প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দিয়েছেন মামলার বাদী

প্রকাশ:| রবিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি , ২০১৪ সময় ১০:৫৩ অপরাহ্ণ

নগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের (উত্তর) সাবেক উপকমিশনার কুসুম দেওয়ানসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগের সত্যতা পায়নি তদন্ত কর্মকর্তা।

তবে রোববার ওই তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দিয়েছেন মামলার বাদী এজহার মিয়া।

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন, নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (ডিবি) কুসুম দেওয়ান, ট্রাফিক পরিদর্শক মীর নজরুল ইসলাম ও ট্রাফিক সার্জেন্ট মামুনুল হক। আর আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্ত করছেন নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার বনজ কুমার মজুমদার।

বাদীর নারাজি আবেদনের প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ এসএম মুজিবুর রহমানের আদালত মামলাটির পরবর্তী শুনানি আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করেছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২ জানুয়ারি অটোরিকশা চালক এজাহার মিয়া চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে ঘুষ দাবির অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় নগর পুলিশের তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ আনা হয়। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্ত করার জন্য নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার বনজ কুমার মজুমদারকে নির্দেশ দেন।

এই মামলার পূর্ব নির্ধারিত শুনানি ছিল ১৬ ফেব্রুয়ারি রোববার।

এর আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি অনুসন্ধান প্রতিবেদনটি নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার দাখিল করেন।

রোববার এটির ওপর বাদী নারাজির আবেদন করলে তা পরবর্তী শুনানির জন্য নির্ধারণ করা হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩ সালে সীতাকুণ্ডের এজাহার মিয়া একটি সিএনজি অটোরিকশা (চট্টমেট্রো-থ-১১-৬৮৫১) কেনেন।

কিন্তু ২০০৯ সালের ৮ জানুয়ারি নগরীর পাহাড়তলী থানার বার কোয়ার্টার এলাকা থেকে অটোরিকশাটি চুরি হয়।

পরে ২০১৩ সালের ২৯ এপ্রিল ট্রাফিক পুলিশ ওয়াসার মোড় থেকে চট্টমেট্রো-থ-১১-২৯৫৭ নম্বরযুক্ত দুটি সিএনজি অটোরিকশা জব্দ করে।

এজাহারের দাবি, এর মধ্যে একটি অটোরিকশা ছিল তার। তিনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে ট্রাফিক বিভাগের যোগাযোগ করলে কুসুম দেওয়ানসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তা তার কাছ থেকে ২ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন।

কিন্তু বাদী ঘুষ না দেয়ায় তাকে গাড়ি ফেরত না দিয়ে ভূয়া মালিক সৃষ্টি করে তা আরেকজনকে হস্তান্তর করা হয়।

এছাড়া গাড়ি ফেরত চাওয়ার অপরাধে ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর পরিবর্তন করে তাকে জালিয়াতি মামলার আসামি করা হয়।

এসব ঘটনায় সংক্ষুব্ধ হয়ে এজাহার মিয়া আদালতে মামলা দায়ের করেন।

মামলায় ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) এবং দণ্ডবিধির ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ১৬১, ১৬৫ (ক) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।