‘প্রযুক্তির বিকাশ আমাদের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করেছে’

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর , ২০১৫ সময় ০৮:৩৫ অপরাহ্ণ

‘প্রযুক্তির বিকাশ 1প্রযুক্তির বৈপ্লবিক বিকাশ উন্নয়নশীল দেশকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, ‘প্রবল প্রতিযোগিতাপূর্ণ ও অগ্রসরমান এই বিশ্বে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বৈপ্লবিক বিকাশ, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করে তুলেছে। এখন পৃথিবীতে ‘যোগ্যতমের টিকে থাকা’ কথাটা কল্পনা নয়, অতি নির্মম এবং সত্যও বটে।’

‘বৈশ্বিক এই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে আমাদের বিশ্বমানের কারিক্যুলাম ও পাঠ পরিকল্পনা নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের গড়ে তুলতে হবে।’

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন।

আবদুল হামিদ বলেন, ‘উচ্চশিক্ষা হলো বিশ্বমানের জ্ঞানচর্চা, গবেষণা, নতুন নতুন জ্ঞান উদ্ভাবন ও সঞ্চারণের মাধ্যমে জ্ঞান ও দক্ষতায় পরিপূর্ণ মানব সম্পদ গড়ে তোলা। একইভাবে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতি সাধনের জন্য শিক্ষাকে সৃজনধর্মী, প্রয়োগমুখী ও উৎপাদন সহায়ক করে তোলা।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রফেসর ড. এ কে আজাদ চৌধুরী। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক, যশোর সদর আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহম্মেদ, যশোর– ৫ আসনের সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য, ঝিনাইদহ-৩ এর সংসদ সদস্য আব্দুল হাইসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের সুদূর প্রসারী দৃষ্টিভঙ্গি ও জনবান্ধব কার্যক্রম গ্রহণের ফলে বাংলাদেশ আজ মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হতে চলেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য, নারীর ক্ষমতায়ন, বিদ্যৎ, তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠাসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের অর্জন বিশ্বে প্রসংশিত। এখন লক্ষ্য জাতিসংঘ ঘোষিত ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন।’

তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস উন্নয়নের এ ধারা অব্যাহত থাকলে নির্ধারিত সময়ের আগেই বাংলাদেশ সমৃদ্ধ দেশে উন্নীত হতে পারবে। এ সব কর্মসূচি সফল বাস্তবায়নে গ্র্যাজুয়েট, গবেষক, শিক্ষকমণ্ডলীসহ সমাজের গুণী ও বিদগ্ধশ্রেণীর সর্বতোভাবে সহযোগিতা প্রয়োজন।’

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ৬০৪ জন ডিগ্রিধারীকে সনদ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ১৬ জন পদক লাভ করেন। এদের মধ্যে অনুষদের প্রথম স্থান অধিকারী পাঁচ জনকে চ্যান্সেলর স্বর্ণপদক, বিভাগের প্রথম স্থান অধিকারী পাঁচ জনকে ভাইস চ্যান্সেলর স্বর্ণপদক ও সিজিপিএ ৪ পয়েন্টের মধ্যে ৩ দশমিক ৫০ এর বেশি পয়েন্ট প্রাপ্ত ছয় জনকে ডিন পদক দেওয়া হয়।


আরোও সংবাদ