প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদা অবিলম্বে বাস্তাবায়ন দাবি

প্রকাশ:| বুধবার, ১০ মে , ২০১৭ সময় ১০:৫৮ অপরাহ্ণ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণির পদ মর্যাদা অবিলম্বে বাস্তবায়ন করার দাবিতে অদ্য ১০ মে বুধবার সকাল ১১ টায় বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতি চট্টগ্রাম জেলার উদ্যোগে বেতন বৈষম্য দূরীকরণ, দশম গ্রেড প্রদানসহ ৫ দফা দাবিতে কাপাসগোলা সরকারি প্রাথমিক বালক বিদ্যালয়ে এক শিক্ষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এতে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সভাপতি চট্টগ্রাম কাইছারুল আলম এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ছিদ্দিকীর ও সহ-সাধারন সম্পাদক ফয়েজুর ইসলাম। এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও সেক্রেটারি চকরিয়া উপজেলা জনাব তছলিম উদ্দীন ও চট্টগ্রাম জেলার ১৪টি উপজেলা ও ৬টি থানার বিপুল সংখ্যক নেতৃ স্থানীয় প্রধান শিক্ষকবৃন্দ। উক্ত সমাবেশে শিক্ষক নেতৃবৃন্দরা ৫ দফা দাবী সমূহ অবিলম্বে বাস্তবায়নের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর বিনীত আবেদন জানান। নেতৃবৃন্দ অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলেন যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ২০১৪ সালে ঘোষিত প্রধান শিক্ষকের দ্বিতীয় শ্রেণি গেজেটেড পদমর্যাদা অনুযায়ী দশম গ্রেড প্রদান গত ৩ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও আলোর মুখ দেখেনি। ইতিপূর্বে আরও তিন বার স্মারক লিপি প্রধানমন্ত্রী বরাবরে প্রেরণ করা হলেও প্রধান শিক্ষক সমিতি ২০০৫ সালের ৬ আগস্টের স্মারকলিপির পরিপ্রেক্ষিতে দাবি বাস্তবায়নে ১৪ সেপ্টেম্বর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিবকে নির্দেশ দিলেও কোন কার্যকর পদক্ষেপ অদ্যাবধি গ্রহণ করা হয়নি বলে সারা দেশের প্রধান শিক্ষকদের হৃদয়ে আজ রক্ত করণ হচ্ছে। এমতাবস্থায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য দূরীকরণ প্রারম্ভিকস্তরে ১০নং গ্রেড প্রদান এবং প্রত্যেক প্রধান শিক্ষকের যোগদানের তারিখ হতে চাকুরীকাল গণনা করে তাদের প্রাপ্ত টাইম স্কেল ও অন্যান্য প্রাপ্যতা এবং সুবিধাদি প্রদানের জন্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জ্বীবিত বর্তমান সরকারের আশু পদক্ষেপ কামনা করেন।
কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সভাপতি চট্টগ্রাম কাইছারুল আলম বলেন, জাতি গঠনের কারিগর খ্যাত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সরকার দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদা দিয়েছে তিন বছর আগে। কিন্তু দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদাপ্রাপ্ত অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের মতো তাদের বেতন কাঠামো দেয়া হয়নি। একক্ষেত্রে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বেতন বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। এবং তাদের যোগদানের তারিখ হতে চাকুরী কাল গণনা না করায় তাদের প্রাপ্ত টাইম স্কেল ও অন্যান্য প্রাপ্যতা এবং সুবিধাদি হতে বঞ্চিত হচ্ছে। এর সুদূর প্রসারী প্রভাব শিক্ষা ব্যবস্থার উপর পড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষাবিদ ও নেতৃবৃন্দরা। এ ধরণের বৈষম্য থাকলে এখানে মেধাবীরা শিক্ষক হিসেবে আসবেন না বলে মনে করছেন তারা। এছাড়া কেন্দ্রীয় সভাপতি জনাব রিয়াজ পারভেজের সাথে আলোচনার প্রেক্ষিতে পূর্বে জেলা কমিটির সভাপতি ও সেক্রেটারি পূর্বঘোষিত পদাদি ব্যতিরেকে অন্যান্য পদ সমূহ সহ ৫১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য আগামী ১৯ মে সকাল ৯.৩০ ঘটিকায় কাপাসগোল সরকারি প্রাথমিক বালক বিদ্যালয়ে আর একটি শিক্ষক সমাবেশ অনুষ্ঠানের আয়োজন করার নিমিত্তে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহিত হয় এবং চট্টগ্রাম জেলা সকল মাননীয় সংসদ সদস্যদের বরাবরে স্থানীয় প্রধান শিক্ষক নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্মারকলিপি প্রদান ও তা মাননীয় সাংসদের দ্বারা মহান সংসদের প্রধান শিক্ষকদের বৈষম্যের বিষয়টি উথ্যাপনের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আর্কষনের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
এতে বক্তব্য রাখেন, বাশঁখালী উপজেলা সভাপতি মোঃ শহীদুল্লাহ, মোঃ কচির উদ্দিন, কাঞ্চন গুপ্ত, বোয়ালখালী উপজেলার সভাপতি জসিম উদ্দিন তালুকদার, সুমন কুমার দাশ, নরুল হুদা, মোঃ ওয়ায়েজ উদ্দীন, আব্দুলা আল মামুন,স্বপ্না দাশ, তৌহিদুর হাছান,তরুন বড়–য়া, তাহমিনা শারমিন, রাবেয়া সুলতানা, আঞ্জুমানারা বেগম, মিনু আক্তার , শাহীনা ইয়াছমিন, মোঃ ইসমাইল, সঞ্জীব মজুমদার, ইয়াছমিন আক্তার, আব্দুল কুদ্দুস, সাহাব উদ্দীন , মোঃ জাহাঙ্গির আলম, এস.এম আতিকুর রহমান, কাজী নাসিম উদ্দীন, নায়েরা তৌহিদা, জিতেন্দ্র লাল বড়–য়া, নিখিল বিশ্বাস, পুলক কুমার সেন, কোহিনুর বানু, আবুল কালাম প্রমুখ।