প্রবাসীর বিরুদ্ধে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জমি দখলের অভিযোগ

প্রকাশ:| রবিবার, ২ আগস্ট , ২০১৫ সময় ০৮:৫৪ অপরাহ্ণ

জমি দখল
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, পেকুয়া
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় এক প্রবাসীর বিরুদ্ধে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি হাসপাতালের জমি দখল করে অবৈধ উপায়ে স্থাপনা নির্মাণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গত কয়েক দিন ধরে সরকারী ওই সংস্থার জমিতে প্রভাব খাটিয়ে ওই প্রবাসী অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণের কাজ চালিয়ে গেলেও স্থানীয় প্রশাসন, রেড ক্রিসেন্ট কর্তৃপক্ষ কোন ধরনের বাধা দেননি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। প্রথমে সরকারী জমিতে স্থাপনার নির্মাণের প্রতিবাদ করেন স্থানীয় সচেতন কয়েকজন লোক। পরে তাদের ওই ক্ষমতাধর প্রবাসী নানাভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়ায় তারাও পিছু হটে যায়। সরকারী জমির এ চাঞ্চল্যেকর জবর দখলের ঘটনাটি ঘটেছে, পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নের হাজী বাজার এলাকায়। সরকারী ওই জমি দখল করে স্থাপনা নির্মানের সাথে সরাসরি জড়িত রয়েছে সৌদি প্রবাসী রাজা মিয়া (৩৬)। তিনি টইটং ইউনিয়নের রমিজ পাড়া গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে বলে জানা গেছে। আর সরকারী এ জমি দখলের পেছনে ওই প্রবাসীকে নানাভাবে সহায়তা করছেন স্থানীয় খোদ ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন বিতর্কিত নেতা-কর্মী! এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে সরকারী জমি জবর দখলমুক্ত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরী হস্থক্ষেপ কামনা করেছেন।

চকরিয়া সাব রেজিষ্টারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নের হাজী বাজার এলাকায় প্রায় ৮০ শতক জমি বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি হাসপাতালের নামে ওই সংস্থার পরিচালকের নামে বিগত ২১/০১/১৯৯৫ সালে চকরিয়া সাব রেজিষ্টার অফিসে গিয়ে স্বেচ্ছায় রেজিষ্ট্রি কবলামূলে দান করেন একই ইউনিয়নের সোনাইছড়ি এলাকার আলহাজ্ব মাষ্টার ছৈয়দ নুর, মোক্তার আহামদ, আহমদ ছফা, নুরুল ইসলাম ও আবদুল মোনাফ। যার কবলা নং ৩২৬। এরপর ওই জমিতে ১৯৯৬ সালের দিকে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি কর্তৃপক্ষ একটি হাসপাতাল নির্মাণের জন্য দরপত্র আহবান করেন। নির্মান সামগ্রী নিয়ে টিকাদার কাজও শুরু করেছিল। রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি কর্তৃপক্ষ হাসপাতালের নির্মান কাজ রহস্যজনক কারণে কিছু দিন পরে বন্ধ হয়ে যায়। সেই থেকে অদ্যবধি সরকারী গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার জমিতে হাসপাতাল নির্মান হয়নি। এদিকে সম্প্রতি সময়ে সরকারী ওই জমির উপর লোলুপ দৃষ্টি পড়ে স্থানীয় গুটিকয়েক প্রভাবশালীদের। তারা রাতারাতি সেখানে অবৈধ উপায়ে স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন। কিন্তু খবর নেই খোদ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির কর্মকর্তাদের!

তবে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি হাসপাতালের জমি দখলের অভিযোগটি সরাসরি অস্বীকার করেছেন ওই প্রবাসী রাজা মিয়া। তার সাথে এ বিষয়ে কথা হয় গতকাল রোববার দুপুরে ঘটনাস্থলে। তিনি এসময় দাবী করেছেন, তিনি ওই জমি স্থানীয় রেহেনা বেগম নামের এক মহিলার কাছ থেকে ক্রয় করেছেন। এখন তার ক্রয় করা জমিতে তিনি দোকান নির্মানের কাজ শুরু করেছেন। এক পর্যায়ে তিনি বলেন, ‘নিজের জমিতে দোকান তিনি নির্মান কাজ শুরু করার পর থেকে দুই দিন, তিন দিন পর পর পেকুয়া থেকে সাংবাদিকরা আমার কাছে আসেন। যারা এসেছেন আমি তাদেরকে ম্যানেজ করেছি। আপনারও এসেছেন কিছু নিয়ে যান’। পরিশেষে এ প্রতিবেদককে ওই প্রবাসী ম্যানেজ করতে না পেরে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে আরো বলেন ‘পত্রিকায় লেখালেখি করে আপনারা আমার কিছুই করতে পারবেনা, আমি বাংলাদেশের সব অফিসের দরজার উপর দিয়ে প্রবেশ করতে পারি! এভাবে আরো কতো আস্ফালন ছুড়ে দেন ওই প্রবাসী।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাধারান সম্পাদক মো. আবু হেনা মোস্তাফা কামাল জানিয়েছেন, তারা এ ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনী ব্যবস্থা নিবেন।


আরোও সংবাদ