প্রবারণা পূর্ণিমা, আলোয় আলোয় শান্তির আবাহন

প্রকাশ:| শনিবার, ১৫ অক্টোবর , ২০১৬ সময় ০৯:৩২ অপরাহ্ণ

গৌতম বুদ্ধের অহিংসার বাণী সমুন্নত রেখে সুখ-শান্তি আর কল্যাণ কামনায় প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন করছে বন্দরনগরীর বৌদ্ধ সম্প্রদায়।

পঞ্চশীল, অষ্টশীল, পূজা, ধর্মীয় আলোচনা, পরস্পরের মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং আহার-বিনোদনের মধ্য দিয়ে শনিবার (১৫ অক্টোবর) প্রবারণা পূর্ণিমার দিন পার করেছে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষ। সন্ধ্যা থেকে নগরীর বৌদ্ধবিহার ও মন্দিরগুলোতে হাজার হাজার নারীপুরুষের মিলনমেলা সৃষ্টি হয়েছে।

বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে শনিবার সকাল থেকেই লোকজনের আগমনে মুখর হয়ে উঠে নগরীর বৌদ্ধমন্দিরগুলো।  ধনী-গরীব, তরুণ-বৃদ্ধ সব শ্রেণীপেশার, সব বয়সী মানুষ সকাল থেকেই নানা উৎসবে মেতে উঠে।  কৃপালাভের আশায় ভক্তিভরে গৌতম বুদ্ধের চরণে মঙ্গলপ্রদীপও প্রজ্জ্বলন করেন হাজারো নারীপুরুষ।

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মনতোষ বড়ুয়া বাংলানিউজকে বলেন, আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে প্রবারণা পূর্ণিমা পর্যন্ত সময়ে গৌতম বুদ্ধ প্রাণীকূলের মঙ্গলার্থে বিহারে অবস্থান করে তার উপাসক-উপাসিকাদের শান্তি আর ধর্মের মঙ্গলের জন্য ধর্মদেশনা দেন।  গৌতম বুদ্ধের যে চিরকল্যাণকর অহিংস বাণী তা সমুন্নত রেখে প্রবারণা পূর্ণিমা সকলের জীবনে শান্তি ও উন্নতি বয়ে আনুক এই কামনা করছি।

নন্দনকানন বৌদ্ধবিহারে সকাল থেকে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পৌরহিত্য করেন অধ্যক্ষ ড.জ্ঞানশ্রী মহাথেরো। পাথরঘাটা জ্ব্যাতবন বৌদ্ধ বিহারে দিনভর ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে পৌরহিত্য করেন অধ্যক্ষ শ্রী বোধিমিত্র থেরো।

কাতালগঞ্জ নবপন্ডিত বিহার, পাথরঘাটাসহ নগরীর বিভিন্ন বৌদ্ধবিহার ও মন্দিরে সন্ধ্যা থেকে মানুষের ঢল নেমেছে।  সন্ধ্যায় বিশ্বশান্তি কামনায় সমবেত প্রার্থনাও হয়েছে বিভিন্ন মন্দিরে।

সন্ধ্যার পর থেকে বিভিন্ন মন্দিরে আসা লোকজনের মাঝে আনন্দের কমতি ছিল না। পরিবারের সবাইকে নিয়ে উৎসবে যোগ দিয়েছেন বিভিন্ন বয়সের লোকেরা।  ৮০ বছরের বৃদ্ধ এসেছেন ছেলের হাত ধরে, আবার ছোট্ট শিশুকে কোলে নিয়ে এসেছেন মা।

নন্দনকানন বৌদ্ধবিহারে আসা বেসরকারি ব্যাংকের কমকর্তা পিয়াস বড়ুয়া বাংলানিউজকে বলেন, ফানুস উড়ানো দেখতে এসেছি। আনন্দ লাগছে খুব। বছরের একটি দিন আমরা অনেক আনন্দের মধ্যেই কাটাই।

এদিকে রাত সাড়ে ৯টার আগে ফানুস না উড়ানোর অনুরোধ করে নন্দনকানন বৌদ্ধবিহারে চিঠি দিয়েছে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ।

বৌদ্ধবিহার কর্তৃপক্ষ দিনভর মাইকে ঘোষণা দিয়ে ভক্ত-দর্শনার্থীদের রাত সাড়ে ৯টার আগে ফানুস না উড়ানোর অনুরোধ করেছে।  বিভিন্ন বিহার এবং মন্দিরে একই নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

তবে এরপরও সন্ধ্যার পর থেকে নগরীর বিভিন্ন বৌদ্ধবিহার ও মন্দির থেকে সীমিতভাবে ফানুস উড়ানো শুরু হয়েছে।  সন্ধ্যা ৭টার দিকে নন্দনকানন থেকেও ফানুস উঠতে দেখা গেছে।

বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতির চেয়ারম্যান অজিত রঞ্জন বড়ুয়া বাংলানিউজকে বলেন, আমরা সবাইকে অনুরোধ করেছিলাম সাড়ে ৯টার আগে ফানুস না উড়াতে।  বিচ্ছিন্নভাবে কিছু কিছু জায়গায় উঠছে।  ব্যাপকভাবে কোথাও ফানুস উড়ানো হচ্ছে না।

জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মনতোষ বড়ুয়া বাংলানিউজকে বলেন, ফানুসকে বৌদ্ধ ধর্ম ও দর্শনের চিরায়ত ঐতিহ্য বলে মনে করেন বৌদ্ধ সম্প্রদায়।  কেউ কেউ ফানুস কত উঁচুতে উঠল সেটাকে পূণ্যের মাপকাঠিতেও বিচার করে।  এজন্য ফানুস উড়ানো বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কাছে একটি ধর্মীয় রীতিও।

এদিকে প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে নগরীর বৌদ্ধমন্দিরগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, নগরীর নন্দনকানন বৌদ্ধবিহারে সবচেয়ে বেশি লোক সমাগম হয়।  সেজন্য ওই বিহারে ৫০ জন পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।  এছাড়া বিভিন্ন মন্দির ঘিরে ১০ থেকে ১২ জনের টিম নিয়মিত টহল দিচ্ছে।  এছাড়া সব বৌদ্ধবিহারে ৩ জনের ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।


আরোও সংবাদ