প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রকাশ:| শুক্রবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি , ২০১৭ সময় ১১:৫৫ অপরাহ্ণ

একজন প্রতিবন্ধী শিক্ষকের বদলির আবেদন অতঃপর যা প্রাপ্তি……………
আমি মোঃ কামরুল ইমলাম একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী, বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতি ইউনিয়নের ১৪০নং কাফিলা পল্লীমঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে কর্মরত আছি। ২০১০ সালে আমি প্রতিবন্ধী কোটায় সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পেয়ে কাফিলা গ্রামেই বসবাস করে আসছি। গত ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ মধ্যরাতে আমার বাড়ি ডাকাতি হয়। ডাকাতেরা ধারালো অস্ত্র ও পিস্তল ঠেকিয়ে আমাকে ও আমার পরিবারের সকল সদস্যকে জিম্মি করে নগদ টাকাসহ, স্বর্ণালংকার, কাপড় চোপড় ও মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়। লুট কৃত টাকার মধ্যে আমার জানুয়ারি’১৭ মাসের বেতনের টাকাও ছিল। বর্তমানে আমি এবং আমার পরিবার আর্থিক ও মানসিক ভাবে চরম বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছি। ডাকাতির পর বাকেরগঞ্জ থানার পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা স্বয়ং নিজেই সরেজমিনে এসে তদন্ত করে গিয়েছেন কিন্তু এতেও কোনো শুরাহা হয়নি। আমাকে বাড়ি ছাড়ার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকী দেওয়া হচ্ছে। ডাকাতির পর প্রতিটি রাত আমার এবং আমার পরিবারের আতঙ্কে কাটছে। এমতাবস্থায় কাফিলায় থেকে আমার মত অসহায় শারীরিক প্রতিবন্ধীর পক্ষে চাকরী করা কেনো মতেই সম্ভব নয়। আর তাই বিধি মোতাবেক আমি উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে বদলির আবেদন নিয়ে যাই। আমার বিদ্যালয়ের পোস্ট ৫ (পাঁচ) টি, কিন্তু কর্মরত আছি ৩ (তিন) জন। তাই উপজেলা শিক্ষা অফিসার আমাকে মহা পরিচালক বরারব আবেদন করতে বলেন। আমি তাঁর কথা মত বিগত ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ তারিখ বদলি নির্দেশিকা ২০১৫ এর ৩.১৩ ধারার আলোকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহা পরিচালক বরাবর আবেদন করি। আমার আবেদনের প্রেক্ষিতে উপজেলা শিক্ষা অফিসার ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ তারিখে ১১৮ নং স্মারকে বরিশাল জেলা প্রাথমিক অফিসার বরাবর চিঠি ইস্যু করেন। আমার মত সাধারণ শিক্ষকদের দৌরত্ব উপজেলা পর্যন্ত আমাদের সুখ দুঃখের কথা শুধু উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কাছেই বলতে পারি কিন্তু এর উপরের কোনো অফিসের বড় কর্মকর্তারা আমাদের মত সাধারণ শিক্ষদের আর্তনাত শুনতে পান না এমন কি শুনেতও চান না। যেটা হাঁড়ে হাঁড়ে টের পেয়েছি আমার বদলির আবেদন খানা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে নিয়ে গিয়ে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বিদ্যালয়ের তিন জন শিক্ষক কর্মরত জেনে এক বাক্যেই বলে দিলেন এ ধরনের বদলির আবেদন মহা পরিচালক বরাবর পাঠানো যাবেনা। অনেক অনুনয় বিনয় করার পর তিনি বললেন বিভাগীয় উপ-পরিচালক যদি সম্মতি দেন তবে আমি তোমার আবেদন তাঁর কাছে পাঠাবো। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও ঐ অফিসের দ্বিতীয় তলায় প্রাথমিক শিক্ষা বরিশাল বিভাগের উপ-পরিচালকের সাথে দেখা করি। তাঁর সম্মতি নিয়ে আবারো জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সাথে দেখা করি এবং বলি যে, ডিডি স্যারে সম্মতি দিয়েছেন। অতঃপর ঐ দিন তথা ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ তারিখে ৫৩৮ নং স্মারকে প্রাথমিক শিক্ষা বরিশাল বিভাগের উপ-পরিচালক বরাবর চিঠি ইস্যু করেন। ঐ দিন অপরাহ্নে আমি যখন উপ-পরিচালকের কাছে আমার আবেদন নিয়ে যাই তখন ডিডি স্যার আমাকে বলেন যে, তুমি যে কেনো এমপির (সংসদ সদস্যের) সুপারিশ নিয়ে আসো তবেই তোমার আবেদন মহা পরিচালক বরাবর পাঠাবো। দূরত্বের কারণে সেদিন আর বাড়ি ফিরতে পারিনি কষ্ট করে হোটেলে থেকে যেতে হয়েছে। পর দিন খুব হতাশ হয়ে বরিশাল থেকে বাড়ি ফিরে এলাম। এরপর