প্রতিদিনের সংবাদের উপ-সম্পাদক হলেন কাজী আবুল মনসুর

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ১১ এপ্রিল , ২০১৭ সময় ১০:১৯ অপরাহ্ণ


দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ এর উপ-সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন চট্টগ্রামের স্বনামধন্য সাংবাদিক কাজী আবুল মনসুর; গত এক বছর ধরে তিনি পত্রিকাটির চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান ও বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

১৯৯৫ সালে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক পত্রিকা ‘দৈনিক বাংলাদেশের স্বাধীনতা’ দিয়ে তার সাংবাদিকতা শুরু করেন বর্তমানে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জ্যেষ্ঠ সহ সভাপতি কাজী আবুল মনসুর। পুরোদস্তুর সাংবাদিক হিসেবে লেখালেখি শুরু করেন ১৯৯৯ সাল থেকে। স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে যোগ দেন দৈনিক জনকণ্ঠে। সমকাল ও কালের কন্ঠের বিশেষ প্রতিনিধি ও চট্টগ্রামে ব্যুরো চিফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশের বিশেষ প্রতিনিধি ও চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান হিসেবেও কর্মরত ছিলেন। এছাড়া গণমাধ্যমভিত্তিক বাংলায় প্রথম অনলাইন নিউজপোর্টাল প্রেস বার্তা ডট কম এর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি।

: এক নজরে কাজী আবুল মনসুর :
১৯৬৭ সালের ১৭ এপ্রিল হাটহাজারীর চিকনদন্ডী গ্রামের কাজী পাড়ায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৮৩ সালে প্রথম বিভাগে এসএসসি, ১৯৮৫ সালে প্রথম বিভাগে এইচএসসি এবং ১৯৮৯ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে মাস্টার্স করেন। কলেজ জীবন থেকে জড়িত ছিলেন ছাত্র রাজনীতিতে। অধুনালুপ্ত জাতীয় ছাত্রলীগের হাটহাজারী থানার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ৬ বছর। গত চাকসু নির্বাচনে আলাওল হলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জাতীয় ছাত্রলীগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। লেখালেখির জগতে আসার পর থেকে তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান। তিনি আন্তজাতিক রোটারী সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন বেশ কয়েক বছর। একদল তরুণ নিয়ে ১৯৯২ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘রোটার‌্যাক্ট ক্লাব অব চিটাগাং ইউনিভার্সিটি’।
গৃহিনী স্ত্রী স্বপ্না বশর, ছেলে কাজী রুবাব বশর ও মেয়ে কাজী সিলিয়া বশরকে নিয়ে তার সংসার। ভ্রমণ করেছেন জাপান, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভারতসহ বিভিন্ন দেশ।

বন্দর-কাস্টম, অপরাধ, জ্বালানিসহ বিভিন্ন সেক্টরের দুর্নীতি নিয়ে কাজী আবুল মনসুরের প্রকাশিত বিভিন্ন রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও মামলা দায়ের করে। সাংবাদিকতা জীবনে এ পর্যন্ত দেড় হাজারেরও বেশি বিশেষ রিপোর্ট, ফিচার প্রকাশিত হয়েছে বরেণ্য এই সাংবাদিকের।

সাংবাদিকতা শুরুর পূর্বে ১৯৮৯ সালে জাপান সরকারের আমন্ত্রনে সাউথ-ওয়েস্ট এশিয়ান ইনভাইটেশন প্রোগ্রামে বাংলাদেশের ৮ সদস্যের প্রতিনিধি দলের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। সেখানে জাপানের এনএইচকে বেতারে বাংলাদেশের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে সাক্ষাতকার দেন। মূলত সে সময় থেকে মিডিয়ার প্রতি আগ্রহ। সেখান থেকে ফেরার পর চট্টগ্রামের দৈনিক পূর্বকোণে প্রথম ভ্রমন কাহিনী লেখার মধ্যে দিয়ে লেখালেখির হাতেখড়ি।

১৯৯৯ সালে স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে জনকণ্ঠে সিরিয়াসলি লেখা শুরু করেন তিনি। সেখানে বেশ কয়েকটি আলোচিত রিপোর্টের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল রাজাকারদের নিয়ে করা প্রতিবেদন। চট্টগ্রামের সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং মাগুরার রেজাউল করিম রিজু এই দুই রাজাকারের বিরুদ্ধে করা প্রতিবেদন বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করে। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় রিজু রাজাকার তখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক। প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে রিজু রাজাকারের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। কমিটি ৭১ এ তার নৃশংসতার প্রমান পেলে সিন্ডিকেট সভা করে রেজাউল করিমকে বের করে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

সেই রাজাকার নামে ‘এবার ফকা সাকা চৌ কাহিনী’ শীর্ষক রিপোর্ট প্রকাশিত হলে দেশ জুড়ে তখন আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এছাড়া ‘৭১ এর নির্মমতা’, ‘শিপিং সেক্টরের চোরাচালানী’সহ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ওপর একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

