প্রশ্নপত্র ত্রুটির কারণে গ্রেপ্তারকৃত ১৩ জন শিক্ষকের মুক্তির দাবি

প্রকাশ:| রবিবার, ২৭ আগস্ট , ২০১৭ সময় ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ

সাংবাদিক সম্মেলনে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির কর্মসূচি ঘোষণা
২৭ আগস্ট রবিবার ৬ উপজেলা সদরে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি পেশ
২৮ আগস্ট সোমবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে শিক্ষক সমাবেশ

 

প্রশ্নপত্রে ত্রুটির কারণে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার ৬ উপজেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সহ ১৩ জন শিক্ষকের মুক্তির দাবিতে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি চট্টগ্রাম আঞ্চলিক শাখার নেতৃবৃন্দ।  শনিবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির চট্টগ্রাম আঞ্চলিক শাখার সাধারণ সম্পাদক অঞ্চল চৌধুরী। তিনি আজ রবিবার (২৭ আগস্ট) দক্ষিণ চট্টগ্রামের বোয়ালখালী, পটিয়া, আনোয়ারা, বাঁশখালী, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ উপজেলা সদরে মানববন্ধন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি এবং আগামীকাল সোমবার (২৮ আগস্ট) বিকেল ৩ ঘটিকায় শিক্ষক সমাবেশ ও মানববন্ধনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা সুনীল চক্রবর্ত্তী, বাশিস চট্টগ্রাম আঞ্চলিক শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ লকিতুল্লাহ, বাংলাদেশ কলেজ বিশ^বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক উত্তম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ আবুল মনসুর হাবিব, বাকবিশিস কেন্দ্রীয় সদস্য অধ্যাপক কানাই দাশ, বাকবিশিস চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক তড়িৎ ভট্টাচার্য্য, বাশিস চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপদেষ্টা শান্তি রঞ্জন চক্রবর্ত্তী, বাশিস চট্টগ্রাম মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কানুনগো, চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সভাপতি রঞ্জিত নাথ, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সভাপতি ওসমান গণি, চট্টগ্রাম অঞ্চলের যুগ্ম সম্পাদক শিমুল মহাজন ও মোঃ আলতাজ মিয়া প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০১৬ সনে মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা সমন্বিতভাবে চলাকালে ১৭ জুলাই অনুষ্ঠিত ৯ম শ্রেণির বিজ্ঞান শাখার “বাংলাদেশ ও বিশ^পরিচয়” বিষয়ের প্রশ্নপত্রের প্রণেতা বাঁশখালী বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক দুকুল বড়–য়া কর্তৃক প্রণীত একটি সৃজনশীল প্রশ্নের উদ্দীপকে স্থানীয় ঘটনার উল্লেখ করে গন্ডামারায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন উদ্যোগকালীন জনৈক ব্যক্তির নেতৃত্বে সংগ্রাম ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয় উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট প্রয়োগমূলক প্রশ্নে স্বাধীনতাত্তোর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনে কোন নেতার ভূমিকা সম্পর্কে পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা করতে বলা হয়। প্রশ্নপত্র প্রণেতা এই ত্রুটির কথা স্বীকার করে সম্মানিত চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মহোদয় নিকট প্রদত্ত লিখিত জবানবন্দিতে এই অনিচ্ছাকৃত ক্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশতঃ ১২/০৪/২০১৭ইং বাঁশখালী থানা কর্তৃপক্ষ থেকে যে প্রসিকিউশন রির্পোট দাখিল করা হয়েছে তাতে অভিযুক্ত ব্যক্তি হিসাবে সমন্বিত পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্ব পালনকারী সংগঠনের সংশ্লিষ্ট ছয়টি উপজেলা শাখার (বোয়ালখালী, পটিয়া, আনোয়ারা, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া ও বাঁশখালী) সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ১২ জন ও প্রশ্নপত্র প্রণেতা দুকুল বড়–য়া মোট ১৩ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রকৃত পক্ষে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতার মূল্যবোধে উজ্জীবিত প্রগতিশীল পেশাজীবী অরাজনৈতিক সংগঠন। তবে সচরাচরভাবে নেতৃবৃন্দ ব্যক্তিগত জীবনে স্বাধীনতার মূল্যবোধের স্বপক্ষের রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ^াসী। অভিযুক্ত কোন নেতা স্বাধীনতা বিরোধী কিংবা কথিত রাষ্ট্রবিরোধী কোন কার্যকলাপের সাথে কখনো জড়িত ছিলেন না, এখনও নেই।

