প্রমিলা ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানী’র প্রতিবাদে মানববন্ধন

প্রকাশ:| বুধবার, ২১ জুন , ২০১৭ সময় ০৬:১৭ অপরাহ্ণ

শাহ্ আলম শাহী,স্টাফ রিপোর্টার,দিনাজপুর থেকেঃ প্রমিলা ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানী ঘটনার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে দিনাজপুরবাসী। অভিযুক্ত কোচ মিঠু’র বিচারের দাবীতে আজ বুধবার মানববন্ধন পালন করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ,সেক্টরস কমার্ন্ডাস ফোরাম,খেলা ঘর,মনি মেলাসহ বিভিন্ন সংগঠন।যৌন হয়রানীর মুল হোতা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) জেলা কোচ ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাহী সদস্য আব্দুস সামাদ মিঠুর বিরুদ্ধে এখনও তেমন কোন কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহন না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন সংগঠন ও সুশীল সমাজের প্রতনিধিরাও। তারা বলছেন, এতোবড় ঘটনার পরও মিঠুকে বহাল তবিয়তে রেখে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম শুধুমাত্র কারন দর্শানো নোটিশ দেয়ায় হতবাক হয়েছে তারা।
এ ব্যাপারে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম জানান, প্রমিলা ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানীর ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর, মঙ্গলবার (২০ জুন) কোচ আব্দুস সামাদ মিঠুকে কারন দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে তাকে লিখিতভাবে জবাব দিতে বলা হয়েছে। এরপর প্রয়োজনে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
এদিকে, যৌন হয়রানীর মতো জঘন্য অপরাধের অভিযোগ পাওয়ার পরও মিঠুকে শুধু কারন দর্শানো নোটিশ দেওয়ায় হতবাক ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন দিনাজপুরের সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ।
এ প্রসঙ্গে দিনাজপুর নাগরিক উদ্যোগের সভাপতি ও সেক্টরস কমার্ন্ডাস ফোরামের সভাপতি আব্দুল কালাম আজাদ জানান, প্রমিলা ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানীর মতো গুরুতর অভিযোগ পাওয়ার পরও দিনাজপুর জেলা প্রশাসক তাকে (মিঠু) শুধুমাত্র একটি কারন দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন। তিনি জানান, এই ঘৃনিত অপরাধের অভিযোগে তাকে প্রথম বরখাস্ত বা বহিস্কার করা উচিত ছিলো এবং আইনের আওতায় আনা উচিত ছিলো। কিন্তু তা না করে তাকে (মিঠুকে) নামে মাত্র একটি কারন দর্শানো নোটিশ দিয়ে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন তিনি। এসময়, তিনি প্রমিলা ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানীর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে আব্দুস সামাদ মিঠুকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি’র দাবী জানান।
যৌন হয়রানীর প্রতিবাদ জানিয়েছে দিনাজপুরের বিভিন্ন সংগঠনও।দিনাজপুর জেলা খেলাঘর আসরের সভাপতি জলিল আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল মতিন সৈকত প্রমিলা ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানীর ঘটনায় তীব্র নিন্দা প্রকাশ এবং দোষী বিসিবির জেলা ক্রিকেট কোচ মিঠুকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবী করেছে।

এর প্রতিবাদে এবং মিঠুকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবীতে আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে বিভিন্ন সংগঠন।
