প্রভাবশালীদের থাবায় রাখাইন প্যাগোডা

প্রকাশ:| শুক্রবার, ১৩ মার্চ , ২০১৫ সময় ১০:২৮ অপরাহ্ণ

ফরহাদ রহমান,টেকনাফ প্রতিনিধি:

রাখাইন প্যাগোডাসীমান্ত উপজেলা টেকনাফে রাখাইন (বৌদ্ধদের) প্যাগোডা বিলুপ্তির পথে। পুরো উপজেলায় প্রভাবশালী চক্র রীতিমত বৌদ্ধদের প্যাগোডা জবরদখলের প্রতিযোগীতায় নেমেছে। এতে করে রাখাইনদের জাদীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। হাতে গোনা ২/১টি জাদী ছাড়া বাদ বাকী সব জাদী উপড়ে ফেলেছে। দখলবাজরা প্যাগোডার নিজস্ব জমি আস্তে আস্তে গিলে খাচ্ছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রক্ষায় উপজেলাওয়ারী পদক্ষেপ না নিলে বৌদ্ধদের প্রাচীনতম জাদী কালের গর্ভে হারিয়ে যাবে।
বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, জাদী ভেঙ্গে বসত ঘর নির্মাণ করে বসতি স্থাপন করছে। কিছু কিছু এলাকায় জাদী উপড়ে ফেলে জমি আবাদ করেছে। ক্ষেত্রে বিশেষে জবরদখলকারীরা জাদী বা প্যাগোডার অস্তিত্ব পর্যন্ত নিশ্চিহ্ন করে ফেলেছে। সরেজমিনে পরিদর্শন ও রাখাইনদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, টেকনাফ বৌদ্ধ ধাতু জাদী, কেরুণতলী (বন্দর) বৌদ্ধ ধাতু জাদী, জাদীমুরা নয়াপাড়া বৌদ্ধ ধাতু জাদী, উলুচামরী পুরাতন বৌদ্ধ বিহার জাদী, দক্ষিণ হ্নীলা বড় বৌদ্ধ বিহার জাদী, হ্নীলা বাজার বৌদ্ধ জাদী, নাইক্ষ্যংখালী বৌদ্ধ বিহার জাদী, মহেশখালীয়া পাড়া বৌদ্ধ জাদী, কুতুবদিয়া পাড়া বৌদ্ধ জাদীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। উল্লেখিত জাদীতে কেবলমাত্র জাদীমুরা নয়াপাড়া বৌদ্ধ ধাতু জাদী, দক্ষিণ হ্নীলা বড় বৌদ্ধ বিহার জাদী, হ্নীলা বাজার বৌদ্ধ জাদীর নিজস্ব জমি বেদখল হয়ে কেবল জাদীগুলো অক্ষত আছে। অন্যসব প্যাগোডার অস্তিত্ব এখন নেই বললেই চলে। সচেতন অনেকে বলছেন, একটি জাতির ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এভাবে অস্তিত্বহীন হয়ে কালের গর্ভে হারিয়ে যাবে তা কিছুতেই কাম্য নই। রাখাইনদের ধর্মীয় ঐতিহ্য সুপ্রাচীনতম এসব প্যাগোডা অক্ষুন্ন রাখতে বিশেষ একটি পাইলট প্রকল্প হাতে নিতে হবে। রঙ্গিখালী চৌধুরী পাড়ার গ্রাম প্রতিনিধি মংটিংঅং বলেন, অত্যান্ত দুঃখ হলেও সত্যি যে, টেকনাফে রাখাইনদের প্যাগোডাগুলো বর্তমানে জবরদখলের শিকার হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন আন্তরিক হলেই দখল হওয়া জাদী ও জমি উদ্ধার করা সম্ভব হবে। ধর্মীয় ঐতিহ্য রক্ষায় তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।
বাংলাদেশ আধিবাসী ফোরামের কক্সবাজার জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মানবাধিকারকর্মী ক্যজঅং বলেন, জাদীমুরা নয়াপাড়া বৌদ্ধ ধাতু জাদী ছাড়া উপজেলার অবশিষ্ট প্রায় সব প্যাগোডা প্রভাবশালীচক্র গিলে ফেলেছে। বর্তমানে হ্নীলা জাদী (হাইস্কুলের পাশে) যেটি রেপও চৌধুরীর পুত্র কেওখাই ৩একর ১৩শতক জমি কেয়াং বাড়ীর জন্য দান করেছিল। বিএস ১নং খতিয়ানের ৫৪১৮নং ও আরএস ২১৪নং খতিয়ানে ৪৪২৬ নং দাগের পুরো জমি দখলের প্রতিযোগীতা চলছে। সেখানে রীতিমত স্থানীয়রা বাড়ী-ঘর নির্মাণ করতে করতে জাদী পর্যন্ত উপড়ে ফেলে দখলে যেতে মরিয়া হয়ে পড়েছে। তিনি প্যাগোডার জন্য দানকৃত জমি উদ্ধার ও ধর্মীয় ঐতিহ্য অক্ষুণœ রাখতে সরকারের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। টেকনাফের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অন্যতম দাতা শিক্ষানুরাগী রাখাইন জমিদার মংচালু চৌধুরী জানান, জনপ্রতিনিধিরা একটু আন্তরিক হলেই রাখাইনদের প্যাগোডা অক্ষত থাকবে। দেশীয় সম্পদ প্রাচীনতম এসব জাদী সংরক্ষণ হলে পর্যটন খাতে ভূমিকা রাখতে পারবে পাশাপাশি আগামীতে এসব স্পটে দেশী-বিদেশী অনেক পর্যটকের সমাগম ঘটবে।