প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য রেখেছেন তা জনগণের শক্তির প্রতি অবজ্ঞা ও ধৃষ্টতার শামিল

প্রকাশ:| বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর , ২০১৩ সময় ০৮:৩৫ অপরাহ্ণ

‘নির্বাচন বানচালের ক্ষমতা কারো নেই’ বলে প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য রেখেছেন তাকে ‘জনগণের শক্তির প্রতি অবজ্ঞা ও ধৃষ্টতার শামিল’ বলে প্রতিবাদ জানিয়েছে বিএনপি।প্রধানমন্ত্রী জনগণের প্রতি ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন: বিএনপি
রুহুল কবির রিজভী
বুধবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী একথা জানান।

তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার সিলেটের গোলাপগঞ্জে এক জনসভায় বলেছেন, নির্বাচন বানচাল করার সাধ্য কারো নেই। তার এই বক্তব্য জনগণকে নতি স্বীকার করতে বাধ্য করে। এটা কোনোভাবে গ্রহনযোগ্য নয়।”

জনগণ সরকারের একতরফা নির্বাচন প্রতিহত করবে- উল্লেখ করে রিজভী বলেন, “নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেই আগামী নির্বাচন হবে।”

এসময় উপস্থিত ছিলে- দলের অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সালাম, যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি এ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, জাসাস সভাপতি এম এ মালেক, বিএনপির সহ দফতর সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন, নির্বাহী কমিটির সদস্য রফিক শিকদার, তাইফুল ইসলাম টিপু প্রমুখ।

মঙ্গলবার বিকালে সিলেটের গোলাপগঞ্জে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যে কোন মূল্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপি নেত্রীর সাধ্য নেই এ নির্বাচন বানচাল করার।”

অপরিদকে রোববার রংপুরে এক জনসভায় খালেদা জিয়া বলেন, “নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের চেষ্টা রুখতে হবে।”

আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক ‘নৌকা’কে হযরত নূহ (আ.) এর কিস্তির সঙ্গে তুলনা করে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন রিজভী।

তিনি বলেন, “হযরত নূহ’র (আ.) নৌকার সঙ্গে তুলনা ধৃষ্টতা ছাড়া কিছুই নয়। ওই আমলে নুহ নবীর ছাড়া অন্য অভিশপ্ত নৌকাগুলো ডুবে গিয়েছিলো। গত সাড়ে চার বছরে সরকার জনগণের ওপর অন্যায়-নির্যাতন চালিয়েছে। সেজন্য জনগণের কাছে আওয়ামী লীগের নৌকা অভিশপ্ত নৌকা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।”

‘বিএনপি ক্ষমতায় এলেই জঙ্গীবাদের চাষ হয়’ প্রধানমন্ত্রী ও জয়ের এমন বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে তিনি বলেন, “বিএনপি সবসময় জঙ্গীবাদ দমন করেছে।”

নির্বাচন কমিশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনের আচরণের কারণে তাদের ওপর থেকে বিএনপির আস্থা কমে যাচ্ছে। শুধু তাই নয় আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তফা জালাল মহীউদ্দীন সংশয় প্রকাশ করে বলেছেন একজন প্রতিমন্ত্রীর স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে নির্বাচন কমিশন অন্যজনের অধিকারে বিঘ্ন ঘটিয়েছে।”