মিঠুর বিরুদ্ধে প্রমিলা ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানীর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও উৎকন্ঠ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ দিনাজপুর জেলা শাখা।মহিলা পরিষদের সভাপতি কানিজ রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ড. মারুফা বেগম এক যৌথ বিবৃতিতে এই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।বিবৃতিতে তারা বলেন, এ জাতীয় নির্যাতনগুলো সমাজে বেড়েই চলেছে। এ ধরনের ঘটনাগুলোর যথাযথ তদন্ত ও সুষ্ঠু বিচার না হওয়া এবং প্রশাসনের উদাসীনতায় এর ভয়াবহ ক্রমশঃ বেড়ে চলেছে। নারীর লজ্জা সম্ভ্রম এভাবে ভুলুন্ঠিত হতে থাকলে সমাজে উন্নয়নের স্্েরাতধারা বাধাপ্রাপ্ত হবে। মানবিক মূল্যবোধের এই অবক্ষয় রোধ করতে মহিলা পরিষদের নেতৃবৃন্দ অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করছে।
উল্লেখ্য,যৌন হয়রানীর শাস্তি দাবী করে ভিকটিমের পিতা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার সিনিয়র সহ সভাপতি পুলিশ সুপার হামিদুল আলমের কাছ প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর জেলা প্রশাসক ব্যাবস্থা নিবেন বলে জানিয়েছেন।
যৌন হয়রানীর শিকার প্রমীলা ক্রিকেটারের পিতা গত ১৪ জুন জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিতভাবে অভিযোগ করে বলেছেন, তার মেয়ে দিনাজপুর বড় মাঠে কোচ আবু সামাদ মিঠুর অধীনে ক্রিকেট অনুশীলন করে আসছে। তার মেয়ের সাথে আরো অনেক মেয়ে ওই মাঠে ক্রিকেট অনুশীলন করে থাকে। গত ১ জুন মাঠে অনুশীলন করার সময় ক্রিকেট বলের আঘাতে আমার মেয়ে আহত হয়। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য মিঠু স্পোর্টস ভিলেজে নিয়ে আসে এবং সঙ্গে থাকা তার বান্ধবীকে মাঠে চলে যেতে বলে। মেয়েটি চলে গেলে মিঠু বরফ দেয়ার নাম করে আমার মেয়েকে জোর করে চেপে ধরে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করে। আমার মেয়ে যন্ত্রনায় ছোটফট করতে থাকে এবং ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয় আবারও মিঠু তাকে চেপে ধরে কয়েক বার এরকম আচরন করার পর আমার মেয়ে চিৎকার করলে তখন মিঠু মেয়েটিকে ছেড়ে পালিয়ে যায়।
লিখিত অভিযোগে তিনি আরো জানান, আমার মেয়ের বয়স মাত্র ১৫ বছর , সে নবম শ্রেণিতে পড়ে। জাতি সংঘের সনদ অনুযায়ী এখনও সে শিশু। ঘটনার পর আমার মেয়ে বাসায় ফিরে আসার পর থেকে নিরব হয়ে যায়- খাওয়া দওয়া, কথা বলা বন্ধ করে দেয়, মাঠে আসা বন্ধ করে দেয়। বাবা হিসেবে আমি কিংকর্তব্যবিমুড় হয়ে পড়ি। আমার মেয়েসহ অন্যান্ন মেয়েদের কথা চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিই এর প্রতিবাদ করা দরকার। তাই নায্য বিচারের দাবিতে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার সিনিয়র সহ সভাপতি পুলিশ সুপার হামিদুল আলমের কাছ প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেছি।। যাতে আর কোন মেয়েকে মিঠুর লালসার শিকার হতে না হয়। কারন আমি এই ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে যেয়ে আরো মেয়েদের কাছে জানতে পারলাম যে, অন্য মেয়েদের সাথেও সে এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে কিন্তু ভয়ে ও লজ্জায় এর আগে কেউ মুখ খুলেনি। অনেক মেয়ে ধীরে ধীরে মাঠ ছেড়ে দিয়েছে।
এ ব্যাপরে দিনাজপুর জেলা ক্রিকেট কোচ (বিসিবি) নির্বাহী সদস্য জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও প্রচেষ্টা ক্রিকেট কোচিং সেন্টারের ক্রীকেট কোচ আবু সামাদ মিঠুর কাছে জানতে চাইলে তিনি ঘটনা অস্বীকার করে বলেন তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে।
খেলার মাঠের সাথে জড়িত অনেক প্রবীণ ও নবীণ খেলোয়াড়ের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়,দীর্ঘদিন ধরেই অনেক প্রমিলা ক্রিকেটারদের সাথে যৌন হয়রানী অসৌজন্যমুলক আচরন করা হচ্ছে। শুধু মিঠু নয়,আরো দু’জন রয়েছে। যৌন হয়রানী’র শিকার মেয়েরা লোক লজ্জার ভয়ে কাউকে অভিযোগ করতে সাহস পায়না বলেই লম্পটরা এমন খারাপ কাজ করার সাহস পাচ্ছে। তারা তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ক্রিকেট কোচ আবু সামাদ মিঠুসহ আরো অন্য দু’জনকে খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন ।

