প্রতারক জাহাঙ্গীর মুছলেকা দিয়ে জামিন পেয়েছেন

প্রকাশ:| রবিবার, ২ আগস্ট , ২০১৫ সময় ১১:৩৮ অপরাহ্ণ

শনিবার রাতে টাকা হাতিয়ে নেয়ার দায়ে গ্রেপ্তার প্রতারক জাহাঙ্গীর আলম দস্তগীর মুছলেকা দিয়ে জামিন পেয়েছেন। জজ কোর্টের আইনজীবি না হলেও কখনো কখনো হাই কোর্টের বিচারপতি আবার কখনো হাইকোর্টের সিনিয়র আইনজীবি এমন প্রতারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ থেকে সরকারি চাকুরিজীবিদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার দায়ে গ্রেপ্তার প্রতারক জাহাঙ্গীর আলম দস্তগীর মুছলেকা দিয়ে পার পেয়েছেন।
প্রতারক
শনিবার রাতে নগরীর চকবাজার থানার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করার পর রোববার পরিবারের জিম্মায় মুছলেকা দিয়ে পার পান। তবে আদালতের কাছে জীবনে কখনো আইনজীবি পরিচয় না দেয়া, বিচারপতি পরিচয়ে মানুষের কাছ থেকে নেয়া পাওয়া ফেরত দেয়াসহ নানা অঙ্গীকার করেন।

এসময় বাদী পক্ষের বিনা আপত্তিতে পরিবারের জিম্মায় মহানগর হাকিম ঝলক রায় প্রতারক জাহাঙ্গীর আলম দস্তগীরকে জামিন দেন।

বাদী পক্ষের আইনজীবি অ্যাডভোকেট মঈন উদ্দিন বিষয়টি জানিয়েছেন।

এরআগে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানামূলে শনিবার রাতে চকবাজার থানা পুলিশ প্রতারক জাহাঙ্গীর আলম দস্তগীরকে গ্রেপ্তার করে।

অ্যাডভোকেট মঈন উদ্দিন বলেন, ‘সোনালী ব্যাংকের ডিজিএম সেলিম উদ্দিনের কাছে হাইকোর্টের আইনজীবি পরিচয় দিয়ে জাহাঙ্গীর আলম একটি মামলা পরিচালনার জন্য মোটা অংকের টাকা নেন। পরবর্তীতে তিনি মামলা পরিচালনায় ব্যর্থ হলে বাদী কৈপিয়ত চাইলে উল্টো বাদীকে হুমকি-ধমকি দেয়ার পাশাপাশি তার নামে সোনালী ব্যাংকের হেড অফিসে নানা অভিযোগ দাখিল করেন। এঘটনায় জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে গত বছর আদালতে প্রতারণার মামলা করনে ডিজিএম সেলিম। একই সাথে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবি সমিতিতেও একটি অভিযোগ দেন তিনি। পরে আদালত আসামীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে দীর্ঘদিন পর তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।’

তিনি আরো বলেন, ‘জামিনে মুক্তির সময় নিজের সব দোষ স্বীকার করে সেলিম উদ্দিন থেকে নেয়া টাকার কিছু অংশ ফেরত দেন এবং তার বিরুদ্ধে সোনালী ব্যাংকে দায়ের করা সব অভিযোগ প্রত্যাহার করার লিখিত অঙ্গীকার করেন জাহাঙ্গীর।’

সূত্রে জানা যায়, আদালত পাড়ার প্রতারক হিসেবে জাহাঙ্গীর আলম প্রধানমন্ত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে সংবাদপত্রে বিচারপতি নিয়োগ হওয়ার বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারণ মানুষকে সর্বস্বান্ত করছেন। তিনি কখনো বিচারপতি, কখনো রাষ্ট্রদূত, কবি, টেকনোক্রেট মন্ত্রী পরিচয়। নিজের প্যাডেও স্বত:প্রনোদিত বিচারপতি নিয়োগপ্রার্থী হিসেবে পরিচয়।

তিনি ইতিপূর্বে প্রতারণার অভিযোগে জেলও কেটেছেন।