প্রথম দলীয়ভাবে পৌর নির্বাচনে ভোট প্রস্তুতি শেষ

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২৯ ডিসেম্বর , ২০১৫ সময় ১১:০৪ অপরাহ্ণ

সারাদেশের ন্যায় চট্টগ্রামেও প্রথমবারের মতো দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া পৌর নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন চট্টগ্রামের ১০ পৌরসভার ভোটাররা। ইতিমধ্যেই নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার বিকেলে চারটা থেকে ভোট কেন্দ্র গুলোতে ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনী সরজ্ঞাম পৌঁছানো হয়েছে।

গতকাল সোমবার সকাল থেকে পৌর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাঠে নেমেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও কোস্টগার্ড। আজ নির্বাচনী এলাকায় পৌঁছছে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাকি সদস্যরা। এছাড়া নির্বাচনী এলাকায় সকল প্রকার যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে জেলা প্রশাসন।

চট্টগ্রামের যে ১০ পৌরসভায় নির্বাচন হচ্ছে সেগুলো হল- পটিয়া, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, বাঁশখালী, মীরসরাই, বারৈয়ারহাট, সন্দ্বীপ, সীতাকুণ্ড, রাউজান এবং রাঙ্গুনিয়া।

এদিকে, নির্বাচনকে ঘিরে পৌর এলাকায় সহিংস ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রার্থী ও ভোটাররা। প্রচার-প্রচারণার শেষদিনে গতকাল সোমবার সাতকানিয়া পৌর এলাকায় সংঘাতের ঘটনা ঘটে। এছাড়াও রাঙ্গুনিয়া, সীতাকুণ্ড, মিরসরাই ও বারৈয়ারহাট পৌরসভায় প্রতিপক্ষ প্রার্থী, কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা, ভাঙচুর, প্রচারে বাধা, ভয়-ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ও ভীতির সঞ্চার হয়েছে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) কাজী আব্দুল আউয়াল বাংলামেইলকে বলেন, পৌর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চট্টগ্রামের ১০ পৌরসভায় সাড়ে চার হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহীনির সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে পুলিশ বাহিনীর প্রায় সদস্য ২ হাজার ১শ জন, আনসার বাহিনীর ১৯শ সদস্য, ১শ ৫০ জন র‌্যাব সদস্য, ১০ প্লাটুন বিজিবি সদস্য।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, প্রতি ভোটকেন্দ্রে একজন অফিসারের নেতৃত্বে অস্ত্রধারী ৫ জন পুলিশ সদস্য ও আনসার বাহিনীর পিসি-এপিসিসহ ১৪ জন সদস্য সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিটি পৌর এলাকায় র‌্যাবের দুটি করে টহল গাড়ি (৮ জন সদস্য) নিয়মিত টহল দেবেন।

এছাড়া প্রতি পৌরসভায় এক প্লাটুন বিজিবি (বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ), স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে পুলিশের একটি ও র‌্যাবের দুটি মোবাইল টিম মাঠে থাকবে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)সদস্যদের নিয়মিত টহলের পাশাপাশি প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে নিরাপত্ত্বায় একজন করে বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবেন। সন্দ্বীপ পৌরসভায় বিজিবির পরিবর্তে ১ প্লাটুন কোস্টগার্ড সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠান নিশ্চিত করার চেষ্টা রয়েছে। ভোট কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

পৌর এলাকায় ২৯ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার) মধ্যরাত ১২টা থেকে ৩০ ডিসেম্বর (বুধবার) মধ্যরাত পর্যন্ত বেবি ট্যাক্সি, ইজিবাইক, ট্যাক্সিক্যাব, মাইক্রোবাস, জিপ, পিকআপ, কার, বাস, ট্রাক, টেম্পোসহ সকল ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকবে। এছাড়াও ২৭ ডিসেম্বর মধ্যরাত ১২টা থেকে ৩১ ডিসেম্বর সকাল ৬টা পর্যন্ত মোটর সাইকেল চলাচলের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

