প্রিয় দলের পরাজয়ে হতাশ চট্টলাবাসী

প্রকাশ:| সোমবার, ৩০ নভেম্বর , ২০১৫ সময় ১১:৫৯ অপরাহ্ণ

যেমনটা ভাবা হয়েছিল, ঠিক তেমনই হয়েছে। রান পেয়েছে লাকি গ্রাউন্ড খ্যাত জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম। বিপিএলের চট্টগ্রাম পর্বের প্রথম ম্যাচে বরিশাল বুলস করেছে ১৭০ রান। জবাব দিতে নেমে শুরুতেই দলপতিকে হারায় চিটাগং ভাইকিংস। এরপর নিয়মিত বিরতীতে উইকেট হারিয়ে ১৩৭ রান তুলে স্বাগতিকরা। প্রিয় দলের এমন পরাজয়ে হতাশ চট্টলাবাসী। দলের এমন পরাজয়ে নিজেদের বোলিং ও ফিল্ডিং দুর্বলতা এবং ক্যাচ মিসকে দায়ী করেছেন ভাইকিংস দলপতি তামিম ইকবাল। ম্যাচ শেষে তামিম বলেন, ‘ম্যাচে তিনটি ক্যাচই মিস হয়নি, সেসব ছক্কায় পরিণত হয়েছে। এ তিনটি ক্যাচ মিস না হলে ফলাফল অন্যরকম হতো। আমির ছাড়া কেউ ভালো বল করতে পারেনি। আমাদের দলে তারকা আছে, কিন্তু তারা নিজেদের পারফরম্যান্স দেখাতে পারেননি।’poi2

বরিশাল বুলসের পক্ষে ২৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হওয়া কপার বলেন, ‘ক্যাচ মিস খেলার টানিং পয়েন্ট। নিজের পারফরমেন্সে আমি সন্তুষ্ঠ। আমি মনে করি এবারের প্রতিযোগিতায় আমাদের বোলিং লাইন আপ বেশ ভালো। আগামী ম্যাচগুলোতেও ভালো করার চেষ্ঠা থাকবে।’

এদিকে সতীর্থদের পারফরম্যান্সে অসন্তুষ্ঠ তামিম বলেন, কামরান আকমল যেভাবে রান আউট হয়েছে, সেটা স্কুল বয়দের মতো আচরণ। শুরুতে উইকেট চলে যাওয়া, অতিরিক্ত উয়াইড, চিগুম্বুরার বেশী রান দেয়ায়। বিদেশী খেলোয়াড়দের নিয়ে আশা ছিল, কিন্তু চার বিদেশীই প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে পারেননি। যা চেয়েছিলাম তার উল্টোটা হয়েছে। সঠিক সময়ে আমরা সঠিক কাজটি করতে পারিনি।

poi3ম্যাচের শুরুতে প্রথম বলে কোন রান নয়, দ্বিতীয় বলে চার, তৃতীয় বলে ওপেনার লুইস আউট। বল হাতে ছিলেন দিলশান। প্রথম ওভারে ৯ রান। দ্বিতীয় ওভারে বল হাতে আসেন আমির। দ্বিতীয় বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে শুন্য রানে রনি তালুকদারকে ফেরান তিনি। এ ওভারে মাত্র এক রান দেন আমির। তৃতীয় ওভারে বল হাতে আসেন শফিউল। নিজের ওভারের দ্বিতীয় বলে সাব্বিরকে ফেরান তাও এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে। ১২ রানে পড়ে যায় বরিশাল বুলসের তিন উইকেট। তৃতীয় ওভারে আসে তিন রান।

এবার দলের হাল ধরেন মেহেদী মারুফ ও মাহমুদুল্লাহ। এ জুটি থেকে আসে ৪০ রান। নয় ওভারের শুরুতেই ২৮ রান করে জিয়াউরের বলে ও আসিফ হাসানকে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন মেহেদী মারুফ। দলীয় ৬৩ রানে আসিফের বলে এলবিডব্লিউও ফাঁদে পড়ে ৭ রান করে বিদায় নেন নাদিফ। ফের জুটি গড়েন মাহমুদুল্লাহ ও প্রসন্ন। ৩৬ রান করে আমিরের বলে প্রসন্ন আউট হলে ৬১ রানে জুটি ভাঙে। ১৭ ওভারের শেষ বলে উইকেট কিপারকে ক্যাচ দিয়ে ৪৫ বলে ৫১ রানের ইনিংস খেলে বিদায় নেন বরিশাল দলপতি। কপার ও সামির ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ১৭০ রান সংগ্রহ করে বরিশাল বুলস। ২০ রান দিয়ে দুই উইকেট নেন আমির। এছাড়া ২৪ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন ভাইকিংসের অলরাউন্ডার জিয়াউর রহমান।poi4

জবাব দিতে নেমে ব্যক্তিগত ৬ রান করে আল আমিনের বলে কপারকে ক্যাচ দিয়ে সাঁজঘরে ফিরেন ভাইকিংস দলপতি তামিম ইকবাল। একই ওভারে পরপর তিনটি বাউন্ডারি হাঁকান দিলশান। তৃতীয় ওভারের শুরুতে রানআউটে শুন্য রান করে কামরান আকমল বিদায় নিলে চাপে পড়ে যায় স্বাগতিকরা। এরপর ১৯ রান করে দিলশান, ১২ রান করে এনামুল হক ও ৫ রানে চিগুম্বুরা বিদায় নেন। দলীয় ১০ ওভার শেষে ৫১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে তখন ব্যাকফুটে চলে যায় তামিম বাহিনী। শেষ ১০ ওভারে তখন দরকার ১২০ রান। এরপর লড়াইটা চালিয়ে যান নাঈম ইসলাম ও জিয়াউর রহমান। ১৩ রান করে জিয়াউর বিদায় নিলে দলের হাল ধরেন আমির ও নাঈম। দুই ওভার বাউন্ডারিতে ২০ রান করে আমির বিদায় নেওয়ার পর দলীয় সর্বোচ্চ ৪০ বলে ৩৮ রান করে কপারের বলে ফেরেন নাঈম। ম্যাচের ১৯ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৩১ রান সংগ্রহ করা চিটাগং ভাইকিংস তখন ব্যবধান কমানোর চেষ্ঠায় ছিল। কিন্তু শেষ ওভারে মাহমুদুল্লাহর বলে পরপর দুই উইকেট হারানো তামিমের দল শেষ পর্যন্ত ১৩৭ রান তুলে।

ম্যাচ শেষে ভাইকিংসের অধিনায়ক তামিম ইকবাল বলেন, ম্যাচটি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু ম্যাচের মাঝখানে গিয়ে আমরা হেরে গিয়েছি। শেষ আট ওভারে বরিশাল বুলস ভাল ব্যাটিং করেছে। সব কৃতিত্ব বরিশালের ছেলেদের। বরিশাল বুলসের মাহমুদুল্লাহ বলেন, আমাদের টপ অর্ডার চাপকে মানিয়ে নিয়ে খেলেছে। উইকেটটি ব্যাটিংবান্ধব ছিল।