসহ বই খাতা। বই হারিয়ে কিছু দিন লেখা পড়া করতে পারেনি সে। পরে স্কুলের প্রধান শিক্ষক তাকে বইয়ের ব্যবস্থা করে দেয় বলে জানায় কাউছার বেগম। উপজেলায় তার মতো উত্তর ধুরুং কাইছারপাড়া গ্রামের চরধুরুং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সরোয়ার আলম একই কথা বলে গেলেন। সাগরের জোয়ারের পানিতে বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে ডুকে পড়লে সংসারের জিনিসপত্র বাদ দিয়ে সে বই খাতা নিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে চলে যায়। তার বই খাতা ছাড়া স্কুল ড্রেসসহ সংসারের সব কিছু জোয়ারে ভেসে যায়। জোয়ারে সংসারের সবকিছু ভেসে গেলেও তার মনে দুঃখ নেই। পড়ার বই রক্ষা করতে পেরে মহা খুশি। উত্তর ধুরুং এলাকার আফাজ উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজির হোসেন জানান, বিদ্যালয় কেসম্যান এলাকার ৯০ভাগ ঘরবাড়ি ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর আঘাতে পানির ¯্রােতে ভেসে গেছে। এসব এলাকার অধিকাংশ স্কুল পড়–য়া ছেলে মেয়েদের একই অবস্থা। কিন্তু শিক্ষার্থীরা ঘুর্নিঝড়ের আঘাতে বই হারালেও প্রতিষ্ঠান বন্ধ দেয়ার আগ পর্যন্ত স্কুলে যাওয়া বন্ধ করেনি। অবশ্য ঘূর্ণিঝড়ের এক সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষার্থীদের ভেসে যাওয়া বই হাতে তুলে দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অফিস কর্তৃপক্ষ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইএনওর) সালেহীন তানভীর গাজীর জানান, ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী পূনবাসন কমিটি গঠন করে শিক্ষার্থীদের হাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে পানিতে ভেসে যাওয়া শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়ার জন্য নিদের্শ দেন। জেলায় শিক্ষার হারে এগিয়ে থাকা এ উপজেলার অভিভাবক/ছাত্র-ছাত্রীরা বরাবরই লেখা-পড়ার প্রতি প্রবল আগ্রহী, বললেন মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রজব আলী। তাইতো রোয়ানুর আঘাতে বই ভেসে গেলেও তাদের মনোবল ভেসে যায়নি। আবারো পড়ার পরিবেশে তৈরী করেছে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার শিক্ষার্থীরা।


আরোও সংবাদ