প্লাস্টিক আগ্রাসন ও পলিথিন কারখানা বন্ধের দাবি

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ৫ জুন , ২০১৮ সময় ১১:৫৬ অপরাহ্ণ

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন ও নাগরিক সমাবেশের আয়োজন করেছে পরিবেশবাদী নাগরিক আন্দোলন পিপলস ভয়েস ও বাংলাদেশ রসায়ন সমিতি চট্টগ্রাম অঞ্চল।

সমাবেশ থেকে অবিলম্বে প্লাস্টিক আগ্রাসন বন্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি পলিথিনের উৎস সব কারখানা বন্ধ করে পাটশিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বান জানানো হয়।

মঙ্গলবার (৫ জুন) বিকেলে নগরের চেরাগি পাহাড় মোড়ে এ নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পিপলস ভয়েসের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মুহাম্মদ আতিকুর রহমানের সঞ্চালনায় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি শরীফ চৌহান।

সমাবেশে খেলাঘর চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি ডা. একিউএম সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্লাস্টিকের আগ্রাসনের কারণে বিশ্বের চিত্র আজ ভয়াবহ। আমাদের সংসদে পলিথিন নিষিদ্ধের বিল পাস হয়েছে। কিন্তু আইন থেকে লাভ কী, এর প্রয়োগ তো দেখি না। সব জায়গায় এখন প্লাস্টিকের ব্যবহার। রাষ্ট্রকে এক্ষেত্রে সর্বাগ্রে উদ্যোগী হতে হবে। পাশাপাশি পলিথিন দূষণ বন্ধে আমাদের সচেতন হতে হবে।

তিনি বলেন, একজন চিকিৎসক হিসেবে মা’দের বলতে চাই- প্লাস্টিকের প্যাকেটে মোড়ানো শিশু খাদ্য বিষক্রিয়ার সৃষ্টি করে। তাই এ ধরনের শিশুখাদ্য পরিহার করুন। প্লাস্টিক ও পলিথিন মাটিতে মেশে না, ক্ষয়ও হয় না। এর কারণে লিভার ও কিডনিসহ বিভিন্ন ধরনের জটিল রোগে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে।

পাটের ব্যবহার বাড়াতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডা. একিউএম সিরাজুল ইসলাম বলেন, চটের বস্তার ব্যাগ ব্যবহার করতে হবে। একটি মহল বাংলাদেশের পাটশিল্পকে ধ্বংস করতে পলিথিন-প্লাস্টিকের রমরমা বাণিজ্যকে রক্ষা করতে চাইছে। এটা কোনো ভাবেই করতে দেওয়া যাবে না।

বাংলাদেশ রসায়ন সমিতির চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কমিটির যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী বলেন, চট্টগ্রাম নগরীর ৬০ লাখ মানুষ যে পলিথিন ব্যবহার করে প্রায় পুরোটাই নালা-খাল হয়ে নদীতে পড়ছে। আর বাকি অংশ মাটির উর্বরতা বিনষ্ট করছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতের পৃথিবী আর বাসযোগ্য থাকবে না। নতুন প্রজন্মকে আমরা কেমন বিশ্ব দিয়ে যাচ্ছি তা আমাদের ভাবতে হবে। প্রাথমিকভাবে ক্ষতি কমাতে একই পলিথিন বা প্লাস্টিকের পুনঃব্যবহার করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদে এসব পণ্য ব্যবহার একেবারে বন্ধ করতে হবে।
শরীফ চৌহান বলেন, উৎস বন্ধ না হলে পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ করা যাবে না। দেশে এখনো শতাধিক পলিথিন কারখানা চালু আছে। সেসব কারখানা চালু রেখে শুধু আইন করে পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ করা যাবে না। পাশাপাশি প্লাস্টিকের ব্যবহারের কারণে বাংলাদেশের কয়েকটি শ্রম নির্ভর জনগোষ্ঠী তাদের জীবিকা হারাতে বসেছে। প্লাস্টিক পরিবেশ দূষণ করে এবং কখনোই পচে না। তাই প্লাস্টিককে নিরুৎসাহিত করে আমাদের দেশি শিল্পগুলোকে বাঁচাতে হবে।

কমিউনিস্ট পার্টির চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক অশোক সাহা বলেন, পলিথিন বর্জ্য ক্রমাগত বাড়ছেই। শৈশবে দেখেছি পাট দিয়ে ব্যাগ-বস্তা সবই হয়। প্লাস্টিকের বিকল্প হলো পাটজাত দ্রব্য। রাষ্ট্র পরিচালনাকারীদের এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা পলিথিন-প্লাস্টিকের পরিবর্তে পাটশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখবেন কি না।

সমাবেশে বক্তব্য দেন রাজনীতিক হাসান মারুফ রুমি, সংস্কৃতি সংগঠক সুনীল ধর, সংগঠক সেলিম আকতার পিয়াল, ‘ট্র্যাভেলিং চট্টগ্রাম’র প্রধান সম্পাদক কাজী এএমএম মমতাজুল ইসলাম, পটিয়া উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাজেদা বেগম শিরু, খেলাঘর সংগঠক অধ্যাপিকা ইন্দিরা চৌধুরী, রুমা বিশ্বাস ও কাবেরী আইচ, পরিবেশ সংগঠক তপন দে প্রমুখ।