প্রমিলা ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানী’র প্রতিবাদে
দিনাজপুরবাসী ফুঁসে উঠেছে
শাহ্ আলম শাহী,স্টাফ রিপোর্টার,দিনাজপুর থেকেঃ প্রমিলা ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানী ঘটনার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে দিনাজপুরবাসী। অভিযুক্ত কোচ মিঠু’র বিচারের দাবীতে আজ বুধবার মানববন্ধন পালন করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ,সেক্টরস কমার্ন্ডাস ফোরাম,খেলা ঘর,মনি মেলাসহ বিভিন্ন সংগঠন।যৌন হয়রানীর মুল হোতা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) জেলা কোচ ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাহী সদস্য আব্দুস সামাদ মিঠুর বিরুদ্ধে এখনও তেমন কোন কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহন না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন সংগঠন ও সুশীল সমাজের প্রতনিধিরাও। তারা বলছেন, এতোবড় ঘটনার পরও মিঠুকে বহাল তবিয়তে রেখে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম শুধুমাত্র কারন দর্শানো নোটিশ দেয়ায় হতবাক হয়েছে তারা।
এ ব্যাপারে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম জানান, প্রমিলা ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানীর ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর, মঙ্গলবার (২০ জুন) কোচ আব্দুস সামাদ মিঠুকে কারন দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে তাকে লিখিতভাবে জবাব দিতে বলা হয়েছে। এরপর প্রয়োজনে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
এদিকে, যৌন হয়রানীর মতো জঘন্য অপরাধের অভিযোগ পাওয়ার পরও মিঠুকে শুধু কারন দর্শানো নোটিশ দেওয়ায় হতবাক ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন দিনাজপুরের সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ।
এ প্রসঙ্গে দিনাজপুর নাগরিক উদ্যোগের সভাপতি ও সেক্টরস কমার্ন্ডাস ফোরামের সভাপতি আব্দুল কালাম আজাদ জানান, প্রমিলা ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানীর মতো গুরুতর অভিযোগ পাওয়ার পরও দিনাজপুর জেলা প্রশাসক তাকে (মিঠু) শুধুমাত্র একটি কারন দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন। তিনি জানান, এই ঘৃনিত অপরাধের অভিযোগে তাকে প্রথম বরখাস্ত বা বহিস্কার করা উচিত ছিলো এবং আইনের আওতায় আনা উচিত ছিলো। কিন্তু তা না করে তাকে (মিঠুকে) নামে মাত্র একটি কারন দর্শানো নোটিশ দিয়ে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন তিনি। এসময়, তিনি প্রমিলা ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানীর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে আব্দুস সামাদ মিঠুকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি’র দাবী জানান।
যৌন হয়রানীর প্রতিবাদ জানিয়েছে দিনাজপুরের বিভিন্ন সংগঠনও।দিনাজপুর জেলা খেলাঘর আসরের সভাপতি জলিল আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল মতিন সৈকত প্রমিলা ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানীর ঘটনায় তীব্র নিন্দা প্রকাশ এবং দোষী বিসিবির জেলা ক্রিকেট কোচ মিঠুকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবী করেছে।

এর প্রতিবাদে এবং মিঠুকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবীতে আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে বিভিন্ন সংগঠন।