এক মহিলা বিনা বিচারে ৭ বছর জেলে বন্দী ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে রিপোর্ট করেন কাজী আবুল মনসুর। রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পর মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার হস্তক্ষেপে মহিলাটি মুক্তি পায়। কর্ণফুলি ও বঙ্গোপসাগরের দূষণ নিয়ে জনকন্ঠে প্রকাশিত তাঁর পূর্ণ পৃষ্টা প্রতিবেদন নিয়ে হয়েছে অনেক আলোচনা। চট্টগ্রামের উন্নয়ন, ভারতের সেভেন সিস্টার রাজ্যের অর্থনীতি নিয়ে কাজী আবুল মনসুরের ধারাবাহিক তথ্য বহুল প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে।
সমকালে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে সাংবাদিক কাজী আবুল মনসুরের প্রায় ২১টি লীড নিউজ হয়েছে বন্দর, কাস্টমস, জ্বালানি, শিপিং, অপরাধসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ সেক্টেরগুলোর ওপর। ২০০৫ সালে সমকাল বাজারে আসার পর ৩য় দিনের মাথায় নিউজ লীড হয় ‘চট্টগ্রামের বন্দরে দুর্নীতির হাট’ শিরোনামে। রির্পোটের মাধ্যমে প্রথম ফাঁস হয়ে যায় বিএনপির তৎকালীন নৌপরিবহন মন্ত্রী কর্ণেল আকবরের দুর্নীতি।

এছাড়া ‘নিউ মুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল’, গ্যান্ট্রি ক্রেন ক্রয়’সহ বিভিন্ন প্রকল্পে নৌ-পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে খবরগুলো বেশ সাড়া ফেলে। ‘গোপনে বিক্রি হচ্ছে বহুজাতিক কম্পানি ফিনলে’ শিরোনামে রিপোর্ট ও এ সংক্রান্ত ধারাবাহিক ৩টা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ রিপোর্টের পর দুদক জড়িতদের কাছ থেকে শতকোটি টাকার ট্যাক্স আদায় করে। ‘কোকো ও সায়মনকে ১৭ কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে ফাঁসল চায়না হারবার’ শিরোনামে কাজী আবুল মনসুরের লীড নিউজ প্রকাশিত হলে সে রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে দুদক তদন্ত শুরু করে।

‘চট্টগ্রামে ১১ জন কাস্টমস কর্মকর্তার ১৩টি রাজপ্রাসাদ’ শিরোনামের প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে দুদক তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। তার আরেকটি আলোড়ন সৃষ্টিকারী নিউজ হলো ‘সাংসদদের গাড়ি বিলাস’। শুল্ক মুক্ত কোটি অর্ধ-কোটি টাকার গাড়ি বিদেশ থেকে এমপিরা নিয়ে আসে তা এমপিদের নামসহ প্রকাশিত হয়। অনেক এমপি নিয়ম নীতি লঙ্গন করে এগুলো হাত বদল করে। এ খবরে সাধারন মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ‘ভূয়া কাগজে জাপান থেকে ১২০০ গাড়ি আমদানি’ শিরোনামে রিপোর্ট প্রকাশিত হলে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

চট্টগ্রামে বহুল আলোচিত ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার রহস্য উন্মোচনে তার লেখার জুড়ি ছিল না। এ অস্ত্র আমদানির পেছনে পাকিস্তাানী গোয়েন্দা সংস্থার (আইএসআই) জড়িত থাকার সার্বিক তথ্যসহ ২০০৮ সালে দশ ট্রাক অস্ত্র নিয়ে সমকালে প্রথম লিড নিউজ ‘দশ ট্রাক অস্ত্রের পেছনে ছিল আইএসআই’। এরপর ২০০৯ সালে ‘দশ ট্রাক অস্ত্র ছিল উলফার’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে দেশের মানুষ প্রথম জানতে পারে অস্ত্র আনা হয়েছিল উলফার জন্য। তদন্ত কর্মকর্তারা প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই তাদের তদন্ত কাজ এগিয়ে নেন।

চট্টগ্রামের শীর্ষ চোরাকারবারী হাফিজ ধরা পড়ার পর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জয়েন্ট ইন্ট্রোগেশন সেলে (জেআইসি) জবানবন্দী দেয়। পুলিশ সে তথ্য গোপন রাখে। চট্টগ্রামের আর্ন্তজাতিক চোরকারবারী শফি, এয়াহিয়ার উপর লিড নিউজও ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। একই সাথে হাটহাজারি মাদ্রাসায় জঙ্গী আস্তানাসহ বিভিন্ন জঙ্গী সংগঠনের বাংলাদেশে দৌরাত্ম নিয়ে নিউজ করার পর ওপর পরোক্ষভাবে তার উপর বিভিন্ন চাপ আসে।

চট্টগ্রামের স্বনামধন্য সাংবাদিক কাজী আবুল মনসুরের লেখালেখির হাতেখড়ি ১৯৮৯ সালে। ১৯৯৯ সালে দৈনিক জনকন্ঠে স্টাফ রির্পোটার হিসেবে রিপোর্টিং ক্যারিয়ার শুরু করেন। এরপর ২০০৫ সালে সিনিয়র রিপোর্টার হিসেবে দৈনিক সমকাল পত্রিকায় যোগ দেন। ২০০৭ থেকে সমকালে বিশেষ প্রতিনিধি, ২০০৯ থেকে ২০১০ পর্যন্ত কালের কণ্ঠে বিশেষ প্রতিনিধি ও ব্যুরো চিফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তিতে ২০১০ সালে আবারও সমকালে বিশেষ প্রতিনিধি ও ব্যুরো প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে ২০১৩ সালের এপ্রিলে দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশের ব্যুরো প্রধান হিসেবে যোগ দেন। ২০১৬ সালের মে মাসের শেষের দিকে যোগ দেন দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদে; চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান ও বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে। এর আগে ২০১৩ সালে মে শেষে তিনি গণমাধ্যমভিত্তিক বাংলায় প্রথম অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রেস বার্তা ডট কম এর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব তুলে নেন।


আরোও সংবাদ