প্রথমবারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভাঙ্গা শুরু করেছে সিটি করপোরেশন

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর , ২০১৩ সময় ১০:১৪ অপরাহ্ণ

চসিক চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকনগরীতে প্রথমবারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভাঙ্গা শুরু করেছে সিটি করপোরেশন। বৃহস্পতিবার দুপুরে সদরঘাট থানার আলকরণ পিকে সেন সড়কে ঝুঁকিপুর্ণ ‘বড়ুয়া ভবন’ উচ্ছেদের মধ্যে দিয়ে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এসময় করপোরেশনের নির্বার্হী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া শিরিন, স্থানীয় কাউন্সিলর দিদারুর রহমান লাবু, পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ উপস্থিত ছিলেন।

করপোরেশন সুত্র জানায়, গত সোমবার করপোরেশনের নির্বার্হী ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত হয়ে ভবনটি ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দেয়। এসময় স্থানীয় কাউন্সিলর ও ভবন মালিকের অনুরোধে পরদিন মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত সময় বেধে দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত মালিক ভবন খালি না করায় করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে পুলিশ ভবন থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে দেয়। পরে সাড়ে ১১টায় ভবন ভাঙ্গার কাজ শুরু করে করপোরেশনের কর্মচারীরা।

ভবন মালিক দীপক বড়ুয়া বলেন, আমার ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ কি না তা পরীক্ষা নিরীক্ষা না করেই ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে। আদালত থেকে স্টে অর্ডার আনার পরও ম্যাজিস্ট্রেট এটি গ্রহণ না করেই ভাঙ্গার কার্যক্রম অব্যহত রাখে। এখন আমি পরিবার নিয়ে কোথায় যাব। ভাড়াটিয়ারাও কোথায় যাবে।

স্থানীয় কাউন্সিলর দিদারুর রহমান লাবু বলেন, অনেকবার সামাজিকভাবে বৈঠক করে ভবন মালিককে ভেঙ্গে ফেলার অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি তা না করায় করপোরেশনের পক্ষ থেকে ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে।

করপোরেশনের নির্বার্হী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া শিরিন বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা করপোরেশন তৈরি করে না এটি তৈরি করে সিডিএ। আমাদেরকে তালিকা দিলে আমরা ভাঙ্গার কাজটি করি। তিনমাস আগে বড়ুয়া ভবনটি ভেঙ্গে ফেলার নোটিস দেওয়া হয় কিন্তু তারা ভাঙ্গেনি।

পরে গত সোমবার এসে একদিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু তিনদিন পরে এসেও দেখি তারা ভবন খালি করেনি। পরে করপোরেশনের পক্ষ থেকে ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, স্টে অর্ডার এনেছে বলেছে। কিন্তু এটি তো আমি গ্রহণ করতে পারবো না। এসব আমি বুঝবও না। এটি মেয়র মহোদয় ও প্রধান আইন কর্মকর্তার দেখার বিষয়। সিডিএ’র আগে ফায়ার সার্ভিসও এ ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে।

করপোরেশন সুত্রে জানা যায়, সিডিএ’র তালিকা অনুযায়ী ৬৪টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন রয়েছে। ২০০৬ সালে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা তৈরি করা হয়। কিন্তু গত সাড়ে পাঁচবছর পার হলেও একটি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনও ভাঙ্গা হয়নি।

গত সোমবার থেকে ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনকে সতর্ক করেছে করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার দুপুরে ‘বড়ুয়া ভবন’ উচ্ছেদ শুরুর মধ্য দিয়ে ঝুঁকিপূণ ভবন ভাঙ্গার কার্যক্রম শুরু করে।

করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া শিরিন বলেন, আমরা ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভাঙ্গার কার্যক্রম শুরু করেছি। আশা করছি এ কার্যক্রম অব্যহত থাকবে।