প্রতিবাদী কবিতা সমাবেশে লাল-সবুজের পতাকা সমুন্নত রাখার শপথ

প্রকাশ:| সোমবার, ২৩ ডিসেম্বর , ২০১৩ সময় ০৭:৫৩ অপরাহ্ণ

kokita23স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি আর মৌলবাদীদের উত্থান রোধ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর প্রগতির পতাকা সমুন্নত রাখতে রাজপথে নেমেছেন চট্টগ্রামের কবি, ছড়াকার, আবৃত্তিশিল্পী, সাহিত্যিকরা। সব্যসাচী কবি সৈয়দ শামসুল হকের আহ্বানে সাড়া দিয়ে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে তারা জড়ো হয়েছিলেন প্রতিবাদী কবিতা সমাবেশে। কবিতা পাঠের মধ্য দিয়ে তারা মানুষকে জেগে উঠার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।

চট্টগ্রামের বিক্ষুব্ধ কবিতাকর্মী-ব্যানারে ‘আমরা চাই ৭১’র বিজয়ী বাংলাদেশ’ শ্লোগানে আয়োজিত এ সমাবেশে কবি-লেখকরা একাত্তরের মত প্রতিক্রিয়ার বিরুদ্ধে প্রগতির পতাকা, অন্ধকারের অপশক্তির বিরুদ্ধে আলোর পতাকা আর রাজাকার-আলবদর ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা সদা উড্ডীন রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সমাজবিজ্ঞানী ও প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড.অনুপম সেনের সভাপতিত্বে সূচনা বক্তব্য রাখেন প্রতিবাদী কবিতা সমাবেশের উদ্যোক্তা কবি ও সাংবাদিক রাশেদ রউফ। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন কবি কামরুল হাসান বাদল।

সমাবেশে ড.অনুপম সেন বলেন, আজ আমরা আরেকটি যুদ্ধের সম্মুখীন। আমরা জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র আর ধর্মনিরপেক্ষতার জন্য যুদ্ধ করেছিলাম। কিন্তু স্বাধীনতার ৪২ বছর পর সেই চেতনাকে পুনরুদ্ধারের জন্য আমাদের আজ আবারও রাজপথে নামতে হয়েছে। আমরা আবারও সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়েছি। আমরা শুধুমাত্র একটি নির্বাচনের জন্য স্বাধীনতার সংগ্রাম করিনি। আমরা সংগ্রাম করেছি অধিকার আদায়ের জন্য, অধিকার রক্ষার জন্য, আদর্শের জন্য।

তিনি বলেন, আমাদের দেশ আজ প্রগতি এবং প্রতিক্রিয়া এ দু’ধারায় বিভক্ত। মাঝে মাঝে প্রগতির বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া হয়ত শক্তিশালী হয়ে উঠে, প্রতিবিপ্লব হয়ত মাথাচাড়া দেয়, কিন্তু প্রতিক্রিয়া আর প্রতিবিপ্লব কখনও জয়ী হতে পারেনা। আজ যখন মৌলবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, তখন কবিরা মাঠে নেমেছেন প্রতিক্রিয়ার শক্তিকে উচ্ছেদ করতে, প্রতিবিপ্লবের শক্তিকে নির্মূল করতে।

অনুপম সেন বলেন, কবি, লেখক, সাহিত্যিকরা সবসময় জেগে থাকেন। প্রতিক্রিয়ার চাপে মানুষ যখন নিশ্চুপ হয়ে থাকে, তখনও কবিরা জেগে থাকেন। প্রতিক্রিয়ার বিরুদ্ধে তারা কবিতার মাধ্যমে মানুষকে জেগে তুলেন। আজও যখন কবিরা জেগেছেন, রাজপথে নেমে এসেছেন, তখন প্রগতির শক্তি, বিপ্লবের শক্তি, কবিতার শক্তি এক হয়ে মানুষের মধ্যে বারুদের জন্ম দেবে। সেই বারুদ প্রতিক্রিয়া আর প্রতিবিপ্লবের শক্তিকে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে।

সূচনা বক্তব্যে রাশেদ রউফ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনা, মানবিক মূল্যবোধ আজ হুমকির সম্মুখীন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধও বিপর্যস্ত। এ অবস্থায় কবি, লেখক, সাহিত্যিকরা নিশ্চুপ থাকতে পারেন না। কবিতার তিমির বিনাশী শব্দমালা দিয়ে আমরা মানুষের মধ্যে সুপ্ত বিপ্লবের চেতনাকে জাগাতে চাই। আমরা মানুষকে বলতে চাই, হিংসার বিরুদ্ধে, প্রতিক্রিয়ার বিরুদ্ধে, আসুন, আমরা ঐক্যবদ্ধ হই, জেগে উঠি, পরাস্ত করি দেশের শত্রুদের।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের সব কবিতাকর্মীকে একাত্তরের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নামতে হবে। আজ সৃজনশীলতার উন্মেষ ঘটাতে হবে দেশের অস্তিত্ব রক্ষায়, গণতন্ত্রের মূল্যবোধ রক্ষায়।

সমাবেশে কবিতা পাঠ করেন কবি অরুণ দাশগুপ্ত, আশীষ সেন, ওমর কায়সার, হোছাইন কবির, ইউছুফ মোহাম্মদ, স্বপন দত্ত, খুরশিদ আনোয়ার, মহীবুল আজিজ, আকতার হোসাইন, হাফিজ রশীদ খান, সেলিনা শেলী, রবিন ঘোষ, আনন্দমোহন রক্ষিত, নাজিমউদ্দিন শ্যামল, আলেক্স আলীম, বিশ্বজিৎ বড়ুয়া, মনিরুল মনির, গোফরান উদ্দিন টিটু, ওবায়দুল সমীর, নিশাত হাসিনা শিরিন, সঞ্জিত বণিক, শাওন পার্থ, সৈয়দা সেলিমা আক্তার, বিকিরণ বড়ুয়া, উৎপল কান্তি বড়ুয়া, মানসী বণিক।

প্রতিবাদী কবিতা আবৃত্তি করেন রণজিৎ রক্ষিত, অঞ্চল চৌধুরী, রাশেদ হাসান, মিলি চৌধুরী আয়েশা হক শিমু এবং ফারুক তাহের।

কবি অরুণ দাশগুপ্তের কবিতা পাঠের মধ্য দিয়ে শেষ হয় প্রতিবাদী কবিতা সমাবেশ। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ রীতা দত্ত, আলোকচিত্রী শাহাবউদ্দিন নিপুসহ তরুণ প্রজন্মের কবি-লেখক এবং সংস্কৃতিকর্মীরা।


আরোও সংবাদ