এদিকে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আব্দুল বাতেন বাংলামেইলকে বলেন, সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে ভোটগ্রহণের জন্য আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। আমাদের ভোট গ্রহণ কর্মকর্তারা পুলিশ প্রহরায় আজ বিকেল ৪টা থেকে কেন্দ্রে কেন্দ্রে নির্বাচন সামগ্রী নিয়ে যাচ্ছেন। প্রতি তিন ভোট কেন্দ্রের জন্য একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রের নেতৃত্বে একটি মোবাইল টিম, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ৫ ভোট কেন্দ্রের জন্য আলাদা মোবাইল টিম টহলে থাকবে।

তিনি আরো বলেন, নির্বাচনে ১৩৩ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৭৯১ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, ১৫৮২ জন পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন। ভোটকেন্দ্রগুলোও প্রস্তুত। এর আগে আমরা সকল নির্বাচনী সামগ্রী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পৌছে দিয়েছি। আমরা আশা করছি আগামীকাল সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হবে।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, আসন্ন পৌর নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১০ পৌরসভায় ৫১৮ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। এরমধ্যে মেয়র পদে ৪৬ জন, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৮৬ ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৮৬ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। বর্তমানে নির্বাচনী দৌড়ে রয়েছেন ৪৫০ জন প্রার্থী। এরমধ্যে কাউন্সিলর পদে ৩৪ জন, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৭৭ জন ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৩৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

চট্টগ্রামের ১০ পৌরসভায় মেয়র পদে ৩৪ প্রার্থী মাঠে থাকলেও মূল লড়াইয়ে থাকবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ১০ জন ও বিএনপি সমর্থিত নয়জন প্রার্থী রয়েছেন। চন্দনাইশ পৌর মেয়র পদে বিএনপির শরিকদল এলডিপিকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

বাঁশখালীতে মেয়র পদে লড়ছেন আওয়ামী লীগের সেলিমুল হক চৌধুরী (নৌকা) ও বিএনপি সমর্থিত কামরুল ইসলাম হোসাইনী (ধানের শীষ)। সন্দ্বীপে আওয়ামী লীগের জাফরুল্লাহ টিটু (নৌকা) ও আজমত উল্লাহ বাহাদুর (ধানের শীষ)।

বারৈয়ারহাটে আওয়ামী লীগের নিজাম উদ্দিন (নৌকা) ও মঈন উদ্দিন লিটন (ধানের শীষ)। রাউজানে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মনোনীত প্রার্থী দেবাশীষ পালিত (নৌকা), বিএনপির কাজী আবদুল্লাহ আল হাছান (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম চৌধুরী রানা (জগ) ও মীর মোহাম্মদ মনসুর আলম (মোবাইল)।

রাঙ্গুনিয়া আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মো. শাহজাহান সিকদার (নৌকা), বিএনপির মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন খান (ধানের শীষ), ইসলামী ফ্রন্টের আবদুর রহামান জামি (মোমবাতি) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোজাম্মেল হক (নারিকেল গাছ)।

মিরসরাইয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন (নৌকা), বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী এ জেড এম রফিকুল ইসলাম পারভেজ (ধানের শীষ) ও ইসলামী আন্দোলনের আরিফ মাঈন উদ্দিন (হাতপাখা)।

সীতাকুণ্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী বদিউল আলম (নৌকা) ও বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ আবুল মনসুর (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান মেয়র নায়েক (অব.) শফিউল আলম (নারিকেল গাছ), সিরাজ-উদ-দৌলা (জগ), জাপা প্রার্থী মো. নুরুন নবী চৌধুরী (লাঙল) ও তাওহিদুল হক চৌধুরী (মোবাইল)।

সাতকানিয়ায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. জোবায়ের (নৌকা), বিএনপির হাজি রফিকুল আলম (ধানের শীষ) ও জাতীয় পার্টির মো. ইউসুফ চৌধুরী (লাঙল)। চন্দনাইশে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মাহবুবুল আলম খোকা (নৌকা), এলডিপি সমর্থিত প্রার্থী বর্তমান মেয়র মো. আইয়ুব (ছাতা), ইসলামী ফ্রন্টের মো. আবদুল হাকিম (মোমবাতি), স্বতন্ত্র প্রার্থী জসিম উদ্দিন আহমেদ (জগ)।

পটিয়ায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী বর্তমান মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশীদ (নৌকা), বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী তৌহিদুল আলম (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রার্থী সাবেক মেয়র শামসুল আলম মাস্টার (লাঙল) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইব্রাহিম (নারিকেল গাছ)।


আরোও সংবাদ