তিনি আরো বলেন, উক্ত পরীক্ষার পরবর্তিতে বাঁশখালী থানা পুলিশ কর্তৃক প্রশ্নপত্র প্রণেতা দুকুল বড়–য়া ও বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি বাঁশখালী থানা সভাপতি তাহেরুল ইসলামকে ১৯/০৭/২০১৬ইং ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করেন। সভাপতি তাহেরুল ইসলাম ১৫ দিন ও প্রশ্নপত্র প্রণেতা দুকুল বড়–য়া ৪৯ দিন কারা ভোগের পর জামিনে মুক্তি লাভ করেন এবং পরবর্তিতে উক্ত মামলা ১৭/১১/২০১৬ইং খারিজ হয়। পরবর্তিতে বাঁশখালী থানা কর্তৃপক্ষের রির্পোটে ১২৪ ক ধারায় অভিযুক্ত হিসাবে উল্লেখের পর পুলিশের হয়রানি হতে মুক্তির জন্য উল্লেখিত ১৩ জন বিগত ১১/০৭/১৭ইং মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে আত্মসমার্পণ করে ৬ সপ্তাহের অগ্রিম জামিন লাভ করেন। উক্ত ১৩ জনের মধ্যে ৯ জন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও অবশিষ্ঠ ৪ জন সহকারী শিক্ষক জামিন মেয়াদান্তে গত ২৩/০৮/১৭ইং বাঁশখালীর মাননীয় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত উক্ত ১৩ জনকে কারাগারে প্রেরণ করেন। প্রকৃতপক্ষে অনিচ্ছাকৃত ত্রুটিপূর্ণ প্রশ্নপত্র প্রনয়নকারী শিক্ষক ও ১২ জন শিক্ষক নেতার বিরুদ্ধে আনীত ১২৪ ক ধারায় রাষ্ট্রদ্রোহমূলক কথিত অভিযোগ অত্যন্ত দুঃখজনক, অপমানজনক ও হয়রানিমূলক। প্রশ্নপত্র প্রণেতার ত্রুটি স্বীকার ও ক্ষমা প্রার্থনা সত্ত্বেও এই মামলা উক্ত ১৩ জন শিক্ষকের বিদ্যালয়ে দায়িত্বপালন সহ তাঁদের চাকরি ও বেতনভাতা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি করবে বিধায় তাঁদের পরিবার অবর্ণনীয় দুরবস্থায় পতিত হয়েছে। বিশেষত সমিতির ৬ উপজেলার ১২ জন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উক্ত ত্রুটিপূর্ণ প্রশ্নপত্র প্রণয়নে সরাসরি সম্পৃক্ত না থাকা সত্বেও কোন প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে ও প্ররোচনায় সমিতির কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্থ ও প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাঁদেরকে অভিযুক্ত করা হয়। তাই ন্যায় বিচারের স্বার্থে উক্ত মামলা প্রত্যাহারের সদয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রীর নিকট আবেদন করেছি।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ব্রিটিশ ভারতের অবিভক্ত বাংলায় ১৯২১ সনে প্রতিষ্ঠিত ‘নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতি’র ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে স্বাধীনতা উত্তরকালে আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন শিক্ষক নেতা, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একনিষ্ঠ সহযোগী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মন্ডলীর সদস্য ও দুইবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য মোঃ কামরুজ্জামানের হাতে গড়া মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতার মূল্যবোধে উজ্জ্বীবিত পেশাজীবী সংগঠন “বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি” শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, শিক্ষক সমাজের মর্যাদায়ন ও দেশে গণমুখী, বিজ্ঞানমনস্ক, যুগোপযোগী জাতীয় শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন সহ সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণকল্পে আতœনিবেদিতভাবে ভূমিকা পালন করে চলেছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, স্বাধীনতা উত্তরকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কর্তৃক নিয়োগকৃত “ড. কুদরাত ই খুদা শিক্ষা কমিশন শিক্ষানীতি এবং জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০” এর প্রণয়ন কাজে যথাক্রমে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ মোঃ কামরুজ্জামান, মিসেস হেনা দাশ ও অধ্যক্ষ এম.এ. আউয়াল সিদ্দিকী প্রমুখ সদস্য হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।