প্রতীক পেয়ে প্রচারে নামলেন তাবিথ

প্রকাশ:| শুক্রবার, ১০ এপ্রিল , ২০১৫ সময় ০৫:১৩ অপরাহ্ণ

তাবিথনির্বাচনী প্রচারে অবশেষে মাঠে নেমেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বিএনপি-সমর্থিত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল। আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর কারওয়ান বাজার এলাকায় প্রচারে নামেন তাবিথ।
তফসিল অনুযায়ী গত ৭ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে প্রার্থীদের প্রচারের সুযোগ। কিন্তু বাবা আব্দুল আউয়াল মিন্টুর জন্য এত দিন অপেক্ষায় ছিলেন তাবিথ। নির্বাচন কমিশন মিন্টুর মনোনয়ন বাতিল করার পর সর্বোচ্চ আদালতও একই সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। মিন্টুকে না পেয়ে গত বৃহস্পতিবার তাঁর ছেলে তাবিথকে সমর্থন দেওয়ার কথা জানায় বিএনপি।
রাজনীতিতে তাবিথ একেবারেই নতুন। আজ সকালে ‘বাস’ প্রতীক পাওয়ার পর প্রচারে নামেন তিনি। ঢাকায় তিনিই প্রথম বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী যিনি প্রচারে নামলেন। ঢাকা দক্ষিণে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস নিজের নামে একাধিক মামলা থাকায় গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় মাঠে নামছেন না। আব্বাসের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন তাঁর স্ত্রী আফরোজা আব্বাস।

আজ কারওয়ান বাজারে আম্বর শাহ জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন তাবিথ। নামাজ শেষে মসজিদের পাশে মাজার জিয়ারত করে প্রচারে শুরু করেন। তাঁর সঙ্গে ৫০-৬০ জন কর্মী-সমর্থক থাকলেও বিএনপির পরিচিত কোনো নেতাকে দেখা যায়নি। কারওয়ান বাজারের কয়েকটি মার্কেট ঘুরে দোকানিদের দোয়া ও সমর্থন চান তাবিথ। পরে ফিরে যান।

এর আগে সাংবাদিকদের তাবিথ বলেন, তিনি ঢাকা শহরকে আন্তর্জাতিক মানের শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চান। তিনি আশা করেন, তরুণেরা তাঁর সঙ্গে থাকবেন। জয়ের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বিএনপি ও ২০-দলীয় জোট নির্বাচনে তাঁকে সমর্থন দিয়েছে। জনগণেরও সাড়া পাচ্ছেন।

নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা আছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তাবিথ বলেন, মাত্র প্রচার শুরু হলো। তিনি আশা করছেন, নির্বাচন কমিশন সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করবে।

তাবিথের নির্বাচনী প্রচার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামীকাল শনিবার থেকে তাঁদের প্রচারকাজ পুরোদমে শুরু হবে। এর মধ্যে আদর্শ ঢাকা আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে বসে নির্বাচনী ইশতেহার ও কৌশল ঠিক করা হবে।

বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্যবসায়ী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর বড় ছেলে তাবিথ আউয়াল বিএনপির কোনো পদে নেই। সেভাবে কখনো রাজনীতিতেও যুক্ত ছিলেন না। রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর পরিচিতিও খুব একটা নেই। তাই তাঁকে সমর্থন দেওয়ার ক্ষেত্রে বিএনপির একটি অংশ কিছুটা নেতিবাচক ছিল। তাঁদের পছন্দে ছিল বিএনপির সমমনা দল বিকল্পধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি. চৌধুরী। শেষ পর্যন্ত বিএনপির চেয়ারপারসন তাবিথকেই বেছে নেন।

অবশ্য বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের অনেকে তাবিথের বিরোধী। মিন্টু নিজের ছেলেকে প্রার্থী করতে ইচ্ছাকৃতভাবে মনোনয়নপত্রে ভুল করেছেন-এমন আলোচনাও আছে। কর্মীদের অনেকে নিজেদের ক্ষোভের কথা প্রকাশ করেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ছাত্রদলের একজন কর্মী লিখেছেন, ‘ঠিকই আছে। তাবিথ আউয়ালইতো বিএনপির প্রার্থী হবে। আমরা…পোলারা আছি তাগো সেবা করার জন্যই।’

ঢাকা উত্তরে তাবিথের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ব্যবসায়ী নেতা আনিসুল হক। তিনিও কখনো সেভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সরাসরি জড়িত ছিলেন না। তবে তিনি ব্যবসায়ীদের পেশাজীবী রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন।