প্রতিদিন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ৪ হাজার লিটার বিনামূল্যে দুধ পান করাবে মিল্কভিটা

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৩ অক্টোবর , ২০১৩ সময় ০৮:১৬ অপরাহ্ণ

Milk-Vita-bg20131003063804জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার(ফাও) আর্থিক সহায়তায় প্রতিদিন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ৪ হাজার লিটার বিনামূল্যে দুধ পান করাবে বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ‌ইউনিয়ন লিমিটেড(মিল্কভিটা)।

বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্ব স্কুল দুগ্ধ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান বক্তারা। নগরীর লাভলেন ন্যাশনাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আবুল হোসেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন মেয়র এম মনজুর আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন, জাতিসংঘ খাদ্য ও কৃষি সংস্থার(ফাও) ন্যাশনাল অপারেশন্স অফিসার বেগম নুরুন্নাহার, দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশ ও আমাদের সময়ের উপদেষ্টা সম্পাদক কবি আবুল মোমেন, মিল্কভিটার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী ও চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক সোমেন দেওয়ান।

অনুষ্ঠানে মিল্কভিটার উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে সিটি মেয়র এম মনজুর আলম বলেন, ডেইরি ফার্মের প্রসারের ক্ষেত্রে করপোরেশনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। নগরীতে ডেইরি ফার্ম গড়ে তোলার অনেক জায়গাও রয়েছে, উদ্যোক্তাও রয়েছে। কিন্তু উদ্যোগের অভাব রয়েছে। মিল্কভিটা চাইলে নগরীতে ডেইরি ফার্ম গড়ে তুলতে পারে। এক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন ও আমার সব রকমের সহযোগিতা থাকবে।

এসময় মেয়র মিল্কভিটার সহায়তায় প্রতি মাসে একবার একটি স্কুলের শিক্ষার্থীদের ২০০মিলি করে দুধ সরবরাহের ঘোষণা দেন।

কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন বলেন, আমরা জানি মাছে ভাতে বাঙালি। কিন্তু এছাড়াও আরো একটি প্রাচীন ছড়া আছে ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে’। তেমনি বাংলাদেশের আরো এক কবি আকাঙ্খা করেছিল তার জন্য যেন শাক-ভাত এবং দধির ব্যবস্থা থাকে। দুধ হচ্ছে একমাত্র সুষম খাবার। শিক্ষার্থীদের দুধ পান করালে শিক্ষার্থীরা বুদ্ধিতে মেধায় অনেক দক্ষ হবে। এই মেধাবীরাই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

স্বাগত বক্তব্যে মিল্কভিটার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মুনির চৌধুরী বলেন, গত ৪০ বছরে বাংলাদেশে সমবায় আন্দোলনকে বেগবান রেখেছে মিল্কভিটা। দেশের জীবনযাপনের অপরিহার্য অংশ হচ্ছে গবাদি পশু। কিন্তু আমাদের সন্তানরা চিপস, ফাস্ট ফুড, আচারসহ বিভিন্ন মুখরোচক খাবারের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছে। এতে করে জাতি মেধাহীন হয়ে পড়ছে।

তিনি অভিভাবকদের আহবান জানিয়ে বলেন, গরুর দুধে পুষ্টি, ভিটামিন, প্রোটিন, ফ্যাট সবকিছুই আছে। কাজেই অন্যান্য খাদ্যাভ্যাস গড়ে না তুলে প্রতিদিন একটি শিশুকে আড়াইশ গ্রাম দুধ খাওয়ানো গেলে আগামীদিনে সুস্থ সবল মেধাবী জাতি গঠন সম্ভব।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে পশ্চিম পটিয়ায় মিল্কভিটার উদ্যোগে ডেইরী শিল্প মালিকদের মাঝে ডেইরী শিল্পকে আরো সম্প্রসারিত করতে ৫০ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। তিনি পশ্চিম পটিয়া ও বোয়ালখালীসহ চট্টগ্রামের অন্যান্য এলাকায় ইট ভাটার পরিবর্তে ডেইরী ফার্ম গড়ে তুলতে উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে বলেন। মিল্কভিটার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আগামীতে দুধকে পাস্তুরিত করতে চট্টগ্রামে ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি কারখানা গড়ে তোলা হবে বলে জানান।

ফাও’র প্রতিনিধি নুরুন্নাহার বেগম বলেন, বাংলাদেশের শিশুদের পুষ্টি রক্ষা ও মেধা বিকাশে দুধ অপরিহার্য খাদ্য এবং তা দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের হাতে পৌঁছে দেয়ার জন্য মিল্কভিটার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে ফাও। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনযোগের জন্য দুধের ভূমিকা অপরিসীম। সুতরাং অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। শিক্ষার্থীদের মেধার বিকাশে প্রতিদিন দুধ খাওয়ানোর আহবান জানান তিনি।

ফাও‘র আর্থিক সহায়তায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ৪ হাজার লিটার বিনামূল্যে দুধ পান কর‍ানোর জন্যে সম্প্রতি মিল্কভিটা’র সঙ্গে চুক্তি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

পরে সিটি মেয়র দুগ্ধ দৌড় প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এছাড়া জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার(ফাও) সৌজন্যে মিল্কভিটা উৎপাদিত ২০০ মিলি ম্যাংগো ফ্লেভার্ড মিল্ক শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা হয়।