প্রশাসন যে সমন্বিত পদক্ষেপ নিয়েছে তার প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ:| সোমবার, ৭ এপ্রিল , ২০১৪ সময় ১১:১৪ অপরাহ্ণ

প্রশাসন যে সমন্বিত পদক্ষেপ নিয়েছে তার প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী প্রশাসন যে সমন্বিত পদক্ষেপ নিয়েছে তার প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রীনির্বাচনকালে এবং এর আগে ও পরে যেসব সহিংসতা হয়েছে সে বিষয়ে প্রশাসন যে সমন্বিত পদক্ষেপ নিয়েছে তার প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি আশা করেন ভবিষ্যতেও প্রশাসনের এ ধরনের কর্মকাণ্ড বহাল থাকবে।

সোমবার সবিচালয়ে অনুষ্ঠিত সচিবসভায় তিনি এ আশা প্রকাশ করেন বলে এক প্রেসব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা জানান।

লাখো কণ্ঠে সোনার বাংলা গাওয়ার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনরুজ্জীবিত হয়েছে জানিয়ে শেখ হাসিনা সচিবদের এ ধরনের অনুষ্ঠান করানোর পরামর্শ দেন।

প্রায় পৌনে চার ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত সচিব সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, সচিবসভা কোনো দাবি-দাওয়ার সভা নয়। এটা সরকার প্রধানের সঙ্গে সচিবদের একটি খোলামেলা মতবিনিময় সভা। এই সভায় সচিবরা বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মতামত প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন এবং প্রধানমন্ত্রী ওই মতামতের উপরে পরমর্শ দেন।

এদিকে সাধারণত সচিব সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি, প্রশাসন চালাতে বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরা হয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে। এমনকি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে তারা যে সমস্যায় পড়েন তাও তুলে ধরা হয়। কিন্তু মন্ত্রিপরিষদ সচিব এ বিষয়ে কিছু বলেননি। তিনি প্রেসব্রিফিংয়ে শুধু প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরেন।

মোশাররাফ জানান, প্রধানমন্ত্রী সরকারের ভিশন ও দর্শন ইত্যাদি বাস্তবায়নে তাগিদ দিয়েছেন। বিশেষ করে বিগত ৫ বছর সরকারের অর্জন সম্পর্কে সচিবদের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন।

নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে জনপ্রশাসনের ভূমিকা মূখ্য উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সরকারের ফিলোসফিগুলো সচিবদের পাঠ করা জরুরি। আর সেই আলোকে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী সচিবদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘নির্বাচিতরা একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আসেন। কিন্তু জনপ্রশাসন একটি স্থায়ী কাঠামো। তাই তাদের পেশাগত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে হবে।’ এ প্রসঙ্গে তিনি প্রশাসনে প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অর্থাৎ প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম আরো সম্প্রসারণ করতে বলেন।

মাঠপর্যায়ে পরিদর্শনের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সঠিক প্রকল্প বাছাই করতে হবে। যেসব প্রকল্প কোনো উপকারে আসবে না তা পরিহার করতে হবে। এজন্য প্রকল্প গ্রহণকালে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় সভা আরো জোরদার করতে হবে।’

খাদ্যে ভোজালরোধে সচেতনতা বাড়াতে হবে। প্রয়োজনে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে সম্পৃক্ত করার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।

অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বিল ও ভূমি উন্নয়ন কর বকেয়া আছে। এই বকেয়া বিল পরিশোধের ব্যবস্থা নিতে সচিবদের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

জেলা প্রশাসকরা প্রতি বুধবার গণশুনানি করেন। এটাকে আরো জোরদার করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। যাতে সব পর্যায়ে গণশুনানি হয়।

দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে জানিয়ে সচিদের শেখ হাসিনা বলেন, বিদ্যুৎ ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক বাড়াতে হবে। শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ালে চলবে না সাথে সাথে এর বিতরণও বাড়াতে হবে।

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘এ অর্থ বেশি করে টাকা দেয়া নয়, তারা যেন নিজেরাই নিজেদের অর্থে চলতে সক্ষমতা অর্জন করেন।’ এছাড়া প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে আরো বিকেন্দ্রীকরণ করতে প্রধানমন্ত্রী সচিবদের পরামর্শ দেন।


আরোও সংবাদ