প্রশাসন নীরব: আনোয়ারায় জমজমাট ইয়াবা বাণিজ্য

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২৮ জুন , ২০১৬ সময় ১১:০৪ অপরাহ্ণ

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ইমরান এমি. আনোয়ারা

দিন দিন বেড়েই চলেছে আনোয়ারায় ইয়াবা ব্যাবসার বাজার। উপক’লীয় এলাকাকে গুলোকে প্রধান রুট হিসাবে ব্যবহার করে আনোয়ারা থেকে পুরো চট্টগ্রামে রপ্তানি হচ্ছে ইয়াবা। কয়েক বছর আগেও যারা অর্থভাবে দিন কাটিয়েছিলেন সাগরে মাছ ধরে তারা এখন কোটিপতি, হয়েছেন কয়েকটি ট্রলারের মালিক। মাছধরা পেশার আড়ালে চালিয়ে যাচ্ছে ইয়াবা ব্যবসা। আর মিয়ানমার সীমান্ত থেকে আসা ইয়াবাগুলো খালাস হচ্ছে আনোয়ারা উপক’লীয় এলাকায়।
এদিকে দু’য়েকদিন পর পর ইয়াবার বড় বড় চালান আটক হলেও কোন তথ্য নেই আনোয়ারা থানা পুলিশের কাছে। বিগত দিনে আনোয়ারার দুটি অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দীন আনোয়ারাকে ইয়াবা ব্যবসায় এক নাম্বার বলার পর, বিগত ২৬ মার্চ আনোয়ারা উপজেলার বটতলী ডিগ্রী কলেজ মাঠে আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে প্রশাসনকে এক মাসের সময় সীমা বেধে দিয়েছিলেন ভ’মি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ইয়াবা ব্যবসা বন্ধে। কিন্তু সে কথায় কোন কান দেননি আনোয়ারা থানা পুলিশ। অভিযোগ আছে থানা পুলিশকে মাসোহারা দিয়ে চলছে এ ব্যবসা।
উপজেলার খোর্দ গহিরা এলাকার সোলায়মান ওরপে মানু মাছ ধরার ট্রলারের দিন মজুর শ্রমিক থেকে ২০০৫ সাল থেকে সাগর পথে ব্যানসন সিগারেটের ব্যবসা করতেন। এখন সে কোটিপতি, রয়েছে তার নিজস্ব তিনটি মাছ ধরার ট্রলার, যেগুলোর নাম দিয়েছেন খাজা আজমীর, আল্লাহর দান ও আল্লাহর দান-২। এগুলোর বর্তমানে দেখাশোনা করছেন তার ভাই সেলিম।
উপজেলার পারকি এলাকার আব্দুল জলিল আহমদ। মাছ ধরার আড়ালে সেও চালিয়ে আসছে ইয়াবা ব্যবসা। তার মালিকাধীন দুটি ট্রলারের মধ্যে আল্লাহর দান নামক একটি ট্রলার নিয়ে ৬০ হাজার ইয়াবাসহ গত বছরের ৬ আগষ্ট সেন্টমার্টিন এলাকায় ধরা পড়ে তার ছেলে ফরিদ।
অভিযোগ আছে র‌্যাবের সাথে বন্ধুক যুদ্ধে শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী আবু জাফর ওরপে জাপ্প নিহত হওয়ার পর থেকে তার স্থলাভিষিক্ত এখন পারকির সোলেমান ওরপে মানু ও আব্দুল জলিল আহমদ।
শুধু মানু আর জলিল নয় এ ব্যবসা করে কোটিপতি হয়েছেন আনোয়ারা উপক’লের অনেকে। এছাড়া এ ব্যবসায় যাদের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে তার মধ্যে পট্টি বদ ( পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলো ১বার), গহিরার শফিকুর রহমান, আব্দুল জলিল, চুন্নাপাড়া এলাকার ঈসমাইল, আবদুল জব্বার, বৈরাগ আমান উল্লাহ পাড়ার শেখ আহমদ ওরপে বাবা শেকু, হাজ্বী বাড়ীর আবু সৈয়দ, রায়পুরের নুরুল আমিন, খোর্দ গহিরা এলাকার জাহাঙ্গীর,জুইদন্ডীর টেনশন কামাল, কালা ছাদেক, কামাল, নুরুচ্ছাফা ও কালঅ কাশেম (মাস দু’য়েক আগে নগরীর লালদিঘী থেকে আটক হয়েছিলো, পওে জামিনে বের হয়ে আসে) সহ অনেকে। এদের কেউ ছোট ব্যবসায়, কেউ আবার বড়, আবার অনেকে আছে ইয়াবা বহন করে জায়গায় জায়গায় পৌছায় দেওয়ার কাজে।
আনোয়ারা উপজেলার উপক’লীয় এলাকা গহিরা, রায়পুর, জুইদন্ডী, বদলপুরাসহ পুরো এলাকায় ভয়াবহভাবে বিস্তার করেছে এ মরন নেশা ইয়াবা। বর্তমানে উল্লেখিত এলাকা ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়ছে বরুমচড়া, তৈলারদ্বীপ, বৈরাগ, চাতরী চৌমহনী বাজারসহ পুরো উপজেলায়।
গত বছরের ৫ জুলাই মোহাম্মদ উল্লাহ পাড়া থেকে র‌্যাবের হাতে ১ লাখ ৫০ হাজার ইয়াবা নিয়ে আটক হয়েছিলেন র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত জাফরের মামা আমির হোসেন। একই বছরের ৬ আগষ্ট সেন্টমার্টিন এলাকা থেকে ৫ কিলোমিটার দক্ষিণে কোস্টকার্ডের হাতে ৬০ হাজার ইয়াবাসহ ধরা পড়ে পূর্ব বৈরিয়া গ্রামে ঈসমাইলের ছেলে বাবুল (২৫), সরেঙ্গা এলাকার মুছার ছেলে আবদুল নূর, মুছা মিয়ার ছেলে আব্দুল হামিদ, রায়পুরের নতুন পাড়ার মৃত ছালেহ আহমদের ছেলে নুরুল আলম (২৭), খলিলুর রহমানের ছেলে শফি আলম (২৫), দক্ষিণ সরেঙ্গার মৃত আবদু জলিলের ছেলে হারুন (৪০), মৃত আব্দুল কাদেরের ছেলে আজিজ মাঝি (৪৫)। এব্যাপারে কোস্টগার্ড ষ্টেশন কর্মকর্তা এম মোক্তার হোসেন বাদী হয়ে টেকনাফ মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
ইয়াবা ব্যবসা বন্ধে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সরকারের ভ’মিপ্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ইয়াবা ব্যবসায়ীদের ব্যাপারে জিরো ট্রলায়েন্স নীতি অবলম্বন করে থানা প্রশাসনকে ইয়াবা ব্যবসায় বন্ধের নির্দেশ দিলেও বন্ধ হচ্ছে না মরননেশা ইয়াবা বানিজ্য।
সাম্প্রতিক সময়ে কোস্টগার্ড পূর্ব জোনের নেতৃত্বে ইয়াবার বড় বড় চালান আটক করলেও এর সাথে জড়িত কাউকে আটক করতে পারতেছে না তারা।


আরোও সংবাদ