প্রাক্তন ছাত্রলীগ সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার পুনর্মিলনী

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২৫ এপ্রিল , ২০১৭ সময় ১২:০২ পূর্বাহ্ণ

প্রাক্তন ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার পুনর্মিলনী, আলোচনা সভা, সংবর্ধনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও র‌্যাফেল ড্র অনুষ্ঠান গত ২১ এপ্রিল রাতে কক্সবাজারস্থ হোটেল কক্স টুডেতে সাবেক ছাত্রনেতা মদিনা আওয়ামী ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক আমির উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন রূপালী ব্যাংকের পরিচালক, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জননেতা আবু সুফিয়ান। দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আবুল কালাম আজাদ ও চট্টগ্রাম আইনকলেজ ছাত্রসংসদের সাবেক জি, এস জসিম উদ্দীন মিঠুনের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক সাবেক ছাত্রনেতা অহিদ সিরাজ চৌধুরী স্বপন, সমাজসেবক রফিক আহমদ চৌধুরী, সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি মাষ্টার ফরিদুল আলম, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি চট্টগ্রামের সহ সভাপতি নুরুল কবির চৌধুরী, সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি বশির আহমদ চৌধুরী, হোটেল কক্স টুডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল কৈয়ুম চৌধুরী, লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি এ. এইচ. এম গণি সম্রাট, চন্দনাইশ উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হেলাল উদ্দীন চৌধুরী, সাতকানিয়া কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাসুদ পারভেজ, লোহাগাড়া ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জব্বার, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য শহীদুল ইসলাম পিন্টু, সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. নেজাম উদ্দীন, সাতকানিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হুমায়ুন কবির চৌধুরী। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সমাজসেবক মোসলেম কবির, মো. দেলোয়ার হোসেন, রেজাউল কামাল বেলাল, দক্ষিণজেলা যুবলীগের সহ সভাপতি শহীদুল ইসলাম, সাতকানিয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি এ. কে. এম. আসাদ, পৌরসভা যুবলীগের সভাপতি সাইফুল আলম সোহেল, সহ-সভাপতি মো. ইলিয়াস উদ্দীন ইনু, সাবেক ছাত্রনেতা মাঈনউদ্দীন টিপু, মুজিবুর রহমান পিন্টু, আজিজুল হক, মো. কায়সার, মো. শাহজাহান, কাজী আসাদুজ্জামান, ফরমান উল্লাহ চৌধুরী, সাতকানিয়া উপজেলা যুবলীগের সহ সভাপতি আব্দুস সোবহান, সাতকানিয়া বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম, আব্দুল হাকিম সুমন, মদিনা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জমির উদ্দীন, মো. জসিম উদ্দীন চৌধুরী, সাতকানিয়া উপজেলা যুবলীগের সহ সভাপতি এ, টি, এম, সাইফুল আলম, মো. আশরাফ আলী, দিল মোহাম্মদ, মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন, মুহাম্মদ আসিফ ইকবাল, সাতকানিয়া উপজেলা ছাত্রলীগনেতা মো. এনামুল হক, মো. আরিফ চৌধুরী, মো. জাবেদ চৌধুরী, মো. তারেক, মো. রিমন চৌধুরী, মহিউদ্দীন সরকার জনি, আকতার হোসেন, মহিউদ্দীন খোকন, লুৎফুর রহমান। সভার শুরুতে কোরআন তেলওয়াত করেন মো. আরিফুল ইসলাম।
সভায় প্রধান অতিথি আবু সুফিয়ান বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কর্মী হিসেবে দুঃসময়ে যারা ছাত্রলীগ করে স্বাধীনতার স্বপক্ষে কাজ করেছেন দেশপ্রেমে উদ্ধুদ্ধ হয়ে তাদেরকে আবারও এগিয়ে আসতে হবে। ছাত্ররাজনীতির গৌরবোজ্জল ইতিহাস ফিরিয়ে আনার মধ্যে দিয়ে দেশের অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখতে হবে। আজকের এই পুনর্মিলনী একটি মহৎ উদ্যোগ। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কর্মীরা যে যেখানে থাকুক না কেন প্রত্যেকেই ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে আন্তরিক। আজ বিশ্ববাসী বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রশংসা করছে। বাংলাদেশ এখন মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হতে যাচ্ছে। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে। বিদেশিরা বাংলাদেশে ব্যবসায় বিনিয়োগ করছে। তিনি বলেন, প্রবীণ রাজনীতিবিদদের সম্মান করতে হবে এবং তাদের কাছ থেকে নবীনদের শিখতে হবে। নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে রাজনীতিতে গুণগত উৎকর্ষ সাধিত করতে হবে। আমি দেখেছি- সাতকানিয়ার সাবেক সাংসদ জননেতা আবু ছালেহ, মরহুম এম সিদ্দিক, ডাঃ বি. এম. ফয়েজুর রহমান, অধ্যাপক নাজিম উদ্দিন, অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম বাদশা, ডা. শফিকুর রহমানসহ আরো অনেকে, তারা প্রত্যেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একনিষ্ঠ কর্মী ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে দলকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছেন। সেই ভূমিকার প্রতিফলন বর্তমান ছাত্র নেতৃত্বে ঘটাতে হবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য। তিনি বলেন, আমি ১৯৮২ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্বকালীন সময়ে প্রতিটি ইউনিট বিশেষ করে উপজেলা, ইউনিয়ন, স্কুল কলেজ ও ওয়ার্ড কমিটি সম্মেলনের মাধ্যমে সম্পন্ন করেছি। সকলের সমন্বয়ে দায়িত্ব সম্পন্ন দক্ষ ও মেধাবী ছাত্রদের নেতৃত্বে আনার চেষ্টা করেছি। নেতৃত্ব সৃষ্টিতে নিজের পছন্দের বিষয়কে নয় সামগ্রিক দক্ষ ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্বকে প্রাধান্য দিয়েছি। তিনি বলেন, রাজনীতি হলো মানুষের পাশে থাকা, মানুষের কল্যাণে কাজ করা। এখানে ব্যক্তিগত চাওয়া পাওয়া বড় নয়। দলের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকবে। কিন্তু সেই প্রতিযোগিতার মধ্যে পরস্পরের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও শৃঙ্খলাবোধ থাকতে হবে। সর্বোপরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যে বহু উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন হয়েছে তা প্রান্তিক জনগণের মাঝে তুলে ধরতে হবে। নেতাদের সাধারণ মানুষের পাশে থাকতে হবে সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবেও মানুষের কল্যাণে অবদান রাখতে। সভা শেষে সাবেক নেতবৃন্দদের সম্মাননা ক্রেস্ট, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, র‌্যাফেল ড্র বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ করা হয়।