একটি সপ্তাহ অনেক যোগাযোগ করার পরেও আমার মত শারীরিক প্রতিবন্ধীর পক্ষে এমপির সুপারিশ নেয়া সম্ভব হয় নি। বিগত ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ তারিখ বিকেলের দিকে আমি আবারও ডিডি স্যারের সাথে দেখা করি এবং বলি যে স্যার আমি এমপির সুপারিশ আনতে পারিনি, আপনি দয়া করে আমার আবেদন খানা মহা পরিচালক বরারর পাঠানোর ব্যবস্থা করে দিন। তিনি এরপর আরো কঠিন শর্ত আরোপ করেন এই বলে যে, তুমি মাননীয় মন্ত্রীর সুপারিশ নিয়ে আনো এরপর ঢাকায় পাঠাবো। বিগত ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ তারিখ আমি আবারও ডিডি স্যারের সাথে দেখা করতে যাই কিন্তু সে দিন তাঁর সাথে দেখা করা সম্ভব হয়নি। জানি না আমার আবেদন খানা মহা পরিচালক বরাবর পৌছাতে পারবো কি না। সরকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩ প্রণয়ন করেছে। যেখানে স্পষ্টভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার সম্পর্কে বলা আছে যে, ধারা ১৬ এর উপ-ধারা (১)/চ: প্রবেশগম্যতা; উপ-ধারা (১)/ট: নিপীড়ন হইতে সুরক্ষা এবং নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশের সুবিধাপ্রাপ্তি। মনে প্রশ্ন জাগে এই অধিকার তবে কাদের জন্য? বদলি নির্দেশিকার কোথাও বলা নাই যে, তিন জন শিক্ষক থেকে প্রতিবন্ধী শিক্ষকদের বদলি করা যাবে না। বরং স্পষ্টভাবে বদলি নির্দেশিকা ২০১৫ এর ৩.১৩ ধারায় বলা আছে যে, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩ এর ৩ ধারায় সংজ্ঞায়িত প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা বিবেচনায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বদলি করা যাবে।
আমার বিদ্যায়টি কিভাবে ৫ (পাঁচ) পোস্ট থাকা সত্ত্বেও কিভাবে আমরা তিন জন হলাম এবার সে কথায় আসি। বিগত ২০১৫ সালে এ বিদ্যালয়টি ৪ (চার) পোস্টের ছিল। ঐ বছর আমার বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক জনাব সুমি আক্তার প্রাথমিক শিক্ষা বরিশাল বিভাগের উপ-পরিচালক থেকে প্রতিস্থাপন সাপেক্ষে ৩১/৩/২০১৫ একটি বদলির আদেশ করান। যার স্মারক নং উপ-পরি/প্রাশি-বরি/­প্রশা-৩/বদলী/শিক্ষক/ বরিশাল (আন্তঃউপজেলা)/২০১৫-৪৬৭/৭। স্মারকে আন্তঃউপজেলা বলা থাকলেও জনাব সুমি আক্তার মূলত বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ থেকে পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার আমড়াগাছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি হয়ে চলে যান। কিন্তু দুঃখের বিষয় তাঁর প্রতিস্থাপিত শিক্ষক জনাব সৈয়দা আফরোজা জাহান সহকারী শিক্ষক সাহেবেরচর চৌধুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গৌরনদী, বরিশাল আজোব্দি কাফিলা পল্লীমঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেননি। ঐ বছরই ৪(চার) পোস্টের বিদ্যালয়টি আমরা তিনজন শিক্ষক চালাই। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে আমরা প্রাকের শিক্ষক পাই। ফলে বর্তমানে আমার বিদ্যালয়টি ৫(পাঁচ) বিশিষ্ট হয়। কিন্তু আরো অবাক করার বিষয় ২০১৬ সালে ঘটে। প্রাকের শিক্ষকসহ যখন আমরা কর্মরত ৪(চার)জন শিক্ষক। অত্র বিদ্যালয়ের আর একজন সহকারি শিক্ষক জনাব মাহফুজা আকতার কোন রূপ প্রতিস্থাপন ছাড়াই বাকেরগঞ্জ উপজেলায় নতুন জাতীয়করণ বিদ্যালয় তথা পূর্ব ভরপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি হয়ে চলে যান। সেই থেকে আমার বিদ্যালয়টি ৫ (পাঁচ) পোস্ট থাকা সত্ত্বেও আমরা কর্মরত তিন জন শিক্ষক। যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আমার প্রশ্ন দুটো এক. বদলির নির্দেশিকায় প্রতিবন্ধী শিক্ষকদের আলাদা করে ৩.১৩ ধারায় বদলির করার কথা উল্লেখ থাকলেও আমি কেন তিন পোস্টের খোঁড়া অযুহাতে শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা বিবেচনায় বদলির সুযোগ পাব না? দুই. যে দু’জনের কারণে আজ আমরা বিদ্যালয়টি তিন পোস্টের শিকার তাঁরা বদলি নির্দেশিকার কোন ধারায় বদলি হতে পেরেছে?
মোঃ কামরুল ইসলাম (শারীরিক প্রতিবন্ধী)
সহকারী শিক্ষক
১৪০ নং কাফিলা পল্লীমঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
বাকেরগঞ্জ, বরিশাল।