মিঠুর বিরুদ্ধে প্রমিলা ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানীর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও উৎকন্ঠ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ দিনাজপুর জেলা শাখা।মহিলা পরিষদের সভাপতি কানিজ রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ড. মারুফা বেগম এক যৌথ বিবৃতিতে এই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।বিবৃতিতে তারা বলেন, এ জাতীয় নির্যাতনগুলো সমাজে বেড়েই চলেছে। এ ধরনের ঘটনাগুলোর যথাযথ তদন্ত ও সুষ্ঠু বিচার না হওয়া এবং প্রশাসনের উদাসীনতায় এর ভয়াবহ ক্রমশঃ বেড়ে চলেছে। নারীর লজ্জা সম্ভ্রম এভাবে ভুলুন্ঠিত হতে থাকলে সমাজে উন্নয়নের স্্েরাতধারা বাধাপ্রাপ্ত হবে। মানবিক মূল্যবোধের এই অবক্ষয় রোধ করতে মহিলা পরিষদের নেতৃবৃন্দ অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করছে।
উল্লেখ্য,যৌন হয়রানীর শাস্তি দাবী করে ভিকটিমের পিতা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার সিনিয়র সহ সভাপতি পুলিশ সুপার হামিদুল আলমের কাছ প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর জেলা প্রশাসক ব্যাবস্থা নিবেন বলে জানিয়েছেন।
যৌন হয়রানীর শিকার প্রমীলা ক্রিকেটারের পিতা গত ১৪ জুন জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিতভাবে অভিযোগ করে বলেছেন, তার মেয়ে দিনাজপুর বড় মাঠে কোচ আবু সামাদ মিঠুর অধীনে ক্রিকেট অনুশীলন করে আসছে। তার মেয়ের সাথে আরো অনেক মেয়ে ওই মাঠে ক্রিকেট অনুশীলন করে থাকে। গত ১ জুন মাঠে অনুশীলন করার সময় ক্রিকেট বলের আঘাতে আমার মেয়ে আহত হয়। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য মিঠু স্পোর্টস ভিলেজে নিয়ে আসে এবং সঙ্গে থাকা তার বান্ধবীকে মাঠে চলে যেতে বলে। মেয়েটি চলে গেলে মিঠু বরফ দেয়ার নাম করে আমার মেয়েকে জোর করে চেপে ধরে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করে। আমার মেয়ে যন্ত্রনায় ছোটফট করতে থাকে এবং ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয় আবারও মিঠু তাকে চেপে ধরে কয়েক বার এরকম আচরন করার পর আমার মেয়ে চিৎকার করলে তখন মিঠু মেয়েটিকে ছেড়ে পালিয়ে যায়।
লিখিত অভিযোগে তিনি আরো জানান, আমার মেয়ের বয়স মাত্র ১৫ বছর , সে নবম শ্রেণিতে পড়ে। জাতি সংঘের সনদ অনুযায়ী এখনও সে শিশু। ঘটনার পর আমার মেয়ে বাসায় ফিরে আসার পর থেকে নিরব হয়ে যায়- খাওয়া দওয়া, কথা বলা বন্ধ করে দেয়, মাঠে আসা বন্ধ করে দেয়। বাবা হিসেবে আমি কিংকর্তব্যবিমুড় হয়ে পড়ি। আমার মেয়েসহ অন্যান্ন মেয়েদের কথা চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিই এর প্রতিবাদ করা দরকার। তাই নায্য বিচারের দাবিতে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার সিনিয়র সহ সভাপতি পুলিশ সুপার হামিদুল আলমের কাছ প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেছি।। যাতে আর কোন মেয়েকে মিঠুর লালসার শিকার হতে না হয়। কারন আমি এই ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে যেয়ে আরো মেয়েদের কাছে জানতে পারলাম যে, অন্য মেয়েদের সাথেও সে এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে কিন্তু ভয়ে ও লজ্জায় এর আগে কেউ মুখ খুলেনি। অনেক মেয়ে ধীরে ধীরে মাঠ ছেড়ে দিয়েছে।
এ ব্যাপরে দিনাজপুর জেলা ক্রিকেট কোচ (বিসিবি) নির্বাহী সদস্য জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও প্রচেষ্টা ক্রিকেট কোচিং সেন্টারের ক্রীকেট কোচ আবু সামাদ মিঠুর কাছে জানতে চাইলে তিনি ঘটনা অস্বীকার করে বলেন তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে।
খেলার মাঠের সাথে জড়িত অনেক প্রবীণ ও নবীণ খেলোয়াড়ের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়,দীর্ঘদিন ধরেই অনেক প্রমিলা ক্রিকেটারদের সাথে যৌন হয়রানী অসৌজন্যমুলক আচরন করা হচ্ছে। শুধু মিঠু নয়,আরো দু’জন রয়েছে। যৌন হয়রানী’র শিকার মেয়েরা লোক লজ্জার ভয়ে কাউকে অভিযোগ করতে সাহস পায়না বলেই লম্পটরা এমন খারাপ কাজ করার সাহস পাচ্ছে। তারা তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ক্রিকেট কোচ আবু সামাদ মিঠুসহ আরো অন্য দু’জনকে খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন ।