প্রোটিয়াদের বধ করে টাইগাররা গড়লো আরেক ইতিহাস

প্রকাশ:| বুধবার, ১৫ জুলাই , ২০১৫ সময় ১১:০৮ অপরাহ্ণ

টানা চতুর্থবার
দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৯ উইকেটে হারিয়ে সিরিজ জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ।

শতরানের উদ্বোধনী জুটি গড়ে ফিরে গেছেন সৌম্য সরকার। তবে দলকে বড় জয়ের দিকেই নিয়ে যাচ্ছেন অর্ধশতক পাওয়া অন্য উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল।

২৫তম ওভারে ভাঙে বাংলাদেশের উদ্বোধনী জুটি। ইমরান তাহিরের বলে হাশিম আমলার হাতে ধরা পড়ার আগে ৯০ রান করেন সৌম্য সরকার।

ঢাকায় প্রথম দুই ওয়ানডেতে খুব একটা দর্শক না থাকলেও চট্টগ্রামে গ্যালারি প্রায় পূর্ণ। প্রায় দুই ঘণ্টার বৃষ্টিতেও দর্শক কমেনি, আবার খেলা শুরুর হওয়ার পর বরং দর্শক আরও বাড়ে; যথারীতি তারা ছিলেন স্বাগতিকদের ‘দ্বাদশ’ খেলোয়াড়ের ভূমিকায়।

দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের ২৩ ওভার পর বৃষ্টি নামলে প্রায় তিন ঘণ্টা খেলা বন্ধ থাকে। পরে খেলা শুরু হলে ম্যাচের দৈর্ঘ্য নেমে আসে ৪০ ওভারে।

বুধবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৯ উইকেটে ১৬৮ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকা। ডাকওয়ার্থ ও লুইস পদ্ধতিতে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৭০ রান।

আঁটসাঁট বোলিংয়ের পুরস্কারটা শুরুতেই পেয়ে যায় বাংলাদেশ। মুস্তাফিজুর রহমানের ভালো একটি বলে বোল্ড হয়ে যান কুইন্টন ডি কক।

চাপ বাড়াতে ষষ্ঠ ওভারেই সাকিব আল হাসানকে বোলিংয়ে আনেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। নিজের দ্বিতীয় ওভারেই ফাফ দু প্লেসিকে ফিরিয়ে দেন সাকিব। বিশ্বের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডারের বলে সুইপ করতে গিয়ে মুশফিকুর রহিমের গ্লাভসবন্দি হন দু প্লেসি।

টানা পাঁচ ওভারের প্রথম স্পেলের শেষ ওভারে আবার আঘাত হানেন সাকিব। দ্বাদশ ওভারে তার বলে সাব্বির রহমানের হাতে একবার জীবন পান হাশিম আমলা। তবে পরের ওভারেই দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ককে ফেরান সাকিব।

আমলাকে আউট করে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বোলার হিসেবে ওয়ানডেতে দুইশ’ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন সাকিব। একই সঙ্গে ওয়ানডের ইতিহাতে সবচেয়ে কম ম্যাচ খেলে চার হাজার রান ও দুইশ’ উইকেটের মাইলফলকে পৌঁছান তিনি।

বোলিংয়ে এসে প্রথম বলেই আঘাত হানেন মাহমুদউল্লাহ। এই অফস্পিনারের বলে বোল্ড হয়ে যান রাইলি রুশো। তার বিদায়ে অতিথিদের স্কোর দাঁড়ায় ৫০/৪। সেখান থেকে দলকে টেনে তোলেন ডেভিড মিলার-জেপি দুমিনি।

মিলার-দুমিনির বিপজ্জনক হয়ে উঠা ৬৩ রানের জুটি ভাঙার কৃতিত্ব মাশরাফির। তার বলে পয়েন্টে মিলারের দুর্দান্ত ক্যাচ তালুবন্দি করা সাব্বিরের অবদানও কম নয়। ‘কিলার’ মিলার ওয়ানডেতে মাশরাফির দুইশতম শিকার।

দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে নিজের তৃতীয় উইকেট নেন আগের দুই ওয়ানডেতে কোনো উইকেট না পাওয়া সাকিব। তার বলে উড়িয়ে সীমানা ছাড়া করতে গিয়ে লংঅনে সাব্বিরের ভালো ক্যাচে পরিণত হন ফারহান বেহারদিন। ৩৩ রানে তিন উইকেট নিয়ে সাকিবই বাংলাদেশের সেরা বোলার।

দ্বিতীয় ওয়ানডের মতো এবারও দারুণ এক কাটারে কাগিসো রাবাদাকে বোল্ড করেন মুস্তাফিজ। ইনিংসের শেষ ওভার করতে এসে কাইল অ্যাবটকে বোল্ড করে নিজের প্রথম উইকেট নেন পেসার রুবেল হোসেন। শেষ বলে সর্বোচ্চ ৫১ রান করা জেপি দুমিনিকেও আউট করেন তিনি।


আরোও সংবাদ