প্রাণের স্পর্শে জেগে উঠেছিল পুরো চট্টগ্রাম

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১৪ এপ্রিল , ২০১৬ সময় ১১:০০ অপরাহ্ণ

ডিসি হিল, সিআরবি, বাওয়া স্কুল, লালদীঘি কিংবা চারুকলা ইন্সটিটিউটই শুধু নয় প্রাণের স্পর্শে জেগে উঠেছিল পুরো চট্টগ্রাম। একদিন আগেও যারা ছিলেন একে অন্যের অচেনা, দারিদ্র্যতা আর আভিজাত্য যাদের মাঝে রচে দিয়েছিল দুর্লঙ্ঘ ব্যবধান, তারা সকলেই একইসাথে অংশ নিয়েছেন মঙ্গল শোভাযাত্রায়। এ সম্মিলনী শক্তিইতো বাঙালিকে শত দুঃখ কষ্ট যন্ত্রণা সয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর প্রেরণা যুগিয়ে চলেছে হাজার বছর ধরে। তাই পহেলা বৈশাখের দিনটিতে প্রখর রৌদ্রের খরতাপ কিংবা যানজট কোনটিই বাধা হতে পারে নি। হয়তোবা শারীরিক কষ্ট হয়েছে কিছুটা। কিন্তু অতীতের সকল গ্লানি, কালিমা বিসর্জন দিয়ে নতুনে ম্লান করে শুদ্ধ হওয়ার আনন্দের কাছে তা ছিল তুচ্ছ।
কোমল আশাবরী ও ভৈরব রাগে ডিসি হিলে বর্ষ বরণ: নগরীর জামাল খান পার হতে হতেই কানে ভেসে এলো কোমল আশাবরী ও ভৈরব রাগের সুর। ভোর ৬টায় ওস্তাদ আজিজুল ইসলামের কোমল আশাবরী ও ভৈরবী সুরে বংশীবাদনের মধ্য দিয়ে ডিসি হিলে নতুন বছরকে বরণ করলো বাঙালি। ততক্ষণে জনস্রোত চেরাগী পাহাড় ছাপিয়ে যেতে বসেছে। ‘পহেলা বৈশাখ বাঙালির উৎসব সবার যোগে জয়যুক্ত হোক’ এ স্লোগানে সম্মিলিত পহেলা বৈশাখ উদযাপন পরিষদ বর্ষ বরণের সবচেয়ে বড় আয়োজনটি করে ডিসি হিলে।
প্রাণের স্পর্শে জেগে উঠেছিল পুরো চট্টগ্রাম৩

প্রাণের স্পর্শে জেগে উঠেছিল পুরো চট্টগ্রাম
এবার নিরাপত্তাজনিত কারণে সারা দেশে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান সন্ধ্যার মধ্যেই শেষ করতে বলা হয়। তাতে নগরবাসীর মন ভরেনি পুরোপুরি। তবু যা-ই আয়োজিত হয়েছে তা-ই বা কম কী?
ভোর থেকেই হাজার হাজার মানুষ, ছেলে বুড়ো সকলের হাতে কিছু না কিছু আছে। কারো হাতে পাখা, কারো বা মাটির ব্যাংক, খেলনা, মুড়ি মুড়কি। তারুণ্যের রূপ রস গন্ধে মাতোয়ারা পুরো এলাকা। ভালোবাসার মানুষটির সাথে হাতে হাত রেখে পথ চলতে চলতে খিলখিলিয়ে হাসছে কেশবতী কন্যা, এ ধরনের দৃশ্য ছিল চারদিকেই। ঢোলের বোলে বৈশাখ ততক্ষণে বেশ আসর জমিয়ে বসেছে ডিসি হিলের নজরুল স্কোয়ার মঞ্চে। এর মাঝেই কেউ কেউ ব্যস্ত হাল আমলের ফ্যাশন মুঠোফোনে সেলফি তোলায়। বেলা বাড়ছে, বাড়ছে রৌদ্রকরোটির উত্তাপ। কিন্তু কে আর তাকে মান্য করে? ডিসি হিল থেকে চেরাগী পাহাড়, এনায়েত বাজার কিংবা নন্দনকানন, যেদিকেই চোখ যায় মানুষ আর মানুষ। দেড়শ পুলিশ, সাথে আছে ৪০ মহিলা পুলিশ, আছে র‌্যাবের টহল টিম, কিন্তু এতো বিশাল জনস্রোত সামাল দিতে গলদঘর্ম তারা। ছিল বৈশাখী মেলা। মিষ্টি খাবার থেকে মাটির জিনিসপত্র, হাল আমলের মুখোশ থেকে ব্যাটম্যান কিংবা মিকি হাউসের পুতুল, তরমুজ থেকে চিপস, আইসক্রিম-নানা সমাহারে বৈশাখী মেলা পূর্ণ ছিল সন্ধ্যা পর্যন্ত।

সিআরবির শিরীষ তলায় বৈশাখ এলো : সকাল থেকে শুরু হয় বাঙালির প্রাণের উৎসব। বাংলাদেশ রেলওয়ের সহযোগিতায় এ উৎসবের আয়োজন করেছে নববর্ষ উদযাপন পরিষদ চট্টগ্রাম। সকাল আটটায় ‘ভায়ালিনিস্ট চিটাগাং’ এর ‘এসো হে বৈশাখ’ যন্ত্রসঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে এবার বৈশাখকে স্বাগত জানালো বাঙালি। এরপর ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’ গানের মধ্য দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানায় সংগীত ভবনের শিল্পীরা। তবে তার আগে থেকেই সিআরবির অনুষ্ঠানস্থলে সাত রাস্তা দিয়ে ছুটছে লাল পেড়ে সাদা শাড়ি, পাঞ্জাবি ও ফতুয়া পরিহিত পুরুষ রমণীরা। রমণীর খোঁপাতে বেলী ফুলের মালা, প্রিয় মানুষটির বাহুডোরে বাঁধা মানুষটিকে নিয়ে যে যার মতো জায়গায় বসে উপভোগ করছে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান। সকাল থেকে কখনো আবৃত্তি, কখনো সম্মিলিত কণ্ঠে অথবা একক কণ্ঠে গান, কখনো আবার নাটক আর নৃত্যের অপূর্ব ভঙ্গিতে নতুন বছর এলো মন রাঙিয়ে নতুনের বারতা নিয়ে।


আরোও